আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা ● ১-১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ● ১৬-৩০ মাঘ, ১৪৩২
প্রবন্ধ
'উন্নয়নে'র বলি পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিঙ্গারন নদী
মৃন্ময় সেনগুপ্ত
নবারুণ ভট্টাচার্যের একটি উপন্যাসের নাম, খেলনা নগর। পুতুল কারখানাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল সেই নগর। কারখানা বন্ধে নগর এখন পরিত্যক্ত জনপদ। নগরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী তেজস্ক্রিয় আর রাসায়নিক আবর্জনায় বিষাক্ত। নদীর মাছ, আশেপাশের ঝোপঝাড় কেউ বেঁচে নেই। মশা, মাছি, পোকামাকড় কিছুরই দেখা মেলে না। সেই বিষাক্ত জল পান করে ধুঁকতে ধুঁকতে টিকে আছেন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ। বলা ভালো, মনুষ্যেতর কয়েকটা প্রাণ। জলের বিষে তাঁদের শরীরে নীল ছোপ পড়েছে।
জানা নেই অদূর ভবিষ্যতে সিঙ্গারন নদী পাড়ের বাসিন্দাদেরও সেই পরিণতি হবে কিনা।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার একটি ছোটো নদী সিঙ্গারন। দৈর্ঘ্য মেরেকেটে পঁয়ত্রিশ-ছত্রিশ কিলোমিটার। নদীর জল উৎসমুখের নিকটবর্তী এলাকা থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার স্পঞ্জ আয়রন কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যে বিষাক্ত। মোহনার কাছে যোগ দিয়েছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য।
চিত্র: সিঙ্গারনসহ পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন ছোট নদীর মানচিত্র।

সৌজন্যে: ভূগোলবিদ সুরজিৎ সুলেখাপুত্র।
জামুরিয়া থেকে উত্তরে তালতোড় গ্রামের কাছে ১২০ মিটার উঁচু টিলা রয়েছে। এখান থেকে সিঙ্গারনের উৎপত্তি। নন্দীগ্রামের (পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুরিয়ায়) উত্তরে এই নদী অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে। এইসব অঞ্চলে অনেকগুলো জলধারা সিঙ্গারনে মিশে তাকে পুষ্ট করেছে। এছাড়াও গোটা প্রবাহপথে ছ'টি ছোটো নদী এর সঙ্গে মিশেছে। অণ্ডাল ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রাম হয়ে পিঁজরাপোল গ্রামের দক্ষিণে সিঙ্গারন নদী দামোদরে মিশেছে। গতিপথে সিঙ্গারনকে অতিক্রম করেছে জি টি রোড, একাধিক রেলপথ। ছোটো টিলা, অসমতল ভূমিরূপ আর জঙ্গলে ঘেরা সিঙ্গারন অববাহিকার বদল শুরু হয় কয়লাখনির হাত ধরে। গোটা নদী অববাহিকা জুড়ে রয়েছে কয়লাক্ষেত্র।
ফরাসী প্রকৃতি বিজ্ঞানী ভিক্টর জাকমঁ-র ১৮২৯ সালের দিনলিপি থেকে জানা যায়, সিঙ্গারন প্রায় ৩০ মিটার চওড়া ছিল। গরমে জল কম থাকলেও, বর্ষায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। এখন সে অনেকটাই নালার মতো সরু, কোথাও প্রায় স্রোতহীন। জাকমঁ যখন এই দিনলিপি লেখেন, তখন রাণীগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রে খনি খননের কাজ সবে শুরু হয়েছে। ১৮৫৫ সালে মূলত কয়লা নিয়ে যাওয়ার জন্য চালু হবে হাওড়া থেকে রাণীগঞ্জ রেলপথ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দ্বারকানাথ ঠাকুরও এই নদী অববাহিকার কয়লাখনিতে পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন। শুরু থেকেই খনির বর্জ্য নির্বিচারে এই নদীতে ফেলা হতে থাকে। রেলপথও হয় সিঙ্গারনের প্রবাহপথের ক্ষতি করে। এরপর সস্তায় বাজিমাত করতে গিয়ে খোলামুখ কয়লাখনি অববাহিকার আরও ক্ষতি করেছে। কয়লা তোলার জন্য বিস্ফোরণে জলধারা, ভূমিরূপের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বেড়েছে সিঙ্গারনের জলসঙ্কট।
