আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা ● ১-১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ● ১৬-৩০ মাঘ, ১৪৩২
প্রবন্ধ
তাড়াতাড়ি চাই না, বললেই হবে না
অম্লানকুসুম চক্রবর্তী
প্রখ্যাত অনলাইন খুচরো বিপণিতে অর্ডারটি প্লেস করার প্রায় পঁচিশ মিনিট পরে বাড়ির কলিংবেল বাজল। মনটা ফুরফুরে ছিল বেশ। দিনকয়েক আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দশ মিনিটের ডেলিভারির ফরমান। মনে হচ্ছিল, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, সিগনাল ভেঙে, অন্য গাড়ির সঙ্গে তুমুল রেষারেষি করে লোকের বাড়িতে জিনিস পৌঁছে দেওয়ার জমানা শেষ হল। ডেলিভারি বয়দের নিরাপত্তা বাড়ল। শপিং কার্ট পূর্ণ হওয়ার পরেই মোবাইলে স্টপওয়াচের মতো ছুটতে শুরু করত যে টাইমার, তাতে লেখা হল দ্য এন্ড। সত্যি কথা বলতে, পিঠে বিরাট ব্যাগ নিয়ে রাস্তা দিয়ে প্রায় উড়ে চলা গিগ কর্মীদের দেখে বেশ কষ্ট লাগত। যাক। এবারে তাহলে ওই ছেলেগুলোর মুখে হাসি ফুটবে। তবে কলিংবেল বাজার পরে ডেলিভারি বয়ের যে মুখ দেখলাম, তাতে হর্ষ নয়, এক প্রশ্নচিহ্ন আঁকা ছিল। আমার হাতে তুলে দিল ব্যাগ। মুখে প্রবল উদ্বেগ। এর পরের কথোপকথন ছিল অনেকটা এ রকম।
- রেটিংটা ভাল দেবেন। অবশ্য ফাইভ স্টার পেয়েই বা আমাদের আর কী লাভ। আর কয়েকদিনের মধ্যে সব শেষ হয়ে যাবে স্যার।
- একথা বলছ কেন? এখন তো সুখের দিন। কী তাড়াহুড়ো করতে তোমরা বলতো। খুশি হচ্ছ না কেন?
- কিছু মনে করবেন না স্যার। আমি কিন্তু বিএসসি পাশ। সমীকরণের পিছনে থাকে অন্য সমীকরণ৷ যেটুকু পড়েছেন খবরের কাগজে, তার থেকে অনেক বেশি কিছু আপনারা পড়েননি। জানেন না। এই পোড়া বাজারে কিছুই করে উঠতে পারলাম না, এই এক ডেলিভারি বয়ের চাকরি জোগাড় করা ছাড়া। কিছুদিন পরে এটাও থাকবে না।
- আমি বিশ্বাস করি না। ভাল খবরেও খুশি না হওয়ার অভ্যাস আমাদের জন্মগত।
- এর আগেও তো অগুণতিবার আপনার বাড়িতে ডেলিভারি করেছি আমি। কত মিনিটে আসতাম?
- আট থেকে দশ মিনিটে। ছয় সাত মিনিটেও এসেছ কয়েকবার। দিব্যি মনে আছে।
- আজ কত মিনিটে এলাম?
- পঁচিশ মিনিট।
- দশ মিনিটের জায়গায় যদি পঁচিশ মিনিট করে লাগে, তাহলে আমাদের কোম্পানির দিনে কতগুলো অর্ডার বাতিল হবে?
- এভাবে তো ভাবিনি ভাই।
- আপনারা ভাববেন না। শুধু খবরটুকু পড়েই মনের মধ্যে আনন্দের হাওয়া। হায় রে। যে পরিমাণ অর্ডার বাতিল হবে তার সংখ্যা কত জানেন? ভাবতে পারবেন না। ব্রেনে ঝিলমিল লেগে যাবে।
- হুমম।
- জানি, এটা ছাড়া আর কিই বা বলবেন! এত অর্ডার ক্যানসেল হয়ে গেলে কোম্পানির রেভিনিউ কমবে। ব্যবসা পড়ে যাবে।
- ঠিক।
- আর অর্ডারের সংখ্যা যদি ভয়ঙ্করভাবে কমে যায়, তাহলে এত লোক রাখার কি প্রয়োজন আছে?
- নেই। কিন্তু উল্টোটাও তো হতে পারে। লোক নিয়োগ হতে পারে আগের থেকে বেশি, যাতে অর্ডার বাতিল না হয়।
- আপনি ক্ষেপেছেন? এই বাজারে আরও রিক্রুটমেন্ট?
- হতেও তো পারে। কে জানে!
