আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ সপ্তম সংখ্যা ● ১-১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ● ১৬-৩০ চৈত্র, ১৪৩২
প্রবন্ধ
রাজনীতির আমিষ-নিরামিষ
উৎপল সরকার
হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অন্যতম কৌশল হলো - শাস্ত্রের নাম করে নিজের মতাদর্শকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু শাস্ত্র পাঠের ইতিহাস যাঁরা জানেন, তাঁরা ভালো করেই বোঝেন যে বেদ, উপনিষদ কিংবা পুরাণ - কোনোটিই খাদ্যাভ্যাসকে একমাত্রিক বা বাধ্যতামূলক করে দেখেনি। বরং শাস্ত্রসমূহ মানুষের জীবনযাপনকে সময়, দেশ, শরীর ও মন অনুযায়ী বিবেচনার কথাই বলেছে।
ঋগ্বেদে আমরা যজ্ঞকেন্দ্রিক সমাজের ছবি পাই। সেখানে ঘি, দুধ, সোমরসের পাশাপাশি পশুবলির উল্লেখও রয়েছে। বহু ঋগ্বৈদিক যজ্ঞে পশুবলি একটি স্বীকৃত আচার ছিল। অর্থাৎ প্রাচীনতম বেদেই আমিষ আহারকে 'অধর্ম' বলে বাতিল করা হয়নি। বরং সমাজের বাস্তব প্রয়োজন ও তৎকালীন জীবনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। ঋগ্বেদে (১.১৬২ সূক্ত) যজ্ঞে পশুবলির বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।
যজুর্বেদ ও অথর্ববেদেও খাদ্যকে শরীর ও কর্মশক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে - খাদ্য মানুষের প্রাণশক্তির উৎস। কোন খাদ্য গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ধারিত হয়েছে ঋতু, কর্ম ও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী। কোথাও সর্বজনীন নিরামিষ বিধানের কথা বলা হয়নি। শাস্ত্রের মূল বক্তব্য ছিল - অতিরিক্ত লোভ, হিংসা ও ভোগ পরিহার; খাদ্যের ধরন নয়, খাদ্যের প্রতি আসক্তিই সমস্যা।
উপনিষদে এসে দর্শন আরও সূক্ষ্ম হয়। এখানে খাদ্যকে কেবল জৈবিক নয়, দার্শনিক স্তরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তৈত্তিরীয় উপনিষদে 'অন্নং ব্রহ্ম' বলা হয়েছে - অর্থাৎ অন্নই ব্রহ্ম। এই অন্ন কোনো নির্দিষ্ট খাদ্য নয়, বরং সেই শক্তি যা জীবনকে ধারণ করে। এখানে খাদ্যের পবিত্রতা নির্ধারিত হয়েছে তার উৎপাদন ও গ্রহণের চেতনায়, খাদ্যের প্রকারে নয়।
ছান্দোগ্য উপনিষদে বলা হয়েছে, খাদ্য শরীর গঠন করে, শরীর মনকে প্রভাবিত করে এবং মন চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এখানেও কোথাও বলা হয়নি যে কেবল নিরামিষ আহারেই বিশুদ্ধ চিন্তা সম্ভব। বরং সংযম, কৃতজ্ঞতা ও আত্মসংযমকেই প্রকৃত শুদ্ধতার পথ বলা হয়েছে।
পুরাণ সাহিত্য আরও স্পষ্টভাবে দেখায় হিন্দু সমাজের খাদ্যবৈচিত্র্য। শিব পুরাণে শিবকে ভিক্ষুক, গৃহস্থ ও যোগী - তিন রূপেই দেখা যায়। কোথাও তিনি ফলমূল গ্রহণ করছেন, কোথাও অরণ্যে শিকার গ্রহণ করছেন - এমন বর্ণনাও রয়েছে লোকপুরাণে। শক্ত পুরাণে দেবী দুর্গা, কালী, চণ্ডীর পূজায় পশুবলির ঐতিহ্য সুপ্রতিষ্ঠিত। আজও বাংলার দুর্গাপূজায় মাছ, মাংস ও ভোগের প্রচলন কোনো বিচ্যুতি নয় - বরং হাজার বছরের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।
বৈষ্ণব ধারায় নিরামিষ ভোজনের প্রবণতা থাকলেও সেটিও বাধ্যতামূলক সামাজিক বিধান ছিল না। চৈতন্য পরবর্তী বৈষ্ণব সমাজে ভক্তি ও প্রেমই মুখ্য - খাদ্য সেখানে সহায়ক মাত্র। শ্রীচৈতন্য নিজেও কখনও সামাজিক দণ্ডবিধির মাধ্যমে খাদ্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলেননি। তাঁর দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানবিকতা, প্রেম ও অহংকারহীনতা - পাতে কী আছে, তা নয়।