স্বাধীন দেশে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা ই সি এল (ইস্টার্ন কোলফিল্ডস্ লিমিটেড) কোন যুক্তিতে এই ধরনের পরিবেশ ধ্বংসের কাজে মাতল, তার উত্তর মেলা ভার। আসানসোল-রাণীগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র জুড়ে বিভিন্ন নদীর একই দশা। সিঙ্গারন ও তার উপনদীগুলির দূষিত জল ও ক্রমবর্ধমান জল সঙ্কট জীবজগতের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। পুঁজির স্বার্থে বলি হয়েছে প্রকৃতি-পরিবেশ। অধুনা স্পঞ্জ আয়রন কারখানা যার নিকৃষ্ট উদাহরণ।
নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে জনপদ, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবিকা, জীবনচর্যা, সংস্কৃতি। তাকে জুড়ে থাকে কত ইতিহাস, সত্য-অর্ধসত্য-অসত্যের মিশেলে নির্মিত নানা কাহিনি। ভবানী পাঠক নাকি সিঙ্গারন পাড়ের তপসী, বেলবাদ, ইকড়া অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন। সাধক বামাক্ষ্যাপার নামও সিঙ্গারনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। নদী পাড়ে রয়েছে আদিবাসীদের একাধিক পবিত্র থান, যেগুলিকে ঘিরে রয়েছে নানা আখ্যান।
ভগবতী, গগন, শ্যাম সেল, সুপার স্মেলটার্স, আর এ আই সি, গজানন, এস ই এল টাইগার-র মতো কোম্পানিগুলির স্পঞ্জ আয়রন কারখানা নদীটিকে আক্ষরিকই মৃতপ্রায় করে দিয়েছে। এইসব কোম্পানির স্টিল দিয়ে মজবুত বাড়ি বানানোর বিজ্ঞাপন অহরহ প্রচারিত হচ্ছে। নানা সেলেব্রিটিরা সেইসব বিজ্ঞাপনে যোগ দেন। অথচ 'মজবুত বাড়ি' বানানোর বিনিময়ে কীভাবে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্রের সর্বনাশ করা হচ্ছে, তার সাক্ষী সিঙ্গারন। কারখানা গড়ার সময়ে নদী পাড়ের শ্মশানঘাট, বিভিন্ন মন্দির সংস্কারের জন্য অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেসব ছিল কর্পোরেট প্রতারণার অঙ্গ। জামুরিয়ার ইকড়া শ্মশানঘাটের কাছের ঝরনাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এখানে কোম্পানি নদীর ওপর বানিয়েছে অনুচ্চ, অপ্রশস্ত সেতু। বর্ষায় জল বাড়লে সেই সেতু নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। নদী দু'কুল উপচিয়ে পড়ে। শ্মশানও বন্ধ হয়ে যায়। শ্মশান চত্বরে বাঁধানো মেঝেতে পর্যন্ত ধুলোর কালো, কয়েক ইঞ্চি পুরু আস্তরণ। নদীর জল, কারখানাগুলোর রাসায়নিক বর্জ্যে মারাত্মকভাবে দূষিত। রঙ তার সিঁদুরে।
ইকড়া থেকে তপসী পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ধ্বংসের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়। বিভিন্ন কোম্পানি সিঙ্গারনকে দেওয়াল দিয়ে ঘিরে জায়গা দখল করেছে। খেয়ালখুশিমতো নদীকে পাইপে আবদ্ধ করে সরু করেছে, নদীপথ ঘুরিয়ে কারখানার রাস্তা বানিয়েছে। একসময়ে গ্রামবাসীরা স্নান, কাপড় কাচা, রান্নার কাজে নদীর জল ব্যবহার করতেন। গবাদি পশুদেরও স্নান করানো হতো। মারাত্মক দূষণ ও কোম্পানিগুলির দখলের জন্য সেসব আজ ইতিহাস। আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে গেলেই সেই কাহিনি শোনা ও উপলব্ধি করা যায়। এখন সরকার থেকে গাড়ি করে বিভিন্ন গ্রামে জল সরবরাহ করা হয়। সে জলও দূষণমুক্ত নয়। বহু প্রজন্ম ধরে যে নদী ছিল গ্রামবাসীদের জীবনের অঙ্গ, সে আজ নাগালের বাইরে। কার্যত কোম্পানিগুলির সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।