- ছোট মুখে বড় কথা হয়ে যাবে। তাও বলছি। আপনি কি এখনও ঠাকুরমার ঝুলি পড়তে পড়তে ঘুমোন?
- হঠাৎ এ কথা কেন?
- একদম রূপকথার রাজ্যে বাস করছেন। আচ্ছা আসি। আমার আগের মতো অত তাড়া নেই। তবে আর বেশিদিন দেখা হবে না। এবারে একেবারে বেকার হয়ে যাব।
একটু খোলসা করে বলা যাক। দেশের সমস্ত কুইক কমার্স সংস্থাকে দশ মিনিটে ডেলিভারির প্রতিশ্রুতির চমক থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ, এ ধরণের সংস্থাগুলি থেকে ‘মুহূর্তে আপনার দোরগোড়ায়’ জাতীয় শব্দবন্ধ ব্যবহার করে যেমন বিজ্ঞাপন করা হতো, সেখানে আপাতত ছেদ পড়তে চলেছে। নানা সময়ে দেখা কয়েকটি বিজ্ঞাপনের কথা মনের মধ্যে উজিয়ে এল। শহরের এক বিখ্যাত উড়ালপুলের অ্যাপ্রোচ রাস্তার ধারে এক বিরাট হোর্ডিংয়ে দেখেছিলাম - ট্রাফিক সিগনালে আপনি এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন কম করে দশ মিনিট। কিন্তু এর মধ্যে আপনার বাড়িতে পৌছে যেতে পারে মাসকাবারি বাজার। মান্থলি গ্রোসারি। অর্ডার নাউ। একটি ফুড ডেলিভারি সংস্থার সগর্ব ঘোষণা ছিল - ঠিক সময়ে ডেলিভারি না হলে আইসক্রিম, ক্রিম হয়ে যায়। ক্রিকেটম্যাচ চলাকালীন উন্মাদনায় চিপস, ঠাণ্ডা পানীয় ফুরিয়ে গেলে এক ওভার পেরনোর আগেই তা বাড়ির সামনে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলেছিল অন্য একটি সংস্থার থেকে। দেখেছি, মোবাইল ফোনের পর্দা চৌচির হয়ে স্ক্রিন থেকে চকোলেট ঢুকে যাচ্ছে গ্রাহকের মুখে।
প্রতিটি অ্যাপের মধ্যে কী জাদু পুরে রাখা রয়েছে জানি না। কোনো কাজের দিনে সন্ধে সাড়ে সাতটা বাজলেই নোটিফিকেশন স্ক্রিন থেকে টুকি মেরে বলে, অনেকক্ষণ কাজ করে তুমি নিশ্চয়ই ক্লান্ত। চনমনে হয়ে যাও এক কাপ কড়ক চা দিয়ে। সঙ্গে জাম্বো সিঙাড়া। পাঠাই দশ মিনিটে? সেই একই অ্যাপ আবার রবিবার রাতে ন’মিনিটে ধোঁয়া ওঠা চিকেন বিরিয়ানির প্রলোভন দেখিয়ে বলে, কাল থেকেই তো আবার একটা একঘেয়ে সপ্তাহ। একটু সেলিব্রেশন হয়ে যাক। প্যাক করছি তাহলে তোমার জন্য। পাঠাই? রয়েছে এমন আরও অজস্র বিজ্ঞাপন, পুশ মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা - প্রলোভন। প্রতিটির মূল উপজীব্য একটিই - চোখের পলক ফেলতে যতটুকু সময় লাগে, তার আগেই আমরা করব আপনার শখপূরণ।
মার্কেটিং ম্যানেজমেন্টের এক অধ্যাপকের থেকে চমকপ্রদ তথ্য পেলাম। কনজিউমার বিহেবিয়ারের গোপন-গহীন-জটিল অন্দরমহলের আমরা কতটুকুই বা জানি! তাঁর কথায়, "আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানো? দশ মিনিটে ডেলিভারি পেতে পেতে আমাদের বাজার করার ধরণটাই বিলকুল বদলে গিয়েছে। যেহেতু জিনিসগুলো আসছে দশ মিনিটে, আমাদের বাজার করার মধ্যেও ঢুকে পড়েছে এক অদ্ভুত তাড়া। দোকানে, অর্থাৎ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে গিয়ে বাজার করার সময় আমাদের মধ্যে এই তাড়ার সিকিভাগও থাকে না। যা আমার দরকার, তার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জিনিস উল্টেপাল্টে দেখার সুযোগ সেখানে থাকত। ট্রলিতে কোনো জিনিস রাখার সময় মনের মধ্যে কাজ করত এই চিন্তা, দাম-গুণমান-ব্র্যান্ড যাচাই করে সেরা জিনিসটাই নিয়েছি নিশ্চয়ই। এই অভ্যেস পুরোপুরি উল্টে যায় অনলাইনে শপিং কার্ট ভর্তি করার সময়। আগের বারে যা নিয়েছি, সেটাই চটজলদি ভর্তি করার চেষ্টা করে ফেলি। রিপিট পারচেজ। আইটেমের নিচে অ্যাপও তারা চিহ্ন দিয়ে দেখাতে থাকে, প্রিভিয়াসলি বট। কত মিনিট অ্যাপে কাটিয়ে কত টাকার বাজার করা হল, তা নিয়ে সেখানে রিপোর্ট তৈরি হয় প্রতিদিন।”
