আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ নবম সংখ্যা ● ১-১৫ মে, ২০২৬ ● ১৬-৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩
প্রবন্ধ
'বিশেষ নিবিড় সংশোধনী'তে গিলোটিনের মুখে মানুষ
নিখিলরঞ্জন গুহ
ভোটার তালিকা প্রস্তুতের প্রশ্নে ২০২৬ এর 'বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা'-য় ইতিমধ্যে প্রায় একানব্বই লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রার্থীর সংখ্যা প্রায় সাতাশ লক্ষ।
প্রথম দফায় অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল, মৃত এবং ডুপ্লিকেট ভোটার প্রভৃতি বাদ পড়লেও গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বিবেচনাধীন তালিকার ৬০.০৬ লক্ষ নাম। যার মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে বিচারকদের বিবেচনান্তে ২৭ লক্ষ এখনও বাতিলের তালিকা ভুক্ত। তাদের ট্রাইবুনালে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও কতজন ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটদানের সুযোগ পাবেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কতটা আইনসিদ্ধ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ বৈধ ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে সুযোগ দান করা নির্বাচন কমিশনারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেখানে যারা বাদ যাবেন তাদের সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে অবস্থান কী হবে তা নিয়ে ভাবনার কারণ আছে।
যদি নির্বাচন কমিশন পরিচালিত এই সমীক্ষাকে আসামের ২০১৯ এনআরসির প্রেক্ষিতে বিবেচনা করা হয় তবে দেখা যাবে অনেক ক্ষেত্রে তার সাথে এই সমীক্ষার সাদৃশ্য বর্তমান। আসামে ১৯৫১ সালের প্রথম এনআরসি অথবা ২৪ মার্চ ১৯৭১-সালের মধ্যরাত পর্যন্ত যাদের নাম ভোটার তালিকায় বা অন্য কোনো দালিলিক প্রমাণে ছিল, তাদেরই বৈধ নাগরিক হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে নথিভুক্তকরণের জন্য যে প্রামাণ্য নথি চাওয়া হয়েছিল সেগুলি ছিল জমি বা জমির রেকর্ড, নাগরিকত্বের সনদ, স্থায়ী আবাসিক সনদ, শরণার্থী নিবন্ন সনদ, পাসপোর্ট, এলআইসি (LIC), ব্যাংক/পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্ট, জন্ম সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ প্রভৃতি। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা থেকে প্রায় ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ে, যার মধ্যে অনেকেরই পূর্বপুরুষের নাম ১৯৫১ সালের এনআরসি বা ১৯৭১-এর আগের তালিকায় ছিল। কিন্তু নথিপত্রে অসঙ্গতি বা লিগ্যাসি ডাটা প্রমাণ করতে না পারায় তারা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাননি।
পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ 'বিশেষ নিবিড় সমীক্ষাতে' ২০০২ সালের তালিকাকে ভিত্তি ধরা হলেও তালিকাভুক্তিকরণের জন্য যে প্রামাণ্য নথির দাবি করা হয়েছে তা মোটামুটি আসামের এনআরসি-তে দাবি করা প্রামাণ্য নথির সমমানের। তাই বলা যায় ২০২৬-এ পরিচালিত এই 'বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা' আসামের এনআরসির ছায়া। ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্ট (Foreigners Act, 1946) ভারত সরকারকে কোনো ব্যক্তিকে বিদেশী হিসেবে চিহ্নিত করার এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা দেয়। বিশেষ করে অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই আইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দিকে দিকে যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে তার কারণ এই সম্ভাবনার মধ্যে নিহিত। এই আইন ঔপনিবেশিক ভারতে তৈরি হলেও স্বাধীনোত্তর ভারতে বিভিন্ন সময় সরকার সংশোধনের মাধ্যমে তা নিজেদের মতো ক'রে তৈরি ক'রে নিয়েছে। আসামের জনবিন্যাস এবং সংস্কৃতি রক্ষার প্রশ্নে 'অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন' এবং 'অল আসাম গণসংগ্রাম পরিষদ' দ্বারা সংগঠিত দীর্ঘ লড়াই ১৯৮৫ সালে আসাম সরকার এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে সংগঠিত চুক্তিতে সমাপ্ত হয়েছিল। তাতে পূর্ব পাকিস্তান অধুনা বাংলাদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তু হিন্দুদেরও ফল ভুগতে হয়েছিল, অনেকের স্থান হয়েছিল অভিশপ্ত ডিটেনশন ক্যাম্পে।
