আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা ● ১-১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ● ১৬-৩০ মাঘ, ১৪৩২
প্রবন্ধ
বাঘ-মানুষের সুন্দরবন
গৌতম হোড়
ছোটোখাট মানুষটির মাথায় একটা জংলা রংয়ের টুপি। তিনি ধীর পায়ে হেঁটে এসে দাঁড়ালেন। চোখে একটু ক্লান্তির ছাপ। তাঁকে একঝলক দেখলে বোঝা যাবে না, এই মানুষটিই বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরেছেন। সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের থাবার আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে চৌচির হয়ে গেছিল। বাঁচার কোনো আশাই ছিল না। তাঁকে দেখে বহু ব্যবহারে জীর্ণ কথাটাই মনে আসে, অঘটন আজও ঘটে।
তাঁর নাম আশিস দাস। পেশা ছিল মাছ ধরা। সেই মাছ ধরতে গিয়েই বাঘের মুখে পড়া। যারা সুন্দরবনে বেড়াতে যান, তাদের কাছে গোসাবা, বালি দ্বীপের মতো জায়গাগুলে পরিচিত। আশিস অবশ্য মাছ ধরতে গেছিলেন প্রায় মোহনার কাছে। গোসাবা বা বালি থেকে যেতে পাল তোলা নৌকায় লাগে ১২ ঘণ্টার মতো, আর হাতে দাঁড় টেনে যেতে হলে ১৮ ঘণ্টা।
সেখানেই চারদিন ধরে মাছ ধরেছেন আশিস ও তাঁর চার সঙ্গী। সেদিন রাতটা কাটিয়েই ফিরে আাসবেন। দুপুরের পর সেদিন মেঘ করল। ঝড় উঠলে অসুবিধা হবে ভেবে নদী ছেড়ে আশিসরা একটা খাঁড়িতে গিয়ে মাঝখানে নৌকা রাখলেন। লঞ্চের উপর থেকে খাঁড়িগুলো দেখতে খুব সুন্দর লাগে। কিন্তু ছোটো নৌকায় সুন্দরবনের খাঁড়িতে ঢোকা মানে যে কোনো মুহূর্তে বিপদের মুখে পড়া। আর মাছধরা নৌকা যদি সেখানে নোঙর ফেলে থাকে তাহলে বিপদের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। কারণ, বাঘ চট করে আক্রমণ করে না। তারা শিকারকে আগে বেছে নেয়, তারপর লক্ষ্য করতে থাকে। উপযুক্ত সময় বুঝে আক্রমণ করে। আশিসের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছিল।
খাঁড়িতে নৌকা ঢুকিয়ে আশিস পা থেকে মাথা পর্যন্ত চাদরমুড়ি দিয়ে নৌকায় শুয়ে পড়লেন। তখন তাঁর জ্বর এসেছে। চার সঙ্গী সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন চারদিকে। কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলেন মনে নেই। ঘুম ভেঙে যায় সঙ্গীদের প্রবল চিৎকারে। আশিস মাথা থেকে চাদর সরাতেই দেখলেন নৌকার মধ্যে সামনে একটা বাঘ দাঁড়িয়ে। প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ফলেই দুই হাত দিয়ে বাঘটিকে জড়িয়ে ধরলেন। সঙ্গীদের চিৎকার এবং বাঘকে তাড়ানোর প্রাণান্তকর চেষ্টার মধ্যে সে একটা থাবা মারল আশিসের মাথায়। তারপর তাঁর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরেছিল আট মাস পর।
বাঘ শেষ পর্যন্ত পালিয়েছিল। সঙ্গীরা ফোনে খবর দিলেন আশিসের গ্রামে, তাঁর বাড়িতে। সেখান থেকে ডিএফও-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালবিলম্ব না করে স্পিড বোট নিয়ে এসে আশিসকে হাসপাতালে নিয়ে যান। যমে-মানুষে টানাটানির পর আশিস বেঁচে যান। চিকিৎসা চলতে থাকে কলকাতায়। একে একে বিক্রি করতে হয় জমিজমা, শেষ হয়ে যায় যাবতীয় সঞ্চয়। কলকাতায় আসা, চিকিৎসা এবং বারবার প্লাস্টিক সার্জারি করার খরচ তো কম নয়। বাঘের কবল থেকে বেঁচে আসা আশিস তা জোগাড় করবেন কেমন করে?
