আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ নবম সংখ্যা ● ১-১৫ মে, ২০২৬ ● ১৬-৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

প্রবন্ধ

চতুর্থ নয়, ষষ্ঠ

গৌতম সরকার


আধুনিক যুগ হল তথ্যের যুগ। সেই তথ্য যে যতটা সাজিয়ে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবে তত বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছতে পারবে। এই প্রচার, সম্প্রচার সব কিছুরই একটা লক্ষ্য থাকে, এর সাহায্যে যিনি প্রচার করছেন তাঁর মুখ্য উদ্দেশ্য হল পাঠক বা দর্শকের মনে একটা ন্যারেটিভ গুঁজে দেওয়া এবং বিশ্বাস করানো উনি যেটা করছেন, বলছেন বা দেখাচ্ছেন সেটাই ঠিক। মানুষ সেটা পড়লে, শুনলে বা দেখলে প্রযুক্তির অ্যালগরিদম বাকি কাজটা নিপুণভাবে করে দিচ্ছে। এরপর ক্রমাগত ওই সংক্রান্ত খবরই মানুষের কাছে আসছে, খবরটা ভুল বা অর্ধসত্য হলেও বারবার দেখে বা শুনে মানুষ সত্যি বলে ভাবতে শুরু করছে। এইভাবে টপডাউন তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে রাষ্ট্র টেলিভিশন, সংবাদপত্র কিংবা সামাজিক মাধ্যমের সাহায্য নিয়ে ভুল তথ্য বা বিকৃত সত্যি পরিবেশন করে সহজেই জনগণকে বোকা বানাতে পারে। বিষয়টি যখন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসে তখন মূল উদ্দেশ্য অনেকটাই রাজনৈতিক তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না। অর্থাৎ ন্যারেটিভ কন্ট্রোল বাটনের মাধ্যমে রাষ্ট্র বা সংবাদ পরিবেশক ঠিক করে কোন গল্পটি সামনে আনা হবে আর কোন সত্যিটা আড়ালে রাখতে হবে।

গতবছর সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল ভারতীয় অর্থনীতি মোট দেশীয় উৎপাদনের নিরিখে জাপানকে ছাড়িয়ে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। নীতি আয়োগের চিফ এক্সিকিউিভ অফিসার বি. ভি. আর. সুব্রহ্মনিয়াম তাঁর বক্তব্যে বলেন, "We are the fourth largest economy as I speak. We are a $4 trillion economy as I speak, and this is not my data. This is IMF data. India today is larger than Japan". এর কিছুদিনের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠেও একই জয়গান - "Today, India has become the world's fourth largest economy. It is a matter of pride for all of us that we have surpassed Japan. Now, the pressure of becoming the third is more than the happiness of becoming the fourth. The country is not ready to wait. If someone asks to wait, a slogan comes from the behind 'Modi hai toh mumkin hai' ". সমস্যা হল, আইএমএফ-এর যে তথ্য নিয়ে নিজের ঢাক নিজে পেটানোর এই নির্লজ্জ প্রচেষ্টা, সেই আইএমএফ কোথাও বলেনি ভারত জাপানকে টপকে চতুর্থ স্থানে পৌঁছে গেছে। সত্যিটা হল, গত বছর মে মাসে আইএমএফ-এর অনুমান ছিল, ভারত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জাপানকে 'টপকে যেতে পারে'। তাদের এহেন অনুমানের কারণ সেইসময় ভারতের মোট সম্ভাব্য দেশজ উৎপাদন হিসেব করা হয়েছিল ৩.৯ ট্রিলিয়ন ডলার আর জাপানের ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। সেই অনুমানকেই বাস্তব বলে চালিয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী থেকে সরকারপোষিত নীতি আয়োগ এবং সংবাদ মাধ্যম। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে 'আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুক'-এর দেওয়া তথ্যে অদূর ভবিষ্যতে ভারতের বিশ্বের তৃতীয় অর্থনীতি হওয়ার গৌরব ফাঁস করে দিল। তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চতুর্থ নয়, এমনকি নিজের পঞ্চম অবস্থানও ধরে রাখতে পারেনি ভারত, বরঞ্চ যুক্তরাজ্য ভারতকে ছাড়িয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। ভারতের এখন স্থান হয়েছে ষষ্ঠ। আউটলুকের হিসেবে অনুযায়ী ভারত ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ শেষ করবে ৪.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, ব্রিটেনের ক্ষেত্রে সেই অঙ্কটি হবে ৪.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদ থেকে রাজনীতিবিদ এবং নীতিপ্রণেতারা হঠাৎ করে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দৌড়ে থাকা অবস্থায় ফিনিশিং লাইনের কাছে এসে পিছিয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধান করেছেন। আলোচনায় মূল যে কারণগুলি উঠে এসেছে সেগুলি হল - ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ফলে বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তা; ডলারের নিরিখে ভারতীয় টাকার অবমূল্যায়ন এবং জিডিপি নির্ধারণের ভিত্তি বছরের পরিবর্তন।

