আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ অষ্টদশ সংখ্যা ● ১৬-৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ● ১-১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩
প্রবন্ধ
বিশ্বকর্মা, বিজেপি ও বাংলার শ্রমিক
সোহম ভট্টাচার্য
পরিপ্রেক্ষিত এবং উপলক্ষ্য
গত ১৪ই-সেপ্টেম্বর ২০২৬, কলকাতার বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের গণেশ পুজোর উদ্বোধন। মঞ্চে কার্তিক মহারাজ ও শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। সেই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বামপন্থীদের তথা মূলত বামফ্রন্টের নেতা কর্মীদের ডাক দিলেনঃ "আমি কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের বলব, আমি বহুদিন ধরে চাই, বিশ্বকর্মার পুজোর দিন নবান্নে বিশ্বকর্মা ঠাকুরের আরাধনা করা হয়। আমি পুষ্পাঞ্জলি দেব। আপনারা আমার সঙ্গে আসুন। একসঙ্গে সবাই মিলে বিশ্বকর্মা ঠাকুরের সামনে পুষ্পাঞ্জলি দি। ভালো লাগবে। পরিবর্তনের স্বাদ আপনারাও পাবেন" (Times of India, 15th September, 2026). রাজনৈতিক কিংবা ধর্মের খোঁচাটুকু পাশে রাখা যাক আপাতত, কারণ ঠিক এর পরেইঃ রাজ্য সরকার একই দিনে বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বদলায়। আগে ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ছুটি ঘোষিত ছিল; নবান্ন জানায়, পুজো পড়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার), সেই দিনই সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, স্থানীয় সংস্থা এবং কর্পোরেশনে ছুটি।
এই সিদ্ধান্তের কিছু আচারের ভিত্তি আছে, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা ৩১ ভাদ্র, ১৭ সেপ্টেম্বরকে ধরে আর গুপ্তপ্রেস ১৮ সেপ্টেম্বরকে ধরে। সৌর কন্যা সংক্রান্তি ও পঞ্জিকা-দুইয়ের তর্কের মাঝে সরানো হল ছুটি। আমার লেখার আয়োজন পুজোর ধর্মতত্ত্ব কিংবা আচারের আলোচনা নয়। লেখা শ্রমের দেবতাকে ঘিরেই, ঠিক এখানেই অঞ্জলির আগে আসে দেবের আবাহন মন্ত্র এবং আমি এই লেখার শুরুতেই তাই বিশ্বকর্মার আবাহন মন্ত্রটি দিয়ে শুরু করে মূল লেখার আলোচনায় যাব।
আবাহন মন্ত্রটি, এই,
"আবাহয়ামি দেবেশং বিশ্বকর্মাণমীশ্বরম্।
মর্তাঽমর্তকরং দেবং সর্বকর্তারমদ্ভুতম্ ॥১॥
ত্রৈলোক্যসত্রকরি দ্বিভূজ বিশ্বদর্শিতম্।
আগচ্ছ বিশ্বকর্মস্ত্বং যজ্ঞেঽস্মিন্ সন্নিধো ভব। ॥২॥"
(অনুবাদ লেখকের, মূলঃ Viśvakarmā-pūjāpaddhatiḥ)।
বিশ্বকর্মা, একমাত্র দেবতা, যার দুটি হাত (দ্বিভুজ) এবং তা-ই বিশ্ব-দর্শনের জন্য যথেষ্ট। চারহাত নেই কিংবা আবাহনে অন্য কোনো দৈবী গুণ নেই। অঞ্জলিতে ফিরে আসে, "গৃহবাস্তু-বিধাতারং" এবং "শিল্পবিদ্যাবিশারদ"। বিশ্বকর্মা, একান্তই "কর্ম, শ্রম, এবং যন্ত্রের দেবতা।"
অঞ্জলির কিন্তু অন্য একটি রাজনীতি আছে। সেই রাজনীতি হাত জোড় ক'রে প্রার্থনার, যেন কাজে থাকতে পারি, যেন দুইহাতে নির্মাণে থাকি। সেখানে অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়ে, শ্রমিকের কৃষকের যন্ত্রের সামনে মালা রেখে হাত জোড় কিন্তু, এক শিল্পীর কাছে আরেক শিল্পীর কিংবা নির্মাতার আকুতি।
সেই রাজনীতিটি বিপন্ন। শাসক দলের বর্তমান নীতি এবং রাজ্যের শ্রম এবং অর্থনীতির পাশে অঞ্জলি তাই নিস্ফলের দেবতাকে, রিকশাচালক কিংবা পাম্পের মিস্ত্রির দেবতাকে, টেনে এনে সরকারি করে দেওয়ার কাজ।
বিশ্বকর্মাকে 'অঞ্জলিতে' সীমাবদ্ধ রাখার কারণটি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে, ঠিক এইখানেই, পুঁজিতে। পূজিতে নয়।
বিশ্বকর্মা এবং কর্মীর বিশ্বঃ পুঁজির সাথে ধর্মকে নবান্ন দিয়ে গুণ করে পাই?