যারা সুন্দরবনে বাঘ দেখতে যান, তারা প্রায়ই হাহুতাশ করেন, বাঘের দেখা পেলাম না বলে। একদিন, দুদিন বা আরো বেশিদিন লঞ্চে করে ঘুরে ‘তোমার দেখা নেই রে’ বলে আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেন। এর ঠিক উল্টো মেরুতে আছে সুন্দরবনের মানুষ। বিশেষ করে যাদের মাছ ধরে, মধু সংগ্রহ করে, মীন ধরে বেঁচে থাকতে হয়। জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ তাদের কাছে কোনো প্রবাদ নয়, বড়ো নির্মম সত্যি। বাঘ দেখাটা তাদের কাছে ভালো লাগার জায়গা নয়, তাকে এড়িয়ে নিজের বেঁচে থাকাটাই বড়ো কথা।
মাথা থেকে টুপিটা খুললেন অশিস। চমকে উঠতে হল। কপালের উপরে বড়ো একটা অংশ চকচক করছে। সেখানে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছে। ওখানে হাড় ভেঙে গিয়েছিল। নিজের ডান পায়ের হাঁটুর উপরের অংশটা দেখিয়ে আশিস বললেন ‘এখান থেকে চামড়া নিয়ে জুড়েছে।’ কানের পাশের অংশটা এখনও প্রায় তুলতুলে নরম। মাথার পিছনের দিকে চুলের মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে কয়েকটি রেখা চলে গেছে। এখনকার তরুণরা চুলের মধ্যে এরকম নকশা করে। তবে আশিসের চুলে ওটা নকশা নয়, সেলাই করার দাগ। সুন্দরবনের একটা বাঘ থাবা মারলে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৭ হাজার থেকে ৩৫ হাজার পাউন্ড বল সেখানে গিয়ে পড়বে - এতটাই বাঘের শক্তি। সেই থাবা খাওয়ার পর আশিসের বেঁচে থাকাটাই চরম আশ্চর্যের।
আশিসের বাঁদিকের নাকে বাঘের নখের চিহ্ন। জায়গাটা ফুলে আছে। পিঠে একটা চিহ্ন। সেই জায়গাটাও ফুলে আছে। একটু রোদ লাগলেই মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রণা হয়। ক্লান্ত লাগে। আশিস এখন আর মাছ ধরতে যেতে পারেন না। বারকয়েক চেষ্টা করে দেখেছেন। কিন্তু পারেননি। পারা সম্ভব নয়। এখনও নিয়মিত কলকাতায় যেতে হয়। চিকিৎসার জন্য।
আশিস বলছিলেন, "আমার গ্রাম হল সুন্দরবনে ভারতের শেষ গ্রাম। ১৮ বছর ধরে আমি মাছ ধরেছি। বহুবার বাঘ দেখেছি। আমরা ছোটোছোটো ডিঙি নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যাই। ২০২২ সালেও গেছি। সেবারই বাঘের সঙ্গে আমার লড়াই হয় ডিঙি নৌকার উপরে। সেদিন আমার গায়ে জ্বর ছিল। আবহাওয়াও খারাপ। ধুবনির খালে ছিলাম আমরা। ওখানে নৌকা লাগিয়েছি। জ্বরের জন্য আমি চাদরমুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ি। তারপর চিৎকার শুনে চাদর সরিয়ে দেখি সামনে বাঘ। জানি না, কীভাবে বাঘের গলা জড়িয়ে ধরেছিলাম। তারপর আর কিছু মনে নেই।"
সুন্দরবন হল ওয়ার্ল্ড হেরিজেট সাইট, যার ৬০ ভাগ অংশ রয়েছে বাংলাদেশে, ৪০ শতাংশ ভারতে। নদী, খাল, খাঁড়ির জাল বিছানো পুরো জায়গায়। ভারতীয় অংশে রয়েছে ১০২টি দ্বীপ। এর মধ্যে ৫২টিতে মানুষ থাকে, বাকি দ্বীপ ‘কোর এরিয়া’-য়, অর্থাৎ সেখানে বাঘ বসবাস করে। ভারতীয় সুন্দরবনের কোর এরিয়া, অর্থাৎ বাঘেদের এলাকা আরও এক হাজার ৪৪ বর্গ কিলোমিটার বাড়াবার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রায়দিঘি, মাতলা, রামগঙ্গা রেঞ্জকে ‘কোর এরিয়া’-র মধ্যে ঢোকানো হচ্ছে। ফলে ভারতীয় সুন্দরবন এলাকা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড়ো ব্যাঘ্র প্রকল্পের স্বীকৃতি পাচ্ছে।