অবাক হয়ে শুনছিলাম কথাগুলো। এতগুলো কথা একটানা বলে উনি থামলেন খানিক। আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবলেন। ফের বললেন, "প্রতিটা অ্যাপের অন্তর্নিহিত অ্যালগোরিদম কি চায় জানো? তাদের লক্ষ্য হল, কাস্টমাররা মিনিমাম টাইম অ্যাপে কাটাবেন, ম্যাক্সিমাম টাকার বাজার করবেন। যত কম সময়ে শপিং কার্ট পূর্ণ হবে, তত বাড়বে অ্যাপের জ্যোতি।"
কুইক কমার্সের একটি সংজ্ঞা খাড়া করার চেষ্টা করা যাক। এটি হল ই-কমার্সের এমন একটি রূপ, যেখানে খুব অল্প সময়ে অর্ডার করা সামগ্রী বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। অল্প সময়ের বন্ধনী শুরু হয় ১০ মিনিট থেকে। শেষ হয় ৩০ মিনিটে। অনেকে বলেন, এ যুগ হল আলট্রা কুইক কমার্সের। কারণ, দশ মিনিটও আজকাল বিরাট অপেক্ষাপর্ব।
কুইক কমার্সের স্বর্ণযুগের শুরু কোভিড কালের পর্ব থেকে। বাড়িবন্দি আমরা শারীরিক স্পর্শ বাঁচাতে আরও বেশি করে আঙুল ছোঁয়াতে শুরু করলাম স্মার্টফোনের পর্দায়। মনে পড়ে, প্রথমদিকে আজ অর্ডার দিলে জিনিস আসত প্রায় ৪৮ ঘন্টা পরে। কয়েক মাসের মধ্যেই এই ৪৮ বদলে গেল ২৪ ঘন্টায়। মানে, এক দিনে ডেলিভারি। বিভিন্ন সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে জন্ম দিল এক অভিনব প্রতিদ্বন্দ্বিতার। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৌড় শুরু করার বাঁশির শব্দ গেল বেড়ে। প্রতিটি অর্ডার চূড়ান্ত হওয়ামাত্র সংস্থাগুলো তুমুল শব্দ করে বাজাতে শুরু করল সেই বাঁশি। তার ফল হল একটাই। ডেলিভারি বয়দের পিঠে পড়ল এক তৈরি করা তাড়ার মোক্ষম চাবুক। গড়ে ১২ মিনিটে ডেলিভারি করা সংস্থা, গড়ে ১৬ মিনিটে জিনিস পৌঁছে দেওয়া কোম্পানিকে প্রবল দুয়ো দিতে থাকল। দ্বিতীয় সংস্থা ক্ষেপে গিয়ে প্রথমটির সঙ্গে বদলা নেওয়ার চেষ্টা করল আরও কম সময়ে জিনিস পৌঁছে দিয়ে। সার্বিকভাবে যা হল তা হচ্ছে এই - ঘড়ির সেকেন্ড ও মিনিটের কাঁটাগুলি তাদের গতির স্বাভাবিক ছন্দ ভুলে গিয়ে ঘুরতে শুরু করল বনবন করে। কুইক কমার্স সংস্থাগুলির ব্যবসার পরিধি বাড়ল আশ্চর্যজনকভাবে। এলেন কিছু ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট। বিদেশ থেকেও এল মোটা মূলধন।