ডলার এফেক্ট: আইএমএফ জিডিপির নিরিখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে র‍্যাঙ্কিং করে। এই জিডিপি পরিমাপ করা হয় ডলারের মাপকাঠিতে। যেহেতু সম্প্রতি ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রার মানের দ্রুতপতন ঘটে চলেছে, তাই দেশীয় মুদ্রায় দেশজ উৎপাদন বাড়লেও ডলারের প্রেক্ষিতে সেই বৃদ্ধি প্রতিফলিত হচ্ছে না। ২০২৪ সালে ডলার প্রতি টাকার দর ছিল ৮৪.৬ টাকা, সেটা ২০২৫-এ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮৮.৫ টাকায়, ফলে এই সময়ে ভারতীয় মুদ্রায় জিডিপি ৩১৮ ট্রিলিয়ন থেকে বেড়ে ৩৪৬. ৫ ট্রিলিয়ন হলেও, ডলারের নিরিখে এই বৃদ্ধি অনেক কম দেখিয়েছে। এরপর ইরান যুদ্ধের ফলে খনিজ তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় মুদ্রার আরও পতন ঘটে। একটা সময় নামতে নামতে ৯৪-৯৫ টাকায় পৌঁছে যায়, পড়ে সেটা ৯৩.৩৯ টাকায় স্থিত হয়। অন্যদিকে এমতো পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম অপেক্ষাকৃত স্থির থাকে, ফলে সহজেই ডলারের অংকে ভারতীয় জিডিপিকে টপকে পঞ্চম স্থানে পৌঁছে যায় ব্রিটেন।

ভিত্তি বছরের পরিবর্তন: র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের অবনমনের আরেকটি কারণ হল গতবছরে সরকার জিডিপি নির্ধারণের ভিত্তিবছর ২০১১-১২ থেকে পরিবর্তন করে ২০২২-২৩ করেছে। এর ফলে ২০২৬ অর্থবর্ষের নমিনাল জিডিপি পুরোনো পরিমাপের ৩৫৭ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে কমে নতুন মাপকাঠিতে ৩৪৫.৫ ট্রিলিয়ন টাকা হয়েছে। এই পরিবর্তন ভারতের র‍্যাঙ্কিংয়ের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। নতুন পরিমাপ অনুযায়ী ২০২৭ সালের ভারতের আনুমানিক সংশোধিত জিডিপির পরিমাণ ৪.৯৬ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে হ্রাস পেয়ে ৪.৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এককথায় ভিত্তি বছর পরিবর্তন করার সুবাদে বিভিন্ন বছরের আনুমানিক জিডিপির পরিমাণ ২.৮ শতাংশ থেকে ৩.৮ শতাংশ কমেছে।

ইরান-মার্কিন যুদ্ধ: যেকোনো যুদ্ধই বিশ্বের অর্থনীতিতে একটা ঋণাত্মক প্রভাব বয়ে আনে। ইরান-মার্কিনী যুদ্ধ তার ব্যতিক্রম নয়। যুদ্ধের ফলে তেলের দাম ও আমেরিকান ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক সন্ত্রাস ভারতীয় মুদ্রার মূল্যহ্রাসের জন্য দায়ী। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব বাণিজ্যের সাথে সাথে ভারতীয় বহির্বাণিজ্যেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এইসব সম্মিলিত প্রভাবের মধ্যেই র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের পিছিয়ে যাওয়ার গল্প লুকোনো আছে।