এই দীর্ঘ শাস্ত্রীয় ইতিহাস আমাদের একটি স্পষ্ট সত্যের দিকে নিয়ে যায় - হিন্দু ধর্মে খাদ্য কখনও আইন ছিল না, ছিল জীবনযাপনের একটি নমনীয় উপাদান। কিন্তু আধুনিক হিন্দুত্ববাদ সেই নমনীয়তাকে অস্বীকার করে খাদ্যকে পরিচয়ের হাতিয়ার বানিয়েছে।
ভারতের মতো দেশে যেখানে আদিবাসী সমাজ থেকে উপকূলীয় জনপদ, পাহাড় থেকে বদ্বীপ - সবখানেই খাদ্যাভ্যাস প্রকৃতি ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে একরঙা খাদ্যনৈতিকতা চাপিয়ে দেওয়া মানে সেই সমাজগুলিকে অদৃশ্য করে দেওয়া। এটি কেবল সংস্কৃতির উপর আঘাত নয়, বরং জীবনের উপর হস্তক্ষেপ।
ভারতের সামাজিক বাস্তবতায় খাদ্য কখনও নিছক খাদ্য থাকে না। খাদ্য এখানে সংস্কৃতি, শ্রেণি, ধর্ম, রাজনীতি এবং ক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে অযোধ্যা জেলা প্রশাসনের তরফে রাম মন্দিরের ১৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে আমিষ খাদ্য বিক্রি ও অনলাইন ডেলিভারির উপর নিষেধাজ্ঞা সেই বাস্তবতারই নতুন এক অধ্যায়। প্রশাসনের যুক্তি - পঞ্চকোষী পরিক্রমার আওতাভুক্ত এলাকাগুলিতে আমিষ খাবার সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই সিদ্ধান্ত কি কেবল ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতিফলন, না কি এর গভীরে রয়েছে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ও আদর্শগত অভিপ্রায়?
ভারত একটি বহুত্ববাদী দেশ। এখানে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে নয় - এক শহরের পর আরেক শহর বা গ্রাম, এমনকি কয়েক কিলোমিটার অন্তর ভাষা, পোশাক, উৎসব, নাচ-গান এবং খাদ্যাভ্যাস বদলে যায়। বহুত্ববাদী এই বৈচিত্র্যই ভারতের শক্তি। 'বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য' - এটি কেবল পাঠ্যবইয়ের বাক্য নয়, বরং ভারতের সহাবস্থানের দর্শন। সেই দর্শনের নিরিখে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে, খাদ্যাভ্যাসের মতো ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ কি এই বহুত্ববাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র বা প্রশাসনের তরফে 'পবিত্রতা'র অজুহাতে নিরামিষকে চাপিয়ে দেওয়া এক ধরনের দ্বিচারিতার জন্ম দেয়। কারণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রক্ষা করা, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে আইনি বলপ্রয়োগে প্রতিষ্ঠা করা নয়।
সরকারি পরিসংখ্যান এই বিতর্ককে আরও স্পষ্ট করে। পঞ্চম ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (NFHS-5) অনুযায়ী, ভারতে মোট নারীদের প্রায় ২৯ শতাংশ এবং পুরুষদের মাত্র ১৭ শতাংশ নিজেদের নিরামিষাশী বলে চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ আমিষ বা মিশ্র খাদ্যাভ্যাসের অনুসারী। শহরভিত্তিক পরিসংখ্যান দেখলেও এই চিত্র আরও পরিষ্কার হয় - ইন্দোরে ৪৯ শতাংশ নিরামিষাশী হলেও দিল্লিতে তা ৩০ শতাংশ, নাগপুরে ২২ শতাংশ, মুম্বাইয়ে ১৮ শতাংশ, হায়দ্রাবাদে ১১ শতাংশ, চেন্নাইয়ে ৬ শতাংশ এবং কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, শেষ জনগণনা অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৭৯.৮ শতাংশ হিন্দু। এই দুই তথ্য মিলিয়ে দেখলে একটি বাস্তব সত্য সামনে আসে - ভারতের অধিকাংশ হিন্দুই আমিষাশী বা অন্তত নিরামিষাশী নন। তাহলে 'হিন্দু সংস্কৃতি'র নামে নিরামিষ ভোজনকে একমাত্র বৈধ বা শুদ্ধ খাদ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা আসলে কাদের সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করছে?