আর এই প্রবল হুড়োহুড়ির ফলে বাড়তে শুরু করল রেষারেষিজনিত দুর্ঘটনাও। ক্রমশ জোরালো হতে থাকল ডেলিভারি বয়দের সামাজিক সুরক্ষার দাবি। ইতিমধ্যেই বেআব্রু হয়ে গিয়েছিল এই পরিষেবা সংক্রান্ত বেশ কিছু অপ্রিয় তথ্য। জানা গিয়েছিল দুর্ঘটনাজনিত বীমা, ভদ্রস্থ কাজের সময়, নিয়মিত এবং স্বচ্ছ বেতন পরিকাঠামো, সবেতন ছুটি - মানবসম্পদজনিত এমন অনেক বিষয় থেকে উদয়াস্ত খেটে চলা ডেলিভারি বয়েরা সম্পূর্ণ ব্রাত্য। বহু গিগ কর্মীর ফিসফাসধ্বনি ক্রমশ রূপ নিল শ্লোগানে। সম্প্রতি দেশজুড়ে তাঁরা সামিল হলেন ধর্মঘটে। সমস্বরে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হল কেন্দ্র। জারি করা হল ফরমান - বন্ধ করতে হবে ১০ মিনিটে ডেলিভারির এই সংস্কৃতি। দেশের বেশ কয়েকটি কুইক কমার্স সংস্থা নির্দেশ মেনে তাদের ব্র্যান্ডিংয়ে করে দিল জরুরি রদবদল। তবে মুশকিলের বিষয় হল, এই সিদ্ধান্তের ফলে গিগ কর্মীরা 'হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন' লিখে দিয়ে বাক্যে একটি গাঢ় সবুজ রঙের দাড়ি টানতে পারলে বেশ হতো। বাতাসে বুদবুদের মতো উড়ে বেড়াচ্ছে বেশ কিছু প্রশ্ন।
একটি সরকারি সমীক্ষা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে গিগ কর্মীদের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২৩.৫ মিলিয়নে। বছর পাঁচেক আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৭.৭ মিলিয়ন। ওয়াকিবহাল শিবিরের বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, কেন্দ্রের এই নির্দেশিকার ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে কুইক কমার্স সংস্থাগুলির জয়যাত্রা। দশ মিনিটের যে রূপকথা তারা সফলভাবে গেঁথে দিতে পেরেছেন উপভোক্তাদের মস্তিষ্কের সার্কিট বোর্ডে, সেখান থেকে ক্রেতাদের বের করে নিয়ে আসা শক্ত। এই নিউ নর্মাল ক্রেতারা তা লালন করে আসছেন বিগত কয়েক বছর ধরে।
ডেলিভারি বয়দের অনেকে মিডিয়ার সামনে জানিয়েছেন অর্ডার পৌঁছনোয় দেরি করার ফলে তাঁদের উপরে লাগু হওয়া জরিমানার কথা। এই ফসকে যাওয়া টাকা তুলতে তাঁদের পরিশ্রম করতে হয় আরও বেশি করে। এক গিগ কর্মীর বলা এই লাইনগুলি কানে অনুরণিত হয় এখনও। "এনজয় করার ভাগ্য নিয়ে এসেছেন আপনারা। কিন্তু পেটটা আমাদের। কেন্দ্রের দেওয়া এই মোয়ায় ক্ষিদে মিটবে না স্যার। অর্ডার কমলে ইনসেন্টিভ কমবে। খাব কী?"
কেন্দ্রীয় নির্দেশের আগে ও পরে এক অদ্ভুত ভোলবদল হয়েছে কুইক কমার্সের অ্যাপে। এ অনেকটা পুরোনো ঊর্দি খুলে, কয়েকদিন আড়ালে রেখে, তা ফের পরে নেওয়ার মতো ব্যাপার। কোম্পানির ট্যাগলাইন কিংবা পাঞ্চলাইন থেকে দশ মিনিটে ডেলিভারির প্রমিস উধাও হয়েছে - তা নিয়ে সংশয় নেই। যে অর্ডার দশ মিনিটের মধ্যে পেতাম, নির্দেশিকার পরে তা ২২-২৫-২৭ মিনিটের রূপ নেয়। মোহময় বন্ধু দু' হাত প্রসারিত করে দিয়েছে ফের। গত তিনদিনে করা দুটি অর্ডারই বলল - অ্যারাইভিং ইন এইট মিনিটস। অর্থাৎ, বিজ্ঞাপনী ট্যাগলাইন থেকে গতি মুছল। কিন্তু তুমুল প্রতিযোগিতার বাজারে আদতে গতি গেল বেড়ে!
এই তো। রকেটের মতো চলে গেল একটি মোটরবাইক, আমার জানালার পাশ দিয়ে। আরোহী ইউনিফর্ম পরা বিখ্যাত সংস্থার ডেলিভারি বয়। এত গতি তো আগে ছিল না।
সামাজিক সুরক্ষার দাবি কি তবে কর্পূরের জ্যাকেট পড়ে থাকে? জানি না।
তবে এটুকু বুঝেছি, ঘামের গন্ধেই রূপকথা লেখা হয়। ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে পড়ে থাকে ভাঙা বাইক। রক্তাক্ত দেহ। ভর্তি হতে চাওয়া খালি পেট।
সুখ জিতে যায়।