গত কয়েক দশক ধরে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে। শেষ বাঘসুমারি বলছে, ভারতীয় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। বাঘেদের তো বিচরণভূমি দরকার হয়। শিকার পেতে হয়। ফলে বাঘ হামেশাই এমন গ্রামে হানা দেয়, যেখানে মানুষ বসবাস করে। বাঘ ও মানুষের সংঘাতও তাই সুন্দরবনে নিত্যদিনের ঘটনা। বাঘ যাতে মানুষের দ্বীপে আসতে না পারে, সেজন্য বাঘের এলাকায় নদীর ধারে বন দপ্তর নাইলনের নেট লাগিয়েছে। ভারতীয় সুন্দরবনে একশটির বেশি বাঘ ও ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। এই মানুষদের ৬৪ শতাংশ মধু, কাঁকড়া, মাছ, কাঠের জন্য জঙ্গলে যান এবং তাদের বাঘের মুখে পড়ার সম্ভাবনা ষোলো আনা। ফলে সংঘাত স্বাভাবিক। বাঘ, কুমির, সাপ, হরিণদের রাজ্যে সমানে মানুষ ঢুকে পড়ছে - একের পর এক দ্বীপে ঢুকে পড়েছে।
আসলে অন্য অভয়ারণ্যের সঙ্গে সুন্দরবনের তুলনা চলে না। এখানে বাঘ-মানুষের সংঘাতও আজকের নয়, বহুদিনের। সুন্দরবন আর পাঁচটা বনের মতো নয়। একেবারে অন্যরকম; ভূপ্রকৃতিগত দিক থেকে খুবই কঠিন একটা এলাকা। বাঘের পক্ষেও শিকার এখানে সহজলভ্য নয়। অনেক পরিশ্রম করে তাদের এখানে শিকার করতে হয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডন প্রদীপ ব্যাস 'এনডি টিভি'কে বলেছেন, "একটা কথা বুঝতে হবে, সুন্দরবন হল ভারতের একমাত্র অরণ্য যেখানে জঙ্গলের মধ্যে গরু-মোষ ইত্যাদি পাওয়া যায় না। অন্য জঙ্গলে গরু-মোষ-ছাগল হল বাঘেদের সহজ শিকার। সুন্দরবনে জঙ্গলের মধ্যে তারা নেই। ফলে বাঘেদের নদী পেরিয়ে গ্রামে আসতে হয় শিকারের জন্য।"
এর ফলে শুধু যে মানুষ মারা যাচ্ছে তাই নয়, বাঘও মারা যাচ্ছে মানুষের আক্রমণে। দেশভাগের পর থেকেই সুন্দরবনে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন তো তা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে জঙ্গল কমেছে। সর্বেন্দু বিকাশ ধর ও সৈকত মণ্ডলের স্টাডি পেপার (নেচার অফ হিউম্যান-টাইগার কনফ্লিক্ট ইন ইন্ডিয়ান সুন্দরবন) অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে জঙ্গলের ‘কোর এলাকা’-য় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ২২.৩৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৫১ শতাংশ হয়েছে, বাফারে ২.১৫ থেকে বেড়ে ৪.৩২ শতাংশ হয়েছে, কিন্তু আউটার কোর এলাকায় ম্যানগ্রোভ ৪৮.১৮ থেকে কমে ৪৫.৪৯ শতাংশ হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল, কিন্তু ২০১৩-তে তা কমে যায়। তারপর একটু বাড়লেও, পরে আবার কমে যায়। ২০০৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সুন্দরবনে ‘বিল্ট আপ’ (নির্মিত) এলাকা ২১.৮৫ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৬.৬২-তে, আর ‘নন বিল্ট আপ এরিয়া’ কমে যায় ৭৮.১৪ থেকে ৭৩.৩৭ শতাংশে। এর থেকেই স্পষ্ট হয়, কীভাবে সুন্দরবনে মানুষ ও তার বসতি বেড়েছে।
