আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা ● ১৬-৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ● ১-১৫ মাঘ, ১৪৩২

প্রবন্ধ

ফটোগ্রাফ ৫১ অথবা জে ডি ওয়াটসনের পরশপাথর

স্বপন ভট্টাচার্য


ফেলে আসা ২০২৫-এর ৬ নভেম্বর ৯৭ বছর বয়সে মারা গেলেন জেমস ড্যুই ওয়াটসন। ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণ করা তাঁর একটা টিন্ডারবক্স মডেলের জাগতিক রূপ জীবজগতের প্রতিটি সজীব কোষে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে - ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড যার নাম, সংক্ষেপে ডি এন এ।

ডিএনএ-র গঠন প্রথম থেকেই হয়ে উঠেছিল গবেষকদের মুখ্য আকর্ষণের জায়গা। সজীবতা এবং বংশগতি - এই দুইয়ের জন্যই অপরিহার্য বিবেচিত হতে গেলে ডিএনএ-র গঠনকেও একটি আকর্ষণীয় শর্ত পূরণ করতে হবে - এটিকে 'প্রতিরূপ' গঠনে সক্ষম হতে হবে। বিভাজন নয়, প্রতিরূপ কারণ মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে অপত্য কোষের জন্ম হলেও দুটি কোষই তো জীবনের সব সংবাদ অটুট রেখেই বাঁচে, ডিএনএ - যদি বংশগতির ধারক ও বাহক হয় তাহলে সেটিকে বিভাজিত হয়ে নয়, মিরর ইমেজের মতো একটা প্রতিরূপ তৈরি করে প্রজন্মান্তরে যেতে হবে। একেই বলে 'রেপ্লিকেশন' বা প্রতিরূপ গঠন। এই বিষয়টির ব্যখ্যা দেওয়াটাই ডিএনএ গঠনের একটা যুক্তিগ্রাহ্য, কার্যকরী এবং গবেষণাগারে প্রমাণযোগ্য মডেল নির্মাণে এককভাবে সবথেকে বড়ো বাধা বলে বিবেচিত হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত, ১৯৫৩-তে, ওয়াটসন তখন পঁচিশের যুবা, 'নেচার' পত্রিকায় ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে যৌথভাবে ডিএনএ অনুর একটা সম্ভাব্য মডেল প্রকাশ করতে গিয়ে উপসংহারে জানালেন -

"ইট হ্যাজ নট এসকেপড্‌ আওয়ার নোটিস দ্যাট দি স্পেসিফিক পেয়ারিং উই হ্যাভ পসচুলেটেড ইমিডিয়েটলি সাজেস্টস পসিবল্‌ কপিইং মেকানিজম ফর দি জেনেটিক মেটেরিয়াল"। বাংলা করলে দাঁড়ায়, "আমাদের নজর এড়ায়নি যা সেটা হল যে সম্ভাব্য জোড় বাঁধার (নিউক্লিওটাইডগুলির মধ্যে) কথা আমরা অনুমান করেছি তা জীনবস্তুর প্রতিরূপ গঠনের প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় একটা আশু সমাধানসূত্র বলে বিবেচিত হতে পারে"।

যে গবেষণাপত্রের প্রভাব কালাতীত, বিজ্ঞানের হল অফ ফেমে যেটির স্থান একেবারে শীর্ষে, সেটির উপসংহারে এমন একটা আন্ডারস্টেটমেন্ট দেখে অবাক লাগে বই কি!

চিত্র ১: 'নেচার' পত্রিকায় প্রকাশিত ওয়াটসন ও ক্রিকের ডিএনএ রিপোর্টের ছবি; এপ্রিল ২৫, ১৯৫৩।

এ কথা স্বীকৃত যে ডিএনএ-র গঠনরহস্য উন্মোচিত করাটা হল বিজ্ঞানের এক রূপকথা মুহূর্ত যার প্রধানতম কুশীলব ওয়াটসন। একই সঙ্গে সারা বিশ্ব এই ঘটনাকে বিজ্ঞানের করুণতম এবং সম্ভবত নিষ্ঠুরতম অধ্যায় বলেও জানে তবে সেই কারণে ওয়াটসনের অসম্ভব তীক্ষ্ণ পূর্বানুমানশক্তিকে খাটো করাটা একেবারেই ঠিক হবে না।

