আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ অষ্টদশ সংখ্যা ● ১৬-৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ● ১-১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩
প্রবন্ধ
ঠুলি আইন
সুমন্ত্র চট্টোপাধ্যায়
আইনের দেবী বা জাস্টিসিয়া-র মূর্তি আমরা সবাই চিনি। তাঁর এক হাতে দাঁড়ি পাল্লা অন্য হাতে একটি তলোয়ার ও চোখ কাপরে বাঁধা। এই চোখ বাঁধার অর্থ হল আইনের - নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও সমদর্শিতা। যাঁদের মনে হয় সঠিক বিচার পেলেন না, তাঁরা ভাবেন ‘দেবীর চোখ যেহেতু বাঁধা সঠিক বিচার থেকে তাঁরা বঞ্চিত হলেন।“ যাই হোক সে ব্যাখ্যার বিতর্কে আমরা এখন যাব না। আমাদের আজকের বিষয়ের সাথেও জড়িয়ে আছে এই আইন এবং ঠুলি – তবে একটু অন্য ভাবে। সে কথায় আসছি।
গত পঞ্চাশ বছরে কলকাতায় যে সব ঘটনা সব থেকে বেশী সাড়া ফেলেছিল তার মধ্যে একদম প্রথম সারির ঘটনা হল ২০২৪ সালের ৯ই আগস্ট ঘটে যাওয়া আর জি কর হাসপাতালে নারকীয় এক হত্যাকাণ্ড। কর্তব্যরতা এক মহিলা চিকিৎসক – কে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। এর পরে শুরু হয় প্রতিবাদ, রাতজাগা – যার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য ছাড়িয়ে দেশে এবং তারপর ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বেশ খানিকটা বিপাকে পড়েন শাসক দল। তার অনেক কারণ ছিল, সেসবের মধ্যে আর নতুন করে যাচ্ছি না। বা সেটা বিষয়ও নয়। যেটা বিষয়, সেটা হল সেসময় রাজ্যের আনা একটি বিল। যার নাম ‘অপরাজিতা’ বিল। সেই বিলে ছিল ধর্ষণ এবং হত্যা প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড অনিবার্য। সকলেই জানেন আমাদের দেশে কোন সরকার বিধানসভায় কোন বিল পাশ হলে সেটিকে আইনে রূপান্তরিত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারেন। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করলে সেটিকে আইনে রূপান্তরিত করেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্য তা আর হয় নি। বিধান সভায় পাশ হয়েছিল কিন্তু আইন কিন্তু আর হয় নি। কেন্দ্রের সরকার বা অন্যন্য বিল বিরোধীদের বক্তব্য ছিল প্রচলিত আইনের মধ্যেই এ ধরণের অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে। কাজেই নতুন কোন আইনের আর প্রয়োজন নেই। এ কথা যাঁরা বিল এনেছিলেন তাঁরা জানতেন না এরকম ভাবার কোন কারণ নেই। তাঁরা এও জানতেন একে আইনে পরিণত করতে গেলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা অভিনিয়ম-এ পরিবর্তন আনতে হবে। যার সম্ভাবনা খুবই কম। আর এতো বড় মারাত্মক নতুন ধরণের আইন। যতদূর জানি কোন অপরাধে নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড এমনটা আমাদের দেশের আইনে নেই। ফৌজদারি কোন আইন শুধু একটি রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে দেশের রাষ্ট্রপতির অনুমতি প্রয়োজন। আবার কেন্দ্রে রয়েছে বিরোধী সরকার।
তাহলে আইনে পরিণত হবে না জেনেও তাঁরা বিল এনেছিলেন কেন?