গ্রামের ভেতর দিয়ে কারখানার কাঁচামাল নিয়ে ধুলো উড়িয়ে চলেছে ডাম্পার। বাতাসে ধুলোর আস্তরণ। তাতে মিশে থাকে কয়লা, লোহা, স্পঞ্জ আয়রনের গুঁড়ো। পাখির দেখাও সহজে মেলে না। অথচ একসময়ে নদী সংলগ্ন জঙ্গলে বাঘ, হায়েনা প্রভৃতির দেখা মিলত। গাছের পাতা এখানে সবুজ নয়, মারাত্মক দূষণে কালো। পশ্চিম বর্ধমান জেলার গোটা কয়লাখনি অঞ্চলের বায়ু এমনভাবেই দূষিত। অভিযোগ রাষ্ট্রায়ত্ব ই সি এল-র জমি, খাস জমি, আদিবাসীদের জঙ্গল, থান - সব দখল হয়ে যাচ্ছে। সরকারের পরিবেশ দপ্তর, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, ভূমি রাজস্ব দপ্তর, পঞ্চায়েত, গ্রামসভা - কোনোকিছুরই যেন এখানে অস্তিত্ব নেই। গণতন্ত্র নয় - পুঁজি দেবতা ও কোম্পানিতন্ত্রই সারসত্য।
তপসীতে আবার নদীকে সরু করে হয়েছে জাতীয় সড়কের উড়ালপুল। কার্যত নদীর দখল নিয়েছে সরকার। রাণীগঞ্জ থেকে বাঁক নিয়ে জাতীয় সড়ক, এখান দিয়ে চলে গেছে পাণ্ডবেশ্বর হয়ে সিউড়ির দিকে। তাকে চওড়া করতেই নদীর ওপর বড়োবড়ো পিলার বানিয়ে হয়েছে উড়ালপুল। রাতভর এখান দিয়ে ছুটে চলে পাথর বোঝাই ডাম্পার। এখানেও নদীর রঙ সিঁদুরে। গাড়ি করে উড়ালপুল দিয়ে যাওয়ার সময়ে নীতি নির্ধারকদের সেসব চোখে পড়ে কিনা জানা নেই।
শুধু ইকড়া শিল্পতালুক নয়। গোটা গতিপথেই সিঙ্গারনের জলে ফেলা হয় খনি ও নানা কারখানার বর্জ্য। জি টি রোডের দু'দিকে গড়ে ওঠা নির্মাণ কাজের জন্য বিভিন্ন কাঁচামাল উৎপাদনের কারখানাগুলি তাকে যেমন দূষিত করছে, তেমনই যথেচ্ছভাবে নদী থেকে জল তোলা হচ্ছে। রাণীগঞ্জ থেকে অণ্ডালের দিকে যেতে কাজোড়ার কাছে জিটি রোড সিঙ্গারনকে অতিক্রম করেছে। উড়ালপুলের ওপর থেকে শীর্ণকায়া কালচে সিঙ্গারনকে দেখা যায়।
অণ্ডাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য অণ্ডাল স্টেশনের নিকটবর্তী দিগনালায় সিঙ্গারনে পড়ছে, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই নদীকে দূষিত করছে। ডিভিসি'র তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। অণ্ডাল ব্লকের শ্রীরামপুরে নদী মোহনার কাছাকাছি সিঙ্গারন যেন এক বদ্ধ নালা, স্রোতহীন। পাশ দিয়ে বর্ধমান থেকে আসানসোলের দিকে চলে গেছে রেললাইন। যে রেলপথ রাজ্যের রাজধানীর সঙ্গে দেশের রাজধানীর সংযোগ ঘটিয়েছে। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল এখান থেকে বেশি দূরে নয়। বর্ষায় দামোদরের জল বাড়লে, ঠেলে ঢোকে সিঙ্গারনে। শ্রীরামপুর হয়ে সেই বাড়তি জল কয়েক কিলোমিটার দূরের দিগনালা পর্যন্ত চলে যায়। শ্রীরামপুরে রেললাইনের ধারের রাস্তা, জমি সব ডুবে যায়।
দেখে বোঝা যায়, এসবই আসলে নদীর প্রবাহপথ। সেই প্রবাহপথেই নতুন করে আরেকটা রাস্তা হয়েছে। পাশে গাড়ি চলাচলের ঢালাই রাস্তা থাকা সত্ত্বেও, কার্যত নদীর প্রবাহপথে নতুন রাস্তা নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে বালি লুট করে অবাধে গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই নতুন রাস্তা নির্মাণ। সিঙ্গারন যেখানে দামোদরে মিশেছে সেখানে অবাধে দামোদরের বালি লুট হচ্ছে।
কয়লা খনি, স্পঞ্জ আয়রন কারখানা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য, নদী দখল, তার জল লুটে সিঙ্গারন আজ ধ্বস্ত। বিপন্ন নদীপাড়ের জনজাতিদের জীবন-জীবিকা। এমনিতেই এসব শুষ্ক অঞ্চলে চাষ কম হয়, জল সঙ্কটে তা আরও কমছে। মৎস্যজীবীদের জীবিকারও ক্ষতি হচ্ছে।