ঘটনাক্রমের শুরু ১৯৫১-তে ওয়াটসনের আমেরিকা থেকে কেম্ব্রিজের ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবে এসে পড়া এবং ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে পরিচিত হওয়া থেকে। ওয়াটসন ছিলেন জুলজির ছাত্র এবং তাঁর প্রথম সাফল্য ফিজিক্স-এর ছাত্র ক্রিককে কোষ-রহস্যে টেনে আনতে পারা। ডিএনএ নিয়ে তখন কাজ করছেন লন্ডনের কিংস কলেজের মরিস উইলকিনস। দক্ষ এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফার রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন এই কিংস কলেজেই উইলিকিনসের সহকর্মী হিসেবে যোগ দেন। এঁরা দু'জনেই কেলাসিত পদার্থের এক্স-রে ছবি দেখে রাসায়নিক চরিত্র নির্ণয় করতে পারেন যেমনভাবে ডাক্তার এক্স-রে দেখে রোগ সনাক্ত করেন অনেকটা তেমনভাবেই। উইলকিনস আগেই দেখেছিলেন জলীয় দ্রবণে ডিএনএ-র দুটো রূপ দেখা যায় যাদের যথাক্রমে A এবং B DNA হিসাবে চিহ্নিত করার রীতি আছে। দ্রবণে জলের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত বেশি হলে ডিএনএ অর্ধকেলাস বা প্যারাক্রিস্টালাইন B রূপ পরিগ্রহ করে আবার জল কমালে তা পুর্ণকেলাসিত বা ক্রিস্টালাইন A DNA রূপে পাওয়া যায়। অজৈব রসায়নের একজন ছাত্রী হিসাবে কেলাসধর্মী A রূপের ডিএনএ রোজালিন্ডের কাছে অধিকতর আকর্ষক ছিল সন্দেহ নেই। প্যারাক্রিস্টালাইন B DNA-র এক্স-রে ছবি তুলনায় অবিন্যস্ত বলেই রোজালিন্ডকে তা যথেষ্ট উদ্দীপিত করতে পারেনি। কোষ প্রায় জলসর্বস্ব একটা উপাদান বললেও ভুল বলা হবে না, DNA সেখানে স্বাভাবিকভাবেই B-প্রকৃতির হওয়া উচিৎ, অথচ রোজালিন্ড ডিএনএ-র ক্রিস্টালাইন রূপের প্রেমে পড়ে গেলেন। পরে ফ্রান্সিস ক্রিক বলেছিলেন,

"রোজালিন্ডের তোলা ক্রিস্টালাইন ডিএনএ-র এক্স-রে ছবি যদি আমরা আগে দেখে ফেলতাম তাহলে হয়ত আমাদেরও একই ভুল হতো"।

চিত্র ২: ফোটোগ্রাফ ৫১

রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের রসায়নে দীক্ষিত চোখ যা দেখেও উদ্দীপিত হতে ব্যর্থ হয়েছিল, ওয়াটসনের জীবনবিজ্ঞানে দীক্ষিত চোখ তা ধরে ফেলেছিল প্রথম দর্শনেই। ১৯৫৩-তে ওয়াটসন কিংস কলেজে উইলকিনসের সঙ্গে আলোচনার সময় রোজালিন্ডের একসময়ের গ্র্যাজুয়েট স্তরের ছাত্র রেমন্ড গসলিং হাজির হন আট মাস আগে তোলা B DNA-র একটা ফোটোগ্রাফ নিয়ে যেটায় পদার্থটির চেহারা কেলাসিত A DNA-এর ছবিগুলোর মতো নিখুঁত নয়, কিন্তু ইতিপূর্বে দেখা B DNA-র অন্যান্য ছবিগুলোর মতো অতটাও অস্পষ্ট নয়। এটাই হল 'ফোটোগ্রাফ ৫১' যা ওয়াটসন ও ক্রিকের 'নেচার' পত্রিকায় প্রকাশিত যুগান্তকারী পেপারটির মূল উপজীব্য। রোজালিন্ডের অনুপস্থিতিতে এবং অনুমতি ব্যতিরেকে, উইলিকিনসের তাগিদে গসলিং যে মুহূর্তে ওয়াটসনকে দেখালেন এই ছবি, সেই মুহূর্ত থেকেই ওয়াটসন এবং রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। কাহিনিতে, সিনেমায়, সঙ্গীতে নানাভাবে এই মুহূর্ত স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। লন্ডনের স্টেজে অ্যানি জিগলারের নির্দেশনায় নিকোল কিডম্যান অভিনীত 'ফোটোগ্রাফ ফিফিটি ওয়ান' বা ব্রেন্ডা ম্যাডক্স-এর বেস্টসেলার 'রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন: দ্য ডার্ক লেডি অফ ডিএনএ' অথবা বিবিসি-র ১৯৮৭-র 'দ্য লাইফ স্টোরি' সিরিজের কথা তো এখনই মনে আসছে। ব্রিটেনের ৫০ পেন্সের মুদ্রায় রয়েছে এই ছবি।