অত্যন্ত সহজ এটা বোঝা। তাঁরা বোঝাতে চেয়েছিলেন এ ধরণের অপরাধের ব্যাপারে তাঁদের একেবারে ‘জিরো টলারেন্স’। যদিও ঘটনার আগের প্রেক্ষিত তৈরিতে তাঁরা যা করেছিলেন এবং ঘটনার অব্যবহিত পরে তাঁদের আচরণে এই জিরো টলারেন্স-এর কোন ইঙ্গিত মানুষ পায় নি এবং মানুষের ক্রোধ দিন দিন বাড়ছিল। আর তা বুঝতে পেরেই সেই ক্রোধ প্রশমিত করতে এবং ‘উই অলসো ওয়ান্ট জাস্টিস’ গোছের একটা বার্তা দিতে আনা হল এই বিল।
দেশের সাথে অন্য দেশের সম্পর্ককে বলা হয় ‘কূটনৈতিক সম্পর্ক’। এই সম্পর্ক অবশ্যই সময়ের সাথে জড়িত। আজ যার সঙ্গে একটি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে কাল তার সাথে সে সম্পর্ক থাকবে এমন কোন কথা নেই। অক্টোবর বিপ্লবের পরে অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। কিন্তু এই সম্পর্ক ছাড়াও বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শাসকের মধ্যে একটা অলিখিত সম্পর্ক আছে যা দেশ বা কালের গণ্ডী মানে না। এবং এই সম্পর্ক তথাকথিত কূটনৈতিক সম্পর্কের থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী এবং অনেক বেশী গভীর।
একটা উদাহরণ দেই। ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধী জরুরী অবস্থা ঘোষণা করলেন। এই জরুরী অবস্থা ঘোষণা করলেন যে আইনের বলে তা সরাসরি জার্মানির ওয়েইমার রিপাবলিকের ‘সাসপেন্সন অফ ফান্ডামেন্টাল রাইটস ডিউরিং ইমার্জেন্সী’ দ্বারা প্রভাবিত। এ কথা আরও এই কারণে বললাম – জনগণের ক্রোধ বা বিক্ষোভ প্রশমনের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন, এমন যার আসলে প্রয়োজন ছিল না, অথবা কার্যকর করা সম্ভব নয় – এ ঘটনা সারা পৃথিবীতে বারবার ঘটেছে। এসব আইন মানুষের চোখে ঠুলি পড়াবার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে আর সেটাই ছিল উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটা মত আছে কোন বড় ঘটনা চাপা দেবার সব থেকে ভাল অস্ত্র হল এনকোয়ারি কমিশন। এও যেন অনেকটা সেরকম ব্যাপার।
১৩৪৬ – ১৩৫৩ সমগ্র ইউরোপের ওপরে নেমে আসে এক ঝড় – প্লেগের প্যান্ডেমিক। সেই প্যানডেমিকে মারা যান প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ, অর্থাৎ তৎকালীন জনসংখ্যার অর্ধেক। শিল্প বিপ্লব আসতে তখনও চারশো বছর বাকি। কাজেই উৎপাদন পুরোটাই শ্রমিক নির্ভর। আর এই প্যানডেমিকের ফলে শ্রমিকের সংখ্যা ভয়ঙ্কর রকম কমে যাওয়ায় মালিকেরা বাধ্য হলেন মজুরী বাড়াতে। এই বাড়তি মজুরী দেবার কষ্ট মালিকেরা মেনে নিতে রাজী ছিলেন কিন্তু তারা ক্ষেপে গেলেন অন্য কারণে। হাতে দুটো পয়সা বেশী পেয়ে গরীব মানুষ আগের থেকে ভাল কাপর জামা পরতে লাগলেন। কিনতে লাগলেন রেশমের কাপর এবং দামী খাবার যা আগে শুধু নোবিলিটির এক চেটিয়া বলে গণ্য করা হত। কিন্তু রাজার ঘরে যে ধন আছে ‘টুনি’-র ঘরেও সে ধন থাকবে এটা রাজা আর তার লোকজন মানেন কি করে? আরও একটা ব্যাপার ছিল। দামী বা পশমের কাপড় শুধু ইংল্যান্ড বানায় না, বানায় বেলজিয়াম নেদারল্যান্ডের মত দেশও। এই ‘ফ্লেমিশ’ জনগণ রাজার শত্রু। তাদের ভাতে মারতে হবে।
