আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ সপ্তম সংখ্যা ● ১-১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ● ১৬-৩০ চৈত্র, ১৪৩২
প্রবন্ধ
পশ্চিমবঙ্গের গত পনেরো বছর
অশোক সরকার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ১৫ বছর শেষ হতে চলেছে। কাজেই তাঁর আমলে পশ্চিমবঙ্গের হাল কী এই আলোচনা নিশ্চয়ই প্রাসঙ্গিক। নানাভাবে আলোচনা হতে পারে। তাঁর ১৫ বছরের সঙ্গে আগের ১৫ বছরের তুলনা করে হতে পারে; ২০১১ সালে যে পরিস্থিতি ছিল তার তুলনায় ১৫ বছর পরে এখন কেমন, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তাঁর ১৫ বছরের সঙ্গে জাতীয় গড়ের তুলনা করে হতে পারে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দৃষ্টিভঙ্গিটাই আমার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য, তাই সেটাই করার চেষ্টা করব। তবে একটা স্পষ্টীকরণ দিয়ে রাখি। পশ্চিমবঙ্গের হাল কী, তার উদাহরণ হিসেবে যেমন হাসপাতালে ডাক্তার/নার্স/যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ল কিনা বোঝায়, তেমনি শিশুমৃত্যু বা প্রসূতিমৃত্যু কমল কি বাড়ল, তাও বোঝায়। একটা সরকারি প্রচেষ্টা আরেকটা রাজ্যের ফলাফল। আমরা দ্বিতীয়টা নিয়েই কথা বলব।
মানব উন্নয়নের বেশ কিছু ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ যে জাতীয় গড়ের থেকে ভাল অবস্থায় আছে তাতে সন্দেহ নেই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, জনসংখ্যায় লিঙ্গ অনুপাত, শিশুদের জনসংখ্যায় লিঙ্গ অনুপাত, সাক্ষরতার হার, জন্মহার, মৃত্যুর হার, প্রজননের হার, শিশুমৃত্যুর হার, মাতৃমৃত্যুর হার, সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল, নির্ভরতা অনুপাত (সমগ্র জনসংখ্যায় ১৫ বছরের কম ও ৬০ বছরের বেশি বয়সের মানুষের অনুপাত) ইত্যাদি সূচকগুলিতে তা লক্ষ করা যায়। শুধু যে আজ জাতীয় গড়ের চেয়ে ভাল অবস্থায় আছে তা নয়, ২০১১ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই সূচকগুলির উন্নতিই হয়েছে, অবনতি হয়নি। দেশের বড়ো রাজ্যগুলির মধ্যে তুলনা করলে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে থাকবে। এটা নিশ্চয়ই সুখবর।
অবনতি হয়েছে যে সূচকগুলিতে সেগুলিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মহিলা ও শিশুদের মধ্যে রক্তাল্পতা, শিশুদের মধ্যে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধি, ওয়েস্টিং জাতীয় সূচকগুলিতে নিশ্চিতভাবে অবনতি হয়েছে। এই সূচকগুলি পর্যাপ্ত ও সুষম পুষ্টির উপর নির্ভর করে, যার সবটা সরকারের হাতে নেই। তার জন্য পরিবারে পর্যাপ্ত আয় থাকতে হয়, মেয়েদের ও শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে বদল আনতে হয়, পর্যাপ্ত ও সুষম পুষ্টি সম্বন্ধে সমাজে ধারণা পালটাতে হয়। আমাদের সমাজে পর্যাপ্ত খাদ্য সম্পর্কে যতটা ধারণা তৈরি হয়েছে, মেয়েদের ও শিশুদের সুষম পুষ্টি ও তার প্রয়োজন নিয়ে চেতনা অনেকটা কম। তাহলেও অবনতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।