বেশ কিছু বছর ধরে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের জাতীয় আখ্যান মূলত দুটি বিষয়কে নিয়ে আলোড়িত হচ্ছে - এক ভারত এখন সারা বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি; এবং দুই, ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বৃদ্ধির দেশ। ভারতীয় জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির বার্ষিক হার কখনও কখনও ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সেই বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে ব্রিটেনকে টপকে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির শিরোপা পেয়েছে এবং প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছিল ২০২৫ সালে জাপানকে টপকে ভারত চতুর্থ বৃহত্তম হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। এই আখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় অর্থনীতির এই গতিময়তা আগামীদিনে অতি সহজেই জার্মানিকে টপকে তৃতীয় বৃহত্তম হওয়ার পথ সুগম করে তুলবে। কোনও কোনও বিশ্লেষকের মতে সেই মহতী ঘটনাটি ঘটবে ২০৩০ সালে, কিছু অতি উৎসাহীর প্রত্যাশা ঘটনাটি ২০২৭ সালেই ঘটে যাবে এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে ভারত ৫ ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপির গণ্ডিও ছাড়িয়ে যাবে।

সম্প্রতি ভারতের 'মিনিস্ট্রি অফ স্ট্যাটিসটিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেড (MOSPI)' জাতীয় উৎপাদন পরিমাপ পদ্ধতির সংশোধন ঘটিয়েছে। সেই মাপন অনুযায়ী ভারতের মোট জিডিপি পুরোনো পরিমাপ পদ্ধতির তুলনায় ৩-৩.৫ শতাংশ কম হবে, ফলত ভারতীয় দেশজ উৎপাদনের মূল্য প্রত্যাশিত ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩.৯ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। এই সংশোধিত পরিমাপ দেখাচ্ছে এতদিন জিডিপি ও প্রবৃদ্ধির যে আখ্যান শুনিয়ে বর্তমান সরকার স্ব-কীর্তির গৌরবগাথা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছিল সেটা সর্বতোভাবে সত্যি ছিল না। এই নতুন পরিমাপ পদ্ধতি অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য এবং সঠিকভাবে অর্থনীতির উন্নয়ন পরিমাপ করতে সমর্থ। এর ফলে শুধুমাত্র মোট উৎপাদনই নয়, সংশোধিত পরিমাপ পদ্ধতিতে ভারতের মাথাপিছু আয় ঘোষিত মূল্যের তুলনায় কম দেখাচ্ছে। নতুন পদ্ধতিতে ভারতের মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন হলো ২৬০০ ডলারের কিছু বেশি যেটি পুরোনো হিসেবের তুলনায় ২০০ ডলারের মতো কম। এর ফলে মাথাপিছু উৎপাদনের অঙ্কেও ভারত বিশ্ব মানচিত্রে পিছিয়ে গেছে, এবং ভারত নিম্ন মধ্যবিত্ত দেশের বর্গে আটকে গেছে।

তবে মসপাই-এর হিসেবে ভারতের জন্য সবটাই খারাপ খবর, এমনটা নয়। এই পদ্ধতিতে ভিত্তি বছরের পরিবর্তন জাতীয় আয়ের হিসেবকে অনেক বেশি আধুনিক, বাস্তবসম্মত এবং উন্নয়ন পরিমাপের দক্ষ মাপকাঠি করে তুলবে। নতুন পদ্ধতি ক্রেতার দাম সূচক (Consumer Price Index) নির্ণয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী পরিবর্তন এনেছে। নতুন সূচকে ৩৫৮টি আইটেম স্থান পেয়েছে, যেখানে পুরোনো সূচকে ছিল ২৯৯টি আইটেম। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই সংশোধনে মোট উৎপাদনের নিরিখে দেশের আপেক্ষিক অবস্থানের অল্পবিস্তর অবনমন ঘটলেও, ভারতীয় অর্থনীতির বার্ষিক বৃদ্ধির হার যতটা ভাবা হয়েছিল বাস্তবে তার থেকেও দ্রুত গতিতে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক সংশোধিত বৃদ্ধির হার ৬.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.১ শতাংশ হয়েছে। সরকারের দাবি, সংশোধিত তথ্য জানান দিচ্ছে আমাদের অর্থনীতি দ্রুততর হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই বৃদ্ধি পূর্ব অনুমানের তুলনায় অনেক বেশি বলিষ্ঠ বা গতিশীল।