ব্যাস তৃতীয় এডওয়ার্ড পাস করে দিলেন বিলাসিতা রোধক আইন। কোন শ্রেণীর এবং পেশার মানুষ কীরকম পোশাক পড়তে পারবেন এবং কী খাবার খেতে পারবেন তা একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খ করে বলে হয়ে গেল। সে আইন ভাঙলে টুনির ধন রাজা তো নিয়ে নেবেনই আরও অনেক কিছু হতে পারত। এতে অনেকটা ঠাণ্ডা হলেন অভিজাত সম্প্রদায়। আর এটাও বলে রাখি রাজা এডওয়ার্ড-কে এই আইন মাথা খাটিয়ে বার করতে হয় নি। খৃষ্টের জন্মের দুশো বছর আগে অনুরূপ আইন প্রচলিত ছিল রোমান সাম্রাজ্যে। এখন এমনটা কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন এই আইনে ভুলটা কোথায়? অভিজাতরা তো খুশী হলেন এবং সেটাই তো দরকার ছিল রাজামশায়ের। কথাটা ঠিক। কিন্তু এতো আংশিক ব্যাপার। আসলে ঘটল উলটোটা। ফ্লেমিশ দ্রব্যের আমদানি ও কালোবাজারি গেল অনেক বেড়ে। তাছাড়া সর্বত্র সরকারী নজরদারী না থাকায় এই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাতেও বিশেষ অসুবিধে হল না। এবং সব থেকে বড় কথা এরকম আইন এনে রাজা আপামর জনসাধারণের ভরসা হারালেন।
১৯৫০-এর দশক। আমেরিকান গণমাধ্যম এবং চলচ্চিত্র (যেমন ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’) শহুরে তরুণদের মধ্যে কিশোর অপরাধকে ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যকর-ভাবে উপস্থাপন করেছিল। পত্রিকা ও রাজনীতিবিদরা হিংসাত্মক অপরাধের এই ঢেউকে উস্কে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে সুইচ-ব্লেড কে তুলে ধরেছিলেন। নড়েচড়ে বসতেই হল সরকারকে। ১৯৫৮ সালে পাস করা হল ‘সুইচ-ব্লেড নাইফ এ্যাক্ট’। সুইচ ব্লেড হল ভাঁজ করা সেইসব ছুরি যা সুইচে আঙুল ছোঁয়ালে লাফিয়ে খুলে যায়। এই আইনে বলা হল এক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে এই ছুরি বানিয়ে পাঠানো যাবে না। ডাকে পাঠানোও নিষিদ্ধ। কিন্তু কোন লোকের কাছে এরকম ছুরি থাকা চলবে না এরকম কোন কথা কিন্তু সেই ফেডারেল আইনে বলা ছিল না। সেটা সম্পূর্ণ ছাড়া ছিল আঞ্চলিক আইনের ওপরে।
বলা বাহুল্য এতে বিশেষ কাজ হয় নি। হামলা, হত্যা এবং লুকানো অস্ত্র বহনের বিরুদ্ধে প্রচলিত ফৌজদারি আইনগুলো ইতিমধ্যেই সহিংস অপরাধগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। একটি নির্দিষ্ট ধরণের ছুরি নিষিদ্ধ করা কিশোর অপরাধের হার কমায় নি; এটি কেবল যুব বিদ্রোহের একটি দৃশ্যমান প্রতীককে লক্ষ্যবস্তু করে মধ্যবিত্তের আতঙ্ক প্রশমিত করেছিল।
এবারে এ্যাটলান্টিকের এপারে অর্থাৎ ইউরোপে আসা যাক। ১৯৯১ সালের গ্রীষ্মে, বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক ও বহুল আলোচিত কুকুরের আক্রমণের ঘটনার জেরে ইংল্যান্ডে চাঞ্চল্যকর খবরের বন্যা বয়ে যায়। বিশেষ করে যেগুলোতে আমেরিকান পিট বুল টেরিয়ার জড়িত ছিল। সে প্রজাতির কুকুর নাকি একেবারে ‘মারাত্মক’। এর মধ্যে সব থেকে বেশী আলোচিত হয় একটি পার্কে রুকসানা খান নামে একটি মেয়ের কুকুরের কামড়ে জখম হওয়ার ঘটনা। সব সময়ের মতই এখানেও ঘটল যা রটল তার থেকে অনেক বেশী। 'কিছু একটা করার' জন্য সরকারের ওপর জন-চাপ বাড়তে থাকে।
স্বরাষ্ট্রসচিব মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তড়িঘড়ি করে সংসদে ‘বিপজ্জনক কুকুর আইন ১৯৯১’ পাশ করিয়ে নেন। এই আইনে নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির কুকুর সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয় এবং অ-নিবন্ধিত কুকুর ধ্বংস করার আদেশ দেওয়া হয়। পিট বুল টেরিয়ার ছাড়া যেসব প্রজাতির কুকুর রাখা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হল তা হল ‘জাপানিজ টোসা’, ‘ডোগো আরজেন্টিনো’, ‘ফিলা ব্রাসিলিয়েরো’ ও ‘এক্স এল বুলি’।