পুষ্টির ক্ষেত্রে সরকারের দায় সবটা না হলেও স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে যে ২০১১-র তুলনায় ২০২৪-এ এসেও প্রায় কিছুই উন্নতি হয়নি তার দায় সম্পূর্ণভাবেই সরকারের। ২০১১-এ ৯০ শতাংশ মেয়েরা আট ক্লাস পর্যন্ত পড়ত ২০২৪-এ তা প্রায় ৯৭ শতাংশ, তখন ১০ ক্লাস পর্যন্ত পড়ত ৭০ শতাংশ মেয়েরা, এখন তা ৮৩ শতাংশ। ২০১১-তেও তা জাতীয় গড়ের উপরে ছিল, এখনও তাই আছে। দুটিই ভাল খবর। তবে তারা কী শিখল এ প্রশ্ন না করাই ভাল। তাতে আসল ফাঁকিটা ধরা পড়ে যায়। যে দুটি সূচকে তা মাপা হয়, ভাষা শিক্ষা আর সাধারণ অঙ্ক শিক্ষা, ASER রিপোর্টে দুটিতেই দেখা যাচ্ছে, ২০১১-র তুলনায় ২০২৪-এ উন্নতি যৎসামান্য - মাত্র ৫-৬ ভাগ। এখনও অর্ধেকের কাছাকাছি ছেলেমেয়ে ভাষা শিক্ষা ও সাধারণ অঙ্ক শিক্ষার ন্যূনতম মান পেরোতে পারছে না। স্কুলছুটের সংখ্যায় ২০১১-র তুলনায় প্রাথমিক স্তরে অনেকটা উন্নতি হলেও ৯ থেকে ১২ ক্লাসের মধ্যে পাঁচ ভাগের এক ভাগ ছাত্র স্কুলছুট হয়ে যাচ্ছে, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। অর্থাৎ স্কুলে সবাই যাচ্ছে কিন্তু যে ক্লাসে যা শেখার কথা, তা কিছুই শিখছে না এবং আট ক্লাসের পরে ক্রমশ স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে; এটাই সর্বজনীন সত্য।
কৃষির দিকে তাকালে সেই মিশ্র ছবিই দেখতে পাই। ১৫ বছরে নেট চাষের বা সেচের এলাকা প্রায় একই থেকে গেছে। ধান, গম উৎপাদন সামান্য কমেছে, কমেছে আখ বা পাটের চাষ। কিন্তু অনেক বেড়েছে দানাশস্যের, ডালের উৎপাদন (তিন থেকে সাত গুণ), আর সামান্য বেড়েছে ফল আর সবজির উৎপাদন (২৪ থেকে ৩৪ ভাগ)। শ্রমশক্তির ৪৫ ভাগ ২০১১-তে কৃষি নির্ভর ছিল এখন তা কমে হয়েছে ৩৫ ভাগ। দেশের তুলনায় তা ২০১১-তেও ১০ ভাগ কম ছিল, এখনও তাই। ধান, গম, পাটের উৎপাদন কমেছে; দানাসশ্য, ডাল, ফল, সবজির উৎপাদন বেড়েছে, এটা নিশ্চিত সুলক্ষণ কিন্তু তাতে চাষির রোজগার বেড়েছে কি? এক কথায় উত্তর - না। কৃষি থেকে আয় এখনও মাসে দশ কি এগারো হাজার টাকার বেশি নয়। ভারতের জাতীয় গড়ের থেকে তা কম তো বটেই, একমাত্র বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা আর উত্তরপ্রদেশ আমাদের পিছনে। কৃষিতে প্রকৃত মজুরি (realwage) সামান্যই বেড়েছে - ২০১১-১২-তে কৃষিতে প্রকৃত মজুরি যেখানে ১২০ টাকার মতো ছিল ২০২৪-এ এসে তা ১৫০ টাকা হয়েছে। মানে ১৫ বছরে মাত্র ৩০ টাকা বেড়েছে! তখনও তা জাতীয় গড়ের চেয়ে ২০-২৫ টাকা কম ছিল; এখন তা ৩৫-৪০ টাকা কম।
শিল্পের দিকে তাকালেও সেই একই ছবি। ১৫ বছরে ফ্যাক্টরিতে কর্মরত কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে মাত্র দেড় লাখ। এই সময়ে মাত্র ১,০০০টি নতুন ফ্যাক্টরি হয়েছে, ক'টা বন্ধ হয়েছে জানা যাচ্ছে না। তুলনায় ২০১১ সালে ৮০ লক্ষের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগ ছিল; তা বেড়ে হয়েছে ৯২ লক্ষ, কিন্তু সেখানেও কর্মী সংখ্যা আগে ১ কোটি ২০ লক্ষ ছিল, এখন ১ কোটি ৩০ লক্ষের মতোই আছে, অর্থাৎ গড়ে এক একটি উদ্যোগ আগেও দেড় জনের মতো মানুষকে কাজ দিত এখনও তাই। প্রকৃত মজুরি খুবই সামান্য বেড়েছে - ২০১১-তে ছিল দৈনিক ১৮৫ টাকা, ২০২৪-এ হয়েছে ২৪২ টাকা। ১৫ বছরে ৫৭ টাকা বেড়েছে! তখনও তা জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৫-২০ টাকা কম ছিল এখনও প্রায় ২০ টাকা কম।