যদিও অর্থনীতিবিদরা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁদের মতে সংশোধিত হিসেবের মাপকাঠিতে ভারতের প্যান্ডেমিক পরবর্তী বৃদ্ধির হার ঘোষিত শতাংশের (৫.৭) তুলনায় অনেকটাই কম (৪.৮ শতাংশ) হবে। এর কারণ সংশোধিত হিসেবে কোভিড-১৯ বর্ষগুলিকে ধরা হয়েছে, যেগুলি নীতি আয়োগের হিসাবে ধরা হয়নি, সেখানে ২০২২-২৩ সাল থেকে বৃদ্ধির হিসেব গণনা করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ অরবিন্দ সুব্রহ্মনিয়ান ২০১৯ সালে 'হার্ভার্ড সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট' থেকে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলেছেন, পুরোনো পদ্ধতিতে জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে বেশি বেশি করে দেখানো হয়েছে। সরকারি তরফে যে প্রবৃদ্ধি বাৎসরিক ৭ শতাংশ অনুমান করা হয়েছে, প্রকৃত বৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশের বেশি হবে না।

MOSPI-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত পরিবর্তন হল এই ব্যবস্থায় 'গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড' বা 'স্থূল মূল্য সংযোজন' গণনায় 'ডাবল ডিফ্লেটর' পদ্ধতির ব্যবহার। পুরোনো পরিমাপ পদ্ধতিতে উপাদান মূল্য এবং উৎপাদিত দ্রব্যের দামের ক্ষেত্রে একক মুদ্রাস্ফীতি হিসেব করা হতো, কিন্তু নতুন সংশোধিত পদ্ধতিতে বিশেষ করে শিল্প এবং কৃষিক্ষেত্রে উপাদান ও উৎপাদনের বাজারে আলাদা আলাদা মুদ্রাস্ফীতির হিসেব করা হয়। এর ফলে এই পদ্ধতিতে প্রকৃত দেশজ মূল্য সংযোজনের পরিমাপ অনেক বেশি সঠিক ও বাস্তবসম্মত হয়। দ্বৈত মুদ্রাস্ফীতির প্রয়োগ জানাচ্ছে ভারতের শিল্পক্ষেত্র অনেক বেশি সহনশীল এবং স্থিতিস্থাপক, যার প্রতিফলন পুরোনো পরিমাপ পদ্ধতিতে সঠিকভাবে পড়েনি। শিল্পক্ষেত্রে উপাদান বাজারের মূল্যবৃদ্ধি যেটি সিঙ্গেল ডিফ্লেটর পদ্ধতিতে ধরা পড়ত না, সেটা এখন নতুন পদ্ধতিতে জিভিএ পরিমাপের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এই অন্তর্ভুক্তির ফলে শিল্পক্ষেত্রে বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০.২ শতাংশ হয়েছে।

তবে আশার কথা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জিডিপি র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ার ঘটনাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁদের মতে, র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে গেলেও ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অন্যতম প্রধান অর্থনীতি। আইএমএফ-এর তরফে পূর্বাভাস করা হয়েছে, ২০২৭ সালে ভারত ৪.৫৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছে ব্রিটেন ও জাপানকে টপকে আবার চতুর্থ স্থানে ফিরে আসবে। এছাড়া ধারণা করা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি ৬.১৭ ট্রিলিয়ন ডলার অঙ্কে পৌঁছে জার্মানির সঙ্গে ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে আনবে। সংশোধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৩১ সালে ভারতের জিডিপি ৬.৭৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী।

এইসব বিশেষজ্ঞদের মতে জাতীয় ও মাথাপিছু উৎপাদনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি, শক্তিশালী আভ্যন্তরীণ বাজার এবং ক্রমবর্ধমান (দেশীয় ও বৈদেশিক) বিনিয়োগ আগামী দশকে ভারতকে বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষ তিনে জায়গা করে দেবে। সত্যিই কি তাই? এটাও আবার নতুন কোনো ন্যারেটিভ মানুষ তথা ভোটারদের মস্তিষ্কের মধ্যে গুঁজে দেওয়ার প্রচেষ্টা নয়তো? উত্তরের জন্য সময়ের উপর ভরসা করা ছাড়া গতি নেই।