২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর নদীপাড়ের বাসিন্দারা গড়ে তোলেন 'সিঙ্গারন নদী বাঁচাও কমিটি'। কমিটির তরফে সরকারের নানা মহলে চিঠি, স্মারকলিপি প্রদান, প্রচার, পথ অবরোধ সহ নানা ধারাবাহিক কর্মসূচি হয়ে চলেছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সহ নানা দপ্তরে এর আগে থেকেই অনেকে অভিযোগ জানিয়ে চলেছেন। সিঙ্গারন নদী বাঁচাও কমিটি, দেশজুড়ে নদী বাঁচানোর আন্দোলনের জন্য গড়ে ওঠা 'নদী বাঁচাও জীবন বাঁচাও আন্দোলন'-এর শরিক হয়েছে।
গত ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি তাদের উদ্যোগে নদীর প্রবাহপথের পার্শ্ববর্তী জনপদ ধরে হয়ে গেল দু'দিনের পদযাত্রা। জামুরিয়ার ইকড়া থেকে শুরু করে রাণীগঞ্জ, অণ্ডাল হয়ে এটি শ্রীরামপুরে নদী মোহনার কাছাকাছি শেষ হয়। পদযাত্রায় সামিল হয়েছিল, 'নদী বাঁচাও জীবন বাঁচাও আন্দোলন', পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী লোকশিল্পী সংঘ, কুরুক আদিবাসী একতা পরিষদ, আদিবাসী সারনা সংঘ প্রভৃতি সংগঠন। যৌথ জীবনযাপন, জল জঙ্গল জমি-র প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, গ্রামের মহিলাদের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ড, আদিবাসী নৃত্য, স্লোগানে বর্ণময় ছিল এই পদযাত্রা। পদযাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে নদীসভা, নদী পাড়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। মিছিল থেকে বারে বারে স্লোগান ওঠে - 'আমার নদী, আমার গাঁ/ কর্পোরেটের হবে না'।
সিঙ্গারন বাঁচানোর লড়াই শুধু নদীপাড়ের বাসিন্দা বা পশ্চিম বর্ধমান জেলার লড়াই নয়। সিঙ্গারনের জল দূষিত করছে দামোদরকে। সেই দূষিত জলই বয়ে যাচ্ছে দামোদর ও তার নানা শাখা নদী দিয়ে। এসব নদীর জলে পূর্ব বর্ধমান, হুগলী, হাওড়া জেলার বড়ো অংশের চাষবাস নির্ভরশীল। সেই দামোদর আবার মিশছে গঙ্গায়। এভাবে বিষ ছড়াচ্ছে চারিদিকে। গঙ্গা দূষণ রোধের জন্য কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হয়। কিন্তু, তার অসংখ্য উপনদীকে বাঁচাতে না পারলে গঙ্গাও বাঁচে না। প্রকৃতি-পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে থাকে। বহু প্রজন্ম ধরে প্রকৃতির সঙ্গে সহবাস করা জনগোষ্ঠীগুলো সেসব জানে। পুঁজির স্বার্থে নেওয়া একের পর এক প্রকল্পে তারাও জীবিকা, বাসভূমি, সংস্কৃতি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে।
আজ পরিবেশ সংক্রান্ত আইনগুলিও পুঁজির দাবি মেনে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। গ্রামসভার মতামত, জনশুনানির পরোয়া না করে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিণামে হারিয়ে যাচ্ছে সিঙ্গারনের মতো অসংখ্য ছোটো নদী। ভয় হয়, তথাকথিত এই উন্নয়ন যজ্ঞে সারা বিশ্বই না 'খেলনা নগর' হয়ে যায়।
তথ্যঋণ:
১) সুরজিৎ সুলেখাপুত্র, 'অল্প লইয়া থাকি': পশ্চিম বর্ধমান জেলার ছোটো নদীগুলির পরিচয় ও সংকট - পশ্চিম বর্ধমানের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, পরম্পরা।
২) বিকাশ এস. জয়নাবাদ, সিঙ্গারন নদীর গল্প, ভূমধ্যসাগর, মে, ২০২৫।
৩) অজিত কুমার কোঁড়া, সিঙ্গারন নদীর কথা, আসানসোল শিল্পাঞ্চলের উদ্যোগ, জানুয়ারি, ২০২৬।