মেয়েদের অবস্থার দিকে তাকানো যাক। 'কন্যাশ্রী', 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' ইত্যাদি প্রকল্পের মাধ্যমে এই সরকার যে মেয়েদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ১৫ বছরে মেয়েদের অবস্থার কি পরিবর্তন ঘটেছে? ২০১১-তে মেয়েদের প্রতি অপরাধের সংখ্যা ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ছিল ২৯,১৩৩, সেটা ২০২৪-এ এসে দাঁড়িয়েছে ৩৪,০০০-র কিছু বেশি। মাঝে ২০১৪ সালে ৩৮,০০০ ছাড়িয়েছিল, তারপর কমেছিল। আবার ২০২০ সালে ৩৬,০০০ ছাড়িয়েছিল, এখন তার থেকে একটু কমেছে। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান দেশের মধ্যে উপর থেকে চতুর্থ, জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। শুধু যে অপরাধ থানায় লেখানো হয়েছে তার ভিত্তিতে এই তথ্য, আসলে কত অপরাধ ঘটেছে তা কেউ জানে না। তেমনি ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়াতেও পশ্চিমবঙ্গ অগ্রণী। জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষার তথ্য অনুসারে ২০১১ সালে তা ছিল ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ ২০ থেকে ২৪ বছরের মেয়েদের জিগ্যেস করলে জানা যায় তাদের ৫৪ ভাগের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ করার আগেই হয়েছে। সেটা ২০১৯-২০২১-এর তথ্য অনুযায়ী কমে হয়েছে ৪২ শতাংশ, তবে এখনও তা জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ, এবং দেশের মধ্যে প্রথম। তবে একটা স্পষ্টীকরণ দিতেই হবে, যে মেয়েদের সহায়তা প্রকল্পগুলির প্রভাব বুঝতে গেলে পরবর্তী সমীক্ষার জন্য অপেক্ষা করাই হয়ত সমীচীন হবে।
তেমনি মেয়ে শ্রমিকদের ছবিটাও আপাতদৃষ্টিতে আশাব্যঞ্জক হলেও আসলে তা নয়। ২০১১-তে মেয়ে শ্রমিকদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের অনুপাত ছিল ১৯ শতাংশ মানে কর্মক্ষম মেয়েদের মাত্র ১৯ ভাগ কাজে যুক্ত ছিলেন বা কাজ খুঁজছিলেন। সেটা ২০২৪-এ এসে হয়েছে ৪৩ শতাংশ; মানে অনেকটা বেড়েছে। কিন্তু তলিয়ে দেখলে দেখব আসলে কর্মরত মহিলাদের ৭৫ ভাগই স্বনিযুক্ত, বা সেলফ এমপ্লয়েড, এবং তার প্রায় অর্ধেক আসলে পরিবারের বিনা পয়সার শ্রমিক! আর ক্যাসুয়াল শ্রমিকরা বিপুল সংখ্যায় কমে গেছেন। ২০১৭ সালে ছিলেন নিযুক্ত শ্রমিকদের ৩৫ ভাগ ২০২৪-এ হলেন ১৫ ভাগ। গ্রামাঞ্চলে নিয়মিত মাইনে পান এমন মহিলা কর্মীদের সংখ্যা মোট মহিলা শ্রমিকদের ১৮ ভাগ ছিল, হয়ে গেছে ৯ ভাগ, শহরেও ৪৪ থেকে ৩৩ ভাগ হয়ে গেছে। যেহেতু কৃষিতেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় মেয়েরা যুক্ত তাই ২০১৩-তে যেখানে কৃষি মজুরি ছিল ১৮২ টাকা ২০২৪-এ এসে হয়েছে ৩৬০ টাকা, অর্থাৎ ১৫ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রকৃত মজুরি দেখলে তা অনেকটাই কম হবে। কাজেই মহিলা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই রাজ্য বিশেষ কোনো কৃতিত্বের দাবি করতে পারে কি? এক্ষেত্রে জাতীয় গড়ের সঙ্গে অবশ্য বিশেষ কোনো তফাত নেই। একটাই ভাল খবর যে, দেশের মধ্যে মহিলা চালিত ক্ষুদ্র উদ্যোগে আমরা প্রথম হয়েছি।
সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ছবিটা আশাব্যঞ্জক নয়। রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটা বড়ো মাপকাঠি হল রাজ্যের সামগ্রিক উৎপাদন। ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ব্যক্তি প্রতি State Domestic Product (SDP) মূল্যবৃদ্ধি বাদ দিলে অর্থাৎ constant price-এ মাত্র ৬০ ভাগ বেড়েছে। বড়ো রাজ্যগুলির মধ্যে শেষ থেকে তৃতীয়। প্রকৃত মূল্যে SDP বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ হারে, জাতীয় গড়ের (৫.৬ শতাংশ) চেয়ে অনেক কম। উৎপাদন ও পরিষেবা মিলিয়ে, রাজ্যে খরচা বাদ দিয়ে কতটা নেট মূল্য তৈরি হচ্ছে তাকে Gross State Value Added বা GSVA বলে। এক দশকে এই রাজ্যে তার বৃদ্ধির হার হল গড়ে ৪.৮ শতাংশ যা জাতীয় GSVA-র বৃদ্ধির হারের (৫.৭ শতাংশ) চেয়ে অনেকটাই কম। একই ইঙ্গিত পাওয়া যায় ব্যাঙ্কের ঋণ ও জমার অনুপাত দেখলে। এই অনুপাত ২০১১-তে ছিল ৬৫ শতাংশের মতো, ২০২৪-এ এসে তা হয়েছে ৫২ শতাংশ, জাতীয় গড় হল ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে সব ব্যাঙ্ক মিলিয়ে যদি বছরে ১,০০০ টাকা জমা হয়, তাহলে ব্যাঙ্কগুলি পশ্চিমবঙ্গে ঋণ দিচ্ছে তার মধ্যে মাত্র ৫২০ টাকা। বাকি টাকা অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। সামগ্রিক অর্থনীতির আরেকটি হিসাব হল রাজ্যে কতটা দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরি হচ্ছে। ইংরেজিতে বলে Gross Fixed Capital Formation (GFCF)। সহজ কথায় বললে ফ্যাক্টরি, মেশিনারি, বিল্ডিং, অন্যান্য পরিকাঠামো ইত্যাদি। ২০১১-তে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ছিল উপর থেকে ছয় নম্বরে, ২০২৪-এ এসেও তাই আছে যদিও সংখ্যার হিসেবে তা এক লক্ষ তিরিশ হাজার কোটি টাকা থেকে সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। তার কারণ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল স্রোতই হল খুচরো ব্যবসা, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, অসংগঠিত ক্ষেত্রের উদ্যোগ, আর সরকারী রাজস্ব ব্যয়। তাতে রাজ্যের SDP বাড়লেও, GFCF আর SDP-র অনুপাত বাড়ে না। পশ্চিমবঙ্গে এই অনুপাত ২৭-২৮ শতাংশ, শিল্পোন্নত রাজ্যগুলিতে ৩২-৩৫ শতাংশের মতো। বেকারত্বের হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় গড়ের চেয়ে কম হলেও শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা মারাত্মক - মাধ্যমিক পাশদের মধ্যে বেকারত্ব ৯ শতাংশ, উচ্চমাধ্যমিকদের মধ্যে ১০ শতাংশ, গ্রাজুয়েটদের মধ্যে ২০ শতাংশর বেশি, আর পোস্ট গ্রাজুয়েটদের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ। এই রকম অনেক তথ্যই দেওয়া যায় যার মূল মেসেজটি হল গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতি হয়নি তা নয়, তবে তা বিশেষ বলার মতো নয়।
সব মিলিয়ে এই রাজ্যের গত ১৫ বছরের যে ছবিটি ধরার চেষ্টা করলাম তার মধ্যে নিশ্চয়ই কিছু ফাঁক থেকে যাচ্ছে। কিন্তু ফাঁকগুলি পূরণ হলেও সামগ্রিক ছবিটা বদলাবে কি? যে সামগ্রিক ছবিটা পেলাম তাকে কেউ বলেন স্থবিরতা, আমি বলব মন্থরতা। এই রাজ্য এগোচ্ছে, কিন্তু অতি মন্থর গতিতে। সঙ্গে এও বলা যায় যে উন্নয়নের পরিধি বেড়েছে, বাড়েনি তার গুণমান।
তথ্যসূত্রঃ
1. RBI Handbook of Statistics on Indian States 2024-25.
2. NABARD All India Rural Financial Inclusion Survey 2021-22.
3. NCAER-NITI Ayog Study of Macro and Fiscal Landscape of West Bengal 2023-24.
4. Annual Report of the Ministry of Micro Small and Medium Enterprises 2024-25.
5. RBI table on credit deposit ratios of Indian states.
6. PLFS 2023-24, 2022-23.