আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা ● ১-১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ● ১৬-৩০ মাঘ, ১৪৩২
সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ: নির্বাচন ২০২৬
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচন আসন্ন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ নির্বাচন। নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি অর্থাৎ প্রার্থীদের মনোনয়ন পেশ ও প্রত্যাহার পর্ব শেষ। কেন্দ্র ভিত্তিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত। প্রচার শুরু হয়ে গেছে। দেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ। কাজেই আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলির প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আশি জন প্রার্থী বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব দলই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। তবে এগিয়ে আছে বামপন্থী দলগুলি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৭ জন বামপন্থী দলগুলোর প্রার্থী।
বাংলাদেশে বর্তমানে এক গভীর সংবেদনশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজমান। রাষ্ট্রের ভেতরে ক্ষমতার কাঠামো নড়বড়ে, প্রশাসনিক ভারসাম্য ভাঙাচোরা এবং জনজীবনে অনিশ্চয়তা ক্রমেই ঘনীভূত। এই সংকটময় বাস্তবতার মধ্যেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা দখলের এবং দেশটাকে কট্টর ইসলামিকরণের দিবাস্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস। একটি ব্যর্থ প্রকল্পের (মাইক্রোফিনান্স) সুবাদে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার নিয়ে কেলেঙ্কারির শেষে একটা উন্নয়নশীল দেশকে উগ্র মৌলবাদী ধর্মীয় আবহে এগিয়ে দিয়েছেন ড. মোহাম্মদ ইউনূস। নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চাইছেন তিনি। একজন ঋণ খেলাপি এবং অর্থ পাচারের অপরাধে অপরাধীর হাতে দেশ কতটা অসহায় হতে পারে বাংলাদেশ তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। 'আমেরিকার পুতুল' বলে পরিচিত ইউনূসের লক্ষ্য এখন উন্মুক্ত। পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরিতা এখন অতীত। গড়ে উঠেছে নতুন সখ্য। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদের নির্বাচন এবং 'হাঁ' / 'না' গণভোটের আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও নিরপেক্ষতার সীমা অতিক্রম করছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি বিনষ্টের একটি বাতাবরণ তৈরিতে মোক্ষম ভূমিকা পালন করে চলেছে।
দৃশ্যত বাংলাদেশ আজ এক গভীর ও নির্ণায়ক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। পরিকল্পিত গণ-অভ্যুত্থান, সরকারের আকস্মিক পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, এই সব বিষয় একত্রে দেশকে তার ইতিহাসের অন্যতম সংকটময় অধ্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বিরূপ পরিবর্তন ঘটে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দীর্ঘদিনের কাঠামো ভেঙে দিয়ে, প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং রাজনীতিতে অনিশ্চয়তার একটি স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হয় বাংলাদেশ। একই সময়ে দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষিত করা এবং দলটির শীর্ষ নেতাদের মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে, গ্রেপ্তার বা নির্বাসিত অবস্থায় চলে যেতে বাধ্য করে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে নির্বাচন প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা ক্রমেই জটিল ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠছে। যদিও ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, তবু রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয় এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। নিবার্চনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ দল বিএনপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই ভোটার প্রতারণা ও নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশান্তরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাসিত অবস্থান থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে একে অবৈধ ও দমনমূলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। দেশের রাজনীতি ক্রমেই প্রতিশোধ, অবিশ্বাস ও সংঘাতের এক বিপজ্জনক বৃত্তে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। বাস্তবে দেশটিতে এখন অঘোষিত গৃহযুদ্ধ চলছে। সংবাদপত্র আক্রান্ত। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণ ঘণীভূত। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিস্পর্ধা নজরে আসছে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও ইউনূস সরকারের অবস্থান স্বস্তিদায়ক নয়। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে সরকারকে চলতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা সামাল দিতে গিয়ে সে সম্পর্ক ক্রমেই বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের একাধিক প্রকাশ্য তৎপরতা - নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংলাপ, বিতর্কিত দলগুলোর প্রতি নরম অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রকাশ্য আগ্রহ - কূটনৈতিক শৃঙ্খলার সীমা অতিক্রম করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। এতে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা উভয়ই চাপের মুখে পড়ছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও এই সময়ে এক সংবেদনশীল পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ সরবরাহ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হলেও সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা স্পষ্ট। ভিসা প্রক্রিয়ায় জটিলতা, আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে ধীরগতি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস দুই দেশের সম্পর্ককে নীরব উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার এই দ্বৈততা ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি ও গভীর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং জীবনযাপনের ব্যয় দ্রুত বেড়েছে, এককথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নীতিগত স্থবিরতার কারণে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যার ফলে শিল্প ও উৎপাদন গতি হারাচ্ছে, হারাচ্ছে বিশ্ববাজারও।