এইখানেই 'হিন্দু' আর 'হিন্দুত্ববাদী' ধারণার ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হিন্দু ধর্ম একটি বহুস্বরের ধর্ম - যেখানে নানা মত, নানা আচার সহাবস্থান করে। আর হিন্দুত্ববাদ একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ, যা এই বহুত্বকে সংকুচিত করে একরৈখিক পরিচয়ের দিকে ঠেলে দেয়। খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক কড়াকড়ি সেই হিন্দুত্ববাদী প্রকল্পেরই অংশ - যেখানে নিরামিষ ভোজনকে রাজনৈতিক ও নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক বানানো হচ্ছে।
আমিষ বনাম নিরামিষ বিতর্ক নতুন নয়। বাঙালি সমাজ এই বিতর্কে বরাবরই আবেগপ্রবণভাবে অংশ নিয়েছে। বাঙালির কাছে মাছ-ভাত কেবল খাদ্য নয়, তা সংস্কৃতি, স্মৃতি ও পরিচয়ের অঙ্গ। নিজের পছন্দের খাবার খাওয়ার অধিকার রক্ষা করা এখানে নিছক লালসা বা ভোগের প্রশ্ন নয় - এটি ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রশ্ন। এই স্বাধীনতাকে ধর্মীয় মোড়কে খর্ব করা হলে তা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ক্ষমতারই প্রকাশ হয়ে দাঁড়ায়।
গো-রক্ষা রাজনীতির দিকে তাকালেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। যারা গরুকে 'গোমাতা' বলে চিহ্নিত করেন, তাঁদের শাসিত এক ডজনেরও বেশি রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার সামাজিক মূল্য কতটা ভয়াবহ, তা আমরা দেখেছি - গো-রক্ষা বাহিনীর হাতে দরিদ্র শ্রমিক, চামড়া ব্যবসায়ী, পরিবহণ কর্মীরা নিহত হয়েছেন। নিহত হতভাগ্যদের সবাই একই বৃন্তে দুটো কুসুমের একটি কুসুম মুসলমান। এই হিংসা কি অহিংসার আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? নাকি এটি ক্ষমতাবানদের সংস্কৃতিকে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগে চাপিয়ে দেওয়ার উদাহরণ?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পুঁজিবাদী দর্শনে আশ্লেশিত হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতার অর্থনীতির দিকে তাকাতে হয়। ভারতে নিরামিষাশীদের সংখ্যা আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মতো। কিন্তু সমাজতাত্ত্বিক গবেষণা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বারবার উঠে এসেছে - এই নিরামিষাশী জনগোষ্ঠীর মধ্যেই একটি ক্ষুদ্র অংশের হাতে কেন্দ্রীভূত দেশের বিপুল সম্পদ ও প্রভাব। অনুমান করা হয়, এই ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশের দখলে রয়েছে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পদ। অর্থাৎ নিরামিষবাদ এখানে কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং উচ্চবর্ণ, উচ্চবিত্ত ও ক্ষমতাবান শ্রেণির সাংস্কৃতিক চিহ্ন।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ক্ষমতাবান শ্রেণি বরাবরই নিজেদের খাদ্যাভ্যাসকে 'শুদ্ধ', 'উচ্চ' ও 'নৈতিক' বলে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে, আর অন্যদের খাদ্যাভ্যাসকে 'অশুদ্ধ' বা 'নিম্ন' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই শ্রেণিভিত্তিক খাদ্য-রাজনীতি আজ নতুন মোড়কে ফিরে এসেছে - ধর্মীয় আবেগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে।
অযোধ্যার নিরামিষ নিষেধাজ্ঞা তাই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি বৃহত্তর এক রাজনৈতিক প্রবণতার অংশ, যেখানে রাষ্ট্র ধীরে ধীরে নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করছে। আজ খাদ্য, কাল পোশাক, পরশু ভাষা বা সংস্কৃতি - এই ধারাবাহিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক। ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের বাড়াবাড়ি এখন অনেকটা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম, খ্রিস্টানদের ওপর হিংসা, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও আক্রমণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে হেট স্পিচের ঘটনা ১,৩০০-রও বেশি হয়েছে, যার বেশিরভাগ বিজেপি-শাসিত রাজ্যে। খ্রিস্টমাস উৎসবে ভাঙচুর, চার্চে হামলা, বুলডোজার দিয়ে মুসলিমদের বাড়ি ভাঙা - এসব চলছে। গো-রক্ষার নামে লিঞ্চিং, লাভ জিহাদের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এটা শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার হাতিয়ার। ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সবাইকে ভয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে। এই অত্যাচার বন্ধ না হলে দেশের গণতন্ত্র বিপদে পড়বে।
ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে জীবনধারা ও ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা দিয়েছে। সেই স্বাধীনতার ভিতরেই ধর্ম পালনের অধিকার সুরক্ষিত। কিন্তু সেই ধর্ম পালনের অধিকার কখনও অন্যের উপর নিজের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার লাইসেন্স হতে পারে না। রাষ্ট্রের কাজ হওয়া উচিত সব সংস্কৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করা, কোনো একটি সংস্কৃতিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে বাকিদের প্রান্তিক করে তোলা নয়।
সবশেষে বলা যায়, আমিষ বনাম নিরামিষ বিতর্ক আসলে খাদ্য নিয়ে নয়। এটি পরিচয়, ক্ষমতা ও রাজনীতির বিতর্ক। এটি হিন্দু ধর্মের নয়, বরং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রকল্প। ভারতের শক্তি তার বহুত্বে - সেই বহুত্বকে অস্বীকার করে একরঙা সংস্কৃতি চাপিয়ে দিলে দেশ দুর্বলই হবে, শক্তিশালী নয়।
খাদ্য যেমন শরীর বাঁচায়, তেমনি স্বাধীনতা বাঁচায় সমাজকে। সেই স্বাধীনতার স্বাদ যেন কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আগুনে পুড়ে না যায় - এই সতর্কতাই আজ সবচেয়ে জরুরি।