শুধু জনবিন্যাসের পরিবর্তনের প্রশ্নে নয় - চাকরি, ভূ্সম্পদ এবং পরিষেবার ভাগিদার হিসেবে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং ধারাবাহিকভাবে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের উত্তেজিত করা হয়েছে। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তান অধুনা বাংলাদেশ সহ কয়েকটি মুসলিম দেশ থেকে আগত হিন্দুদের নিরাপত্তাদানের প্রশ্নে পরবর্তীকালে সংসদে অনুমোদিত সি. এ. এ. ২০১৯ (Citizenship Amendment Act 2019)-এর উল্লেখ করা দরকার। বিতর্কিত এই আইনে ভারতে আগত পাঁচটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দানের কথা বলা হলেও মুসলমানদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ রাখা হয়নি যা মূলত ভারতীয় জনতা পার্টির রাষ্ট্রদর্শনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন হিসেবেই বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে।
প্রতিশ্রুত দলীয় কর্মসূচী রূপায়নের লক্ষ্যে সারাদেশে এন.আর.সি. লাগু করার চেষ্টা হলেও তার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদ সংগঠিত হতে দেখা গিয়েছে। গভীরে গেলে দেখা যাবে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার ক'রে 'বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা'র নামে সরকার সেই কাজটিই করতে চেয়েছে। ধরে নেওয়া যায় এই প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত তালিকা হতে চলেছে অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিতকরণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। সি.এ.এ. হিন্দু অভিবাসীদের নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ দিলেও সেখানে নানা জটিলতা বর্তমান। ফলে আসন্ন নির্বাচনের জন্য নির্বাচক তালিকায় বাদ পড়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দানের প্রশ্নে পক্ষপাতদুষ্ট এই আইনে সুযোগ না থাকায় মুসলিম সংখ্যালঘুদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে তাকে অস্বাভাবিক বলা যাবে না। সেই সাথে বাদ পড়া হিন্দুদের মধ্যেও অসন্তোষ বর্তমান।
প্রশ্ন উঠতে পারে তবে অবৈধ অভিভাসীদের সম্পর্কে সরকারের ভূমিকা কী হবে। এই সমস্যা ভারতের একার নয়। সেক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ যদি হয় একটি পদক্ষেপ তবে দ্বিতীয় পদক্ষেপ হওয়া উচিত নকল প্রমাণ সরবরাহকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই ব্যর্থতার দায় যখন সরকারের মাথায় তখন সরকারের অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ আদৌ উদ্দেশ্য কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই সন্দেহের কারণ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনের (২০২৩) মধ্যেই নিহিত। এই সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় যখন দেখা যায় 'বিশেষ' ক্ষমতা বলে নির্বাচন কমিশন এমন সব বিধি প্রণয়ন করেছে যার সাথে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কাল থেকে প্রাক ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রক্রিয়ার অনেক ক্ষেত্রে মিল নেই।
বর্তমান ভোটার তালিকা প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় 'নিবিড় সংশোধন' কীভাবে 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' দ্বারা প্রতিস্থাপিত হল তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কমিশনের ভূমিকা থেকেই এটা স্পষ্ট এই শব্দবন্ধ নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। সংসদকে এড়িয়ে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কীভাবে এই প্রক্রিয়ার স্থান ক'রে নিল তা এক বিস্ময়। এই ক্ষমতাবলেই ব্যতিক্রমী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে সংশোধনী প্রক্রিয়া (ক) অনুমোদিত (খ) বাতিল এবং (গ) লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে বিভক্ত যা অন্য রাজ্যগুলিতে দেখা যায়নি। যে ষাট লক্ষাধিক মানুষকে বিবেচনাধীন গিলটিনের সামনে দাঁড় করানো হয়েছিল বলা যায় তা কমিশনের এই 'বিশেষ' ক্ষমতারই পরিণতি। সেখানে যেসব কারণকে একজন নাগরিকের নাম ছাটাই করার যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তা শুধু হাস্যকর নয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও বলা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কমিশন ঘোষিত তালিকার ভিত্তি বছর ২০০২ ধরা হলেও এবং তার আগে পরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও, দেখা গিয়েছে তাদের অনেকেরই নাম বাতিলের তালিকায়। বানান ভুল বা ইংরেজি ও বাংলায় লেখা উপাধির উচ্চারণগত পার্থক্যের কারণেও অনেকের নাম বাদ পড়তে দেখা গিয়েছে। মায়ের সাথে সন্তানের বয়সের পার্থক্যের কারণেও অনেকে বৈধ তালিকায় স্থান পায়নি। মা ছেলের বয়সের ফারাককে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরার মধ্যে ভারতীয় সমাজ সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচয় বহন করে। একইভাবে পিতা-মাতার সন্তানসন্ততির সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এই সমীক্ষায়। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে বাংলার রমণী পিছু ১৯৫০-১৯৫৫ ফার্টিলিটি রেটের গড় ছিল ৬.২ যা ২০২৩-২০২৫ প্রতিস্থপিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ১.৩-১.৪ (below the national replacement level of ২.১.)। এই ক্ষেত্রে বড়ো পরিবারের কোনো সদস্যের ভোটাধিকার কেড়ে নেবার অধিকার সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে কিনা সেটা ভেবে দেখার বিষয়। ২০০২ এর ভোটার তালিকায় বাবা বা মায়ের নাম থাকলেও দেখা গিয়েছে তাদের উত্তারাধিকারীদের নাম নেই। এমনও নজির আছে যেখানে কমিশনে নির্দিষ্ট প্রামাণ্য দলিল দাখিল করলেও নাম তালিকায় স্থান হয়নি। স্থায়ীভাবে বসবাস করা গরিব নিরক্ষর মানুষের অনেকের পক্ষেই প্রয়োজনীয় প্রামাণ্য দলিল দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় অনেকের নাম বাতিল হয়েছে।
অসঙ্গতির কারণে অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিতকরণের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যায় না। তবে তার জন্য প্রয়োজন বস্তুনিষ্ঠ সামাজিক সমীক্ষা যা ঘরে বসে শুধুমাত্র কাগজপত্র যাচাইকরণের মধ্য দিয়ে সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে অবৈধ প্রামাণ্য দলিল সংগ্রাহক এবং প্রদানকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
অনুপ্রবেশকারীরা সকলেই সন্ত্রাসবাদী নয়। তবে দেশের নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকারের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না। ভূরাজনীতিতে বাংলার ভুখণ্ড বিভক্ত হলেও ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক কারণে দুইটি দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক একেবারে বিছিন্ন হয়ে পড়েনি। কখনও পারিবারিক কারণে, কখনও অর্থনৈতিক কারণে এই রাজ্যে নানাভাবে অনুপ্রবেশ ঘটতে দেখা যায় এবং সেখানে কী রাজ্য কী কেন্দ্র উভয়েই সেই দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। তবে অনুপ্রবেশকারীদের প্রকৃতি যাই হোক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপকে লঘু ক'রে দেখা যায় না। এটা একটা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যার সাথে যেমন ভোটার তালিকা প্রস্তুতের সম্পর্ক থাকার কথা নয় তেমনই একটা বিশেষ সম্প্রদায়ের তুষ্টিবিধানের জন্য আর একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিষ ছড়ানোর মতো সংবিধান বিরুদ্ধ ভূমিকাও কোনো সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল নিতে পারে না। এই প্রশ্নে ভারত সরকার এবং কেন্দ্রের শাসকদল যে পথে হাঁটছে তা জাতীয় সংহতির পক্ষে বিপজ্জনক।
অনুপ্রবেশ রোধে প্রশাসনিক দায়কে আড়াল করার এই প্রবণতার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজের ভূমিকাও কম নয়। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতা ঢাকতে ভারত সরকারের ব্যবহৃত নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকার মধ্যে শাসকদলের হিন্দু রাষ্ট্রভাবনা প্রতিভাত হতে দেখা যাচ্ছে।
কেন্দ্রের শাসকদল সচেতনভাবেই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ পদ্ধতি এমনভাবে রচনা করেছে যেখানে নাগরিক সমাজের কাছে তার জবাবদিহি করবার কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। সেখানে নির্বাচন কমিশনারের জন্য পাকাপোক্তভাবে এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও অনুপস্থিত। এই সুরক্ষা কবচে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে তার অবসরের পরও আজীবন নির্বাচন বিষয়ক কোনো কাজের জন্য দেওয়ানি বা ফৌজদারী মামলার পদক্ষেপ প্রশাসন বা ব্যক্তি নিতে পারবে না। ব্যক্তিবিশেষের এহেন সীমাহীন নিরাপত্তা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। যদিও সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সমর্থনের ভিত্তিতে ইম্পিচমেন্টের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করার সুযোগ আছে তবে তা অনেকটাই শাসকদল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গণতন্ত্রের এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নির্বাচন যেখানে রক্তপাতহীন শান্তিপূর্ণ পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রধান শর্ত, যার কারিগর নির্বাচকমণ্ডলী বা প্রজাসাধারণ, সেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সংস্থা বা ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থাপন করা আদৌ যুক্তিগ্রাহ্য কিনা তা ভেবে দেখা আবশ্যক। ভারতের নির্বাচন কমিশনারের বর্তমান নিয়োগ পদ্ধতি এবং তার নিরাপত্তা সেই প্রশ্নকে উসকে দিয়েছে । ২০২৬-এর 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' প্রক্রিয়াতে তার লক্ষণ স্পষ্ট।