বিশেষ করে গার্মেন্টস্ বা তৈরি পোশাক শিল্প - যা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস, সেটি এখন গভীর সংকটে পড়েছে। বহু কারখানা এখন হয় বন্ধ নয় সেগুলিতে উৎপাদন কমেছে। অর্ডার বাতিল হচ্ছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণসংকট ও বাজার অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অভিবাসীদের রেমিটেন্স প্রবাহে স্থবিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে রাজস্ব আদায় কমছে, বাজেট বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যাঙ্ক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সামাজিক ও মানবিক বাস্তবতাও ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও নাগরিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে হয়রানি এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সমাজজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, নারী ও শিশুর সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রশ্নের মুখে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অশুভ সংকেত বহন করছে।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই খাত থেকে আয় হ্রাস পাচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ধীরে ধীরে একটি সর্বগ্রাসী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। সার্বিকভাবে বাংলাদেশ বর্তমানে এক কঠিন গণতান্ত্রিক পরীক্ষার মুখোমুখি। একদিকে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের সম্ভাবনাহীনতা, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিভাজন, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার গভীর সংকট তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের পরিকল্পিত গণ-অভ্যুত্থান একটি নতুন কৃত্রিম সূচনার আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু সেই আশা এখনও স্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামো ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপ নিতে পারেনি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, কাঠামোগত সংস্কার এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার - এই চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে আটকে পড়ার বাস্তব ঝুঁকির মুখে থাকবে।
গণতন্ত্র হত্যা, উগ্র ইসলামী মৌলবাদ প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রয়াস, জনদুর্ভোগ, বাকস্বাধীনতা হরণ, ভারত বিরোধিতা, অদক্ষ নবীনদের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ, প্রশাসনে দলীয়করণ, নাগরিক সুরক্ষার সংকট ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা ইত্যাদি বাংলাদেশকে ক্রমশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে।
পাশাপাশি ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতে আন্দোলনকারীরা যেসব অপরাধ করেছেন তা মাফ করে দিল ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ সোমবার বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছে। রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন স্বাক্ষরিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর মূল বক্তব্য হল গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আন্দোলনে অংশ নিয়ে কেউ অপরাধমূলক কাজ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। ইতিমধ্যে মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে থাকলে অবিলম্বে তাকে নিষ্কৃতি দিতে হবে। প্রশাসন এবং আইন আদালতকে বলা হয়েছে নতুন করে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ নিষিদ্ধ হয়ে গেল। শুধু খুনের মামলার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে এই ব্যাপারে নিহত ব্যক্তির পরিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। সেই অভিযোগ কমিশন তার নিজস্ব তদন্তকারীদের দিয়ে তদন্ত করবে। তদন্তে পুলিশ প্রশাসনকে যুক্ত করা যাবে না।
এই অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফের আরেকবার একই অপরাধে দু'রকম বিধান ব্যবস্থা চালু হল। গণ-অভ্যুত্থান দমনে পুলিশ প্রশাসন যেমন দমন পীড়ন চালিয়েছিল তেমনই আন্দোলনকারীরাও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় যুক্ত ছিল। আওয়ামী লীগের দাবি ২০২৪-এর ৫ আগস্ট-এর আগে পরে প্রায় ৪০০ পুলিশ কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এই সব হত্যার ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের অবিলম্বে জামিন দিতে বলা হয়েছে। তারা প্রকৃত হত্যাকারী কিনা তা বিচার করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
অভ্যুত্থানকারীদের অব্যাহতি দেওয়া হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের বিগত আঠারো মাসে আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার কর্মী সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সিকিভাগেরও জামিন মেলেনি।
ক্ষমতা দখলে সেনাবাহিনী কি আগ্রহী নয়? ভুললে চলবে না বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে ১৮ বছরই কেটেছে প্রত্যক্ষ সামরিক শাসন এবং সেনাবাহিনীর প্রভাবে। যে কোনো সময়ে যে কোনো ফাঁক ফোকর দিয়ে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টায় তৎপর রয়েছে কিনা তা সময় বলবে।