বলা বাহুল্য এর কোন দরকার ছিল না। সে দেশে আগে থেকেই ১৮৪৭ সালের টাউন পুলিশ ক্লজেস অ্যাক্ট এবং ১৮৭১ সালের ডগস অ্যাক্ট বিদ্যমান ছিল, যা কর্তৃপক্ষকে যেকোনো বিপজ্জনক বা নিয়ন্ত্রণহীন কুকুরের মালিকদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে রেখেছিল। আইন বিশেষজ্ঞ এবং পশু-চিকিৎসকরা ১৯৯১ সালের আইনটিকে একটি তড়িঘড়ি ব্যর্থতা হিসেবে ব্যাপকভাবে নিন্দা করেছিলেন। এটি মালিকের আচরণের পরিবর্তে নির্দিষ্ট প্রজাতির কুকুরের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল, যা অনুচিত। পরবর্তী দশকগুলোতে কুকুরের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা কিছুই কমে নি।
২০০৫ সালের জুলাই মাস। বিস্ফোরণের আওয়াজে কেঁপে উঠল লন্ডন। বোমা হামলা ছিল গণ-পরিবহনকে লক্ষ্য করে চালানো চারটি সমন্বিত আত্মঘাতী হামলা, যা চারজন স্থানীয় ইসলামী চরমপন্থি দ্বারা পরিচালিত বলে দাবী করা হয়েছিল এই সব সংগঠনের পক্ষ থেকে। এই হামলায় ৫২ জন নিহত ও ৭০০ জনেরও বেশি আহত হন। ভূগর্ভে বোমা ফাটে এ্যালডগেট, এডগোয়ার রোড, কিংস ক্রশ ও রাসেল স্কোয়ার স্টেশনে। আর মাটির ওপরে একটি ডাবল ডেকার বাসে ফাটে বোমা। যারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী নন তাদের একটা বড় অংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে লাগলেন। স্বাভাবিক ভাবেই ব্রিটিশ মুসলিম সম্প্রদায় বিপন্ন বোধ করতে থাকলেন। এই অবস্থায় ব্রিটিশ মুসলিম সম্প্রদায়কে এই আশ্বাস দেওয়ার জন্য সরকারের উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছিল যে মুসলিম মানুষ সে দেশে নিরাপদ এবং ‘ইসলামোফোবিয়া’ যাতে বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে তারা সর্বদা সচেষ্ট। এনাদের উদ্বেগকে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এরকম বার্তা প্রেরণের খুবই প্রয়োজন ছিল তখন। তাই ধর্মীয় বিদ্বেষ উস্কের দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য ২০০৬ সালের বর্ণ ও ধর্মীয় বিদ্বেষ আইন প্রবর্তন করা হল।
তারপর? রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এটিকে একটি চিরায়ত প্রতীকী আইন হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। বিদ্যমান জন-শৃঙ্খলা আইনগুলোতে হয়রানি, হুমকি এবং সহিংসতায় উস্কানিকে ইতিমধ্যেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। আর আইনটি বাক-স্বাধীনতার জন্য এত বেশি উচ্চ মানদণ্ড ও ছাড় রেখে প্রণয়ন করা হয়েছিল যে, সরকার পরোক্ষভাবে বুঝে গিয়েছিলেন যে এটি খুব কম, বা আদৌ, প্রয়োগ করা যাবে না।
এর মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি আশ্বস্তকারী রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া। মানে এও সেই ‘ঠুলি’।
২০২৪ সালে আমাদের দেশে পাস হল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র রোধক আইন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সেই ছোটবেলা মানে আশির দশক থেকে শুনে আসছি। এ ক্ষেত্রেও আলাদা আইনের কতটা কার্যকারিতা বলা কঠিন। আসলে আইন তো ভাল কথা কিন্তু সব আইনের প্রণয়ন ঠিক মত হচ্ছে কি? প্রচলিত আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে খুব বেশী নতুন আইন মনে হয় দরকার নেই।
এ যেন শ্রীকান্ত-র প্রথম পর্বের ছিনাথ বহুরূপীর গল্প।
পিসেমশায় চেঁচাচ্ছেন ‘বন্দুক লাও সড়কি লাও। লাও’ত বটে, কিন্তু আনে কে?’