তাদের সমীক্ষা বলছে, বাঘের আক্রমণের ৬২ শতাংশ হয়েছে আউটার কোর ম্যানগ্রোভ ফরেস্টে। ১৮ শতাংশ হয়েছে কোর ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে, ১৭ শতাংশ নদী, খাঁড়িতে এবং মাত্র ৩ শতাংশ বাফার ম্যানগ্রোভ ফরেস্টে। এর থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট, সুন্দরবনের ‘কোর’ ও ‘আউটার কোর’ এলাকায় মানুষের যাতায়াত বেড়ে গেছে। এটা হচ্ছে বাঘেদের স্বাভাবিক বসবাসের জায়গা। ফলে বাঘের রাজ্যে মানুষের অনুপ্রবেশ হলে সংঘাত তো অনিবার্য। যে অঞ্চল নিয়ে সমীক্ষা হয়েছে, সেখানে বাঘের আক্রমণে মৃত ২১ জনের মধ্যে ১৯ জন মৎস্যজীবী ও দুজন মধু সংগ্রহকারী।
সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের উত্তর-পশ্চিম দিকে বাফার জোনের দুই কিলোমিটারের মধ্যে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের অধিকাংশই হলেন জঙ্গন-নির্ভর। ফলে তাদের সঙ্গে বাঘের সংঘাত স্বাভাবিক ঘটনা। যেহেতু তাদের অনেকে লাইসেন্স ছাড়া জঙ্গলে প্রবেশ করেন, তাই তারা আক্রান্ত হলে অনেক সময় কর্তৃপক্ষের কাছে তা রিপোর্ট করা হয় না। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, ১৯৮৫ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ৭৮৯ জনকে বাঘ আক্রমণ করেছে। ৬৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বছরে গড়ে ২৭.৭৫ জন মানুষ বাঘের হাতে মারা গেছেন। এখন সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৩৫-এ। এদের ৮০ শতাংশই মাছ বা কাঁকড়া সংগ্রহকারী।
সুন্দরবনে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, জঙ্গল কমছে। জীবনধারণের জন্য তারা বেপরোয়াভাবে জঙ্গলে ঢুকছে, প্রশিক্ষণ ছাড়া ঢুকছে। শুধু মধু নয়, নিরাপদে মাছ ও কাঁকড়া সংগ্রহের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। নৌকা থেকে না নেমে বিশেষ পদ্ধতিতে কাঁকড়া ধরার প্রশিক্ষণ চলে। কিন্তু তাতে বড়ো কাঁকড়া ওঠে, মাঝারি ও ছোটোগুলো ধরা পড়ে না। কাঁকড়ার দাম সমানে বাড়ছে। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কাঁকড়া সংগ্রহের চেষ্টা। বাড়ছে বাঘের এলাকায় ঢুকে পড়ে কাঁকড়া সংগ্রহের চেষ্টা, মাছ ধরার চেষ্টা।
বন দফতর ও কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মধুসংগ্রহকারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মৌমাছি পালনের বাক্স, মানুষের তৈরি বহনযোগ্য মৌমাছির চাক দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে তারা মধু সংগ্রহ করছেন। গভীর জঙ্গলে না ঢুকে তারা মধু সংগ্রহ করছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে সংগঠিতভাবে যাচ্ছেন। ফলে মধু সংগ্রহকারীদের উপর বাঘের আক্রমণ আগের থেকে কমেছে।
সুন্দরবনে বাঘ-মানুষের সংঘাত কম করতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু মূল সমস্যার তো সমাধান হয় না। সেই সমস্যা হলো বাঘের রাজ্যে মানুষের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি।
বালিদ্বীপে খুব ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিলেন আশিস। ছায়ায় গিয়ে বসলেন। সামনে জলের দিকে চেয়ে থাকলেন। হয়ত মনে পড়ছিল সেই বাঘের আক্রমণের কথা। প্রায় সবসময়ই মনে পড়ে তাঁর। আশিস ভাগ্যবান। তিনি মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। কিন্তু অনেকেই ফেরেন না। সুন্দরবনে বাঘ-মানুষের সংঘাতের বলি হন তাঁরা।