B ডিএনএ-র এই এক্স-রে ছবি ওয়াটসনের হাতে আসার আগে তাঁর সঙ্গে রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছে মাত্র তিনবার। ওয়াটসন এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফির প্রায় কিছুই জানেন না তখন আর উইলিকিনস ও রোজালিন্ড ততদিনে আলাদা আলাদাভাবে ডিএনএ যে ঘোরানো সিঁড়ির মতো প্যাঁচালো গড়নের একটা বৃহৎ অণু তা অনুমান করতে পারছেন। শুধু তাই নয়, সেটির প্রতিটা সম্পূর্ণ প্যাঁচের পরিমাপ, প্রতি দুটো নিউক্লিওটাইডের মধ্যেকার দূরত্ব মাপতে পারছেন ওই এক্স-রে বিচ্ছুরণের ছবি দেখে, কিন্তু যে জিনিসটা এঁরা কেউই অনুমান করতে পারেননি এবং যেটা ওয়াটসনের মাথায় 'ফোটোগ্রাফ ৫১' দেখার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎচমকের মতো খেলে গিয়েছিল তা হল ডিএনএ হেলিক্স বটে তবে ডাবল হেলিক্স বা দ্বিতন্ত্রী। বিজ্ঞানের এক 'খুল যা সিম সিম' এই ছবি। রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন ততদিনে ডিএনএ নিয়ে কাজ ছেড়ে দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিংস কলেজ ছেড়ে অন্যত্র বদলির খবর আসছে, তাঁর ছাত্র রেমন্ড গসলিং তাঁরই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী উইলিকিনসের কাছে পিএইচডি করতে ঢুকেছেন, এমন সময় ঝুড়ি থেকে বার করা হল আট মাস আগে তোলা ওই ছবি যা হাতে পেয়েও ফাইলবন্দি রেখেছিলেন রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন এবং তাঁর অনুমতিটুকুও নেওয়ার সৌজন্য দেখানো হল না।

চিত্র ৩: রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন, ১৯৫১, প্যারিস

এত কিছুর পরেও যেটা মনে রাখা দরকার, যা আদতে ওয়াটসন ও ক্রিককে বস্তুটার আণবিক রূপের একটা অনুকৃতি তৈরি করার পথে সাফল্য এনে দিয়েছিল তা হল 'ফোটোগ্রাফ ৫১' চোখে দেখতে পাওয়ার পরের ছয় সপ্তাহ ধরে এই দু'জনার একটা মডেল নির্মাণের অবিরাম ট্রায়াল এন্ড এরর কর্মকাণ্ড। এর মাত্র কয়েকদিন আগে নোবেলজয়ী বৈজ্ঞানিক লিনাস পাউলিং দাবি করেছেন যে তিনি ডিএনএ গঠনরহস্য উন্মোচিত করতে পেরেছেন। কেম্ব্রিজ গ্রুপের হাতে পাউলিং-এর তথ্য আসার পরে দেখা গেল তিনি কিছু ভাইটাল ভুল করেছেন। পাউলিং-এর মডেলে ডিএনএ ট্রিপল হেলিক্স, ফলে প্রতিরূপ গঠনের রহস্য আর কিছুতেই মেলাতে পারছিলেন না কেউ সেই মডেলকে সামনে রেখে। এতে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন ক্রিকের সুপারভাইজার ম্যাক্স পেরুৎজ, কেন না পাউলিংকে ঘোর অপছন্দ করেন তিনি। ক্রিককে তিনিই বলেন গঠনবিন্যাস বুঝতে মডেল তৈরির পথে যেতে। সঙ্গে তুলে দেন ১৯৫২-তে কিংস কলেজ ভিজিটের সময় হাতে আসা রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের ডেটা। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে খুব একটা গোপনও ছিল না রোজালিন্ডের কাজ, কেবল রোজালিন্ডই অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন অভীষ্টের কতটা কাছাকাছি তিনি পৌঁছেছিলেন। পরে পেরুৎজ স্বীকার করেছেন রোজালিন্ডকে না জানিয়ে তাঁর ডেটা ছাত্রের (তিনি ছিলেন ক্রিকের গাইড) হাতে তুলে দেওয়াটা ভুল হয়েছিল। আদর্শ হত 'নেচার'-এ প্রকাশিত ডিএনএ পেপারটিতে ওয়াটসন- ক্রিকের সঙ্গে মরিস উইলকিনস এবং রোজালিন্ডের নাম সহলেখক হিসাবে থাকা। বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বঞ্চনা হিসেবে এই ঘটনা মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাবে, কিন্তু শোনা যায় উইলকিনস সহ-লেখক হবার আহ্বান পেয়েও প্রত্যাখ্যান করেন, এই কারণে যে রোজালিন্ডের সঙ্গে তিনি তা হবেন না কিছুতেই। এহ বাহ্য, মডেল বানানোর পরে এবং পেপার লেখার আগে ওয়াটসন ও ক্রিক উইলকিনস ও রোজালিন্ড দু'জনকেই সেটি দেখতে ডাকেন এবং সেখানেই নাকি উইলকিনস প্রস্তাব দেন, ওয়াটসনদের পেপার যেমন যাচ্ছে যাক, তিনি ও রোজালিন্ড আলাদা আলাদা করে অন্য দুটি পেপার লিখবেন। বস্তুত হয়েছিল তাই, 'নেচার' পত্রিকার ঐ একই ইস্যুতে ওয়াটসন-ক্রিকের ডিএনএ পেপারের পরের দুটো পেপারই হল যথাক্রমে উইলকিনস এবং রোজালিন্ডদের। ১৯৬২-তে নোবেল কমিটি ওয়াটসন-ক্রিকের সঙ্গে উইলকিনসকেও পুরস্কৃত করল, মৃত্যুর পরে নোবেল কাউকেই দেওয়া হয় না, নয়তো ভাবতে ইচ্ছে করে, রোজালিন্ড অবশ্যই বিবেচিত হতেন।

চিত্র ৪: ওয়াটসন-ক্রিক ও তাঁদের করা ডিএনএ মডেল

ওয়াটসনকে ভিলেন বানিয়েছে তাঁর নিজেরই ভাষ্য যা বিধৃত রয়েছে তাঁর বেস্টসেলিং নভেলাসদৃশ স্মৃতিকথা 'দ্য ডাবল হেলিক্স'-এ। ওয়াটসন এই বইতে রোজালিন্ডকে কলহপ্রবণ, অসহযোগী এবং ভয়ংকরভাবে আবেগপ্রবণ এক চরিত্র হিসাবে উপস্থাপিত করেছেন। তাঁর চেহারা নিয়েও কুমন্তব্য করতে ছাড়েননি। পরিশিষ্টে যদিও রোজালিন্ডের কাজের জন্য স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতাবোধের ইঙ্গিত রেখেছেন, ততদিনে রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন কর্কটরোগের শিকার হয়ে পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছেন মাত্র ৩৭ বছর বয়সে।

চিত্র ৫: 'দ্য ডাবল হেলিক্স': প্রচ্ছদচিত্র

ওয়াটসন বেঁচে ছিলেন আরও ৬৭ বছর কিন্তু শেষ জীবনে বেঁচে ছিলেন নিন্দিত হয়ে। বিজ্ঞানে সফলতা বা ব্যর্থতাকে তিনি গুরুত্ব দিতেন ডিএনএ বাহিত বংশগতির খবরাখবরকে। বিজ্ঞানে খুব বড়ো স্থান পাবার পথে নারীর সবচেয়ে বড়ো বাধা তার ডিএনএ-তেই রয়েছে এমন মতামত তিনি এমন নব্বই বছর বয়সেও দিয়েছেন। আফ্রিকানদের জীনগতভাবেই প্রায় অবমানবের দলে ফেলেছেন। অপসারিত হয়েছেন নিজের তৈরি প্রতিষ্ঠান 'কোল্ড স্প্রিং হার্বার' থেকে। তিনিই প্রথম নোবেলজয়ী যিনি পদকটাই বিক্রি করে দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিই যে ডিএনএ-র জে ডি (ওয়াটসন) একথা ইতিহাস ভুলবে কীভাবে! ডিএনএ যে দ্বিতন্ত্রী এবং তন্ত্রী দু'খানা যে পরস্পরের বিপরীতমুখী, তন্ত্রীদ্বয়ের নিউক্লিওটাইডগুলো (বেস) যে পরিপূরকতার সূত্র মেনে জোড় বাঁধে তা জানিয়েছিলেন তিনি ও ক্রিক। হিরো বা ভিলেন যাই হোন না কেন, একজন 'রঙড্‌ হিরোইন'-এর নাম ওয়াটসনের সঙ্গে জড়িয়ে রইল একটা অনৈতিকতার কারণে এটা তাঁকে শেষ দিন পর্যন্ত পীড়া দিয়েছিল কিনা তা জানা যাবে না, কারণ তিনি জ্ঞানত তা প্রকাশ করেননি।

আমরা যারা তাঁর কাজ, তাঁর বেস্টসেলার এবং তাঁর লেখা টেক্সট বই পড়ে বিষয়টাকে ভালবাসতে শিখেছি তাদের কাছে অল টাইম গ্রেট জে ডি-র জন্য ওই তিক্ততাটুকু থেকে গেল।