বিশ্বকর্মা কারখানা, কামারশালা, গ্যারেজ, ছাপাখানা ও নির্মাণ কর্মীর দেবতা। পুজোর দিন যন্ত্র থামে, মালিক ও মিস্ত্রি একই বেদির সামনে দাঁড়ায়। শ্রেণি সরে যায় না। নবান্নের অঞ্জলি সেই কর্মক্ষেত্রের অনুষ্ঠানকে সচিবালয়ের প্রাঙ্গণে তোলে। প্রশ্ন তাই ধর্মীয় নয়। প্রশ্ন এখানে বিজেপির অধুনা নির্বাচিত রাজনৈতিক শ্রেণি কি সেই কর্মক্ষেত্রের মানুষ, না কি সেই কর্মক্ষেত্রের ওপর দাঁড়ানো সম্পদের মানুষ?
জাদ মাহমুদ এবং আমার পূর্বতন একটি লেখায় (স্টাডিজ ইন ইন্ডিয়ান পলিটিক্স, ২০২৫) তৃণমূল কংগ্রেসের ২০১১-২০২১ বিধানসভা প্রার্থীদের হলফনামা পাঠের মাধ্যমে, আমরা সেই দলের চারটি পেশা-ভিত্তিক চরিত্রের অধ্যয়ন করেছিলাম।
এই চরিত্রগুলিঃ চাষবাস কিংবা কৃষিকাজ, ব্যবসা, দক্ষ শ্রমের পেশা/সেবা, এবং সমাজসেবা-রাজনীতি-অন্যান্য। এক্ষেত্রে একাধিক পেশা থাকলে এবং তার মধ্যে ব্যবসা থাকলে ব্যবসাকেই আমরা প্রাথমিক পেশা ধরেছি। এই লেখাতে ২০২৬ সালের বিজেপি প্রার্থীদের পেশা এবং সম্পদের একটি আলোচনার প্রচেষ্টা রইল। পরবর্তী অংশে রাজ্যের শ্রমিক শ্রেণিগুলির আয় এবং জীবনধারণের বিপ্রতীপে শাসক দলের 'অঞ্জলি'টি বুঝে নিতে চেয়েছি।
২০২৬ বিধানসভায় বিজেপির ২৯৪ প্রার্থীর যে তালিকা (সারণি ১), তা পাঠ করলে আমরা একটি সত্যের অন্তত কাছাকাছি আসি।
২০২১ সালে তৃণমূলের ব্যবসার অংশ ছিল ৩২.৭৬ শতাংশ (২৯০ জনের মধ্যে ৯৫); চাষবাস নেমেছিল ৩.৪৫ শতাংশে। সেই তুলনাটি এখানে শুধু প্রেক্ষাপট। ২০২৬ বিজেপি, আসলেই ব্যবসায়ী এবং প্রশিক্ষিত দক্ষ (মূলত উকিল, শিক্ষক) মানুষের বিধানসভা তৈরি করেছেন। শ্রম এখানে বিকল্প।
সারণি ১। বিজেপি বিধানসভা প্রার্থী, ২০২৬: পেশা ও গড় সামগ্রিক (নেট) সম্পদ
| পেশা-শ্রেণি | প্রার্থী সংখ্যা | মোটের % | গড় নেট সম্পদ (টাকা) | কোটি টাকায় |
| ব্যবসা | ১৩৬ | ৪৬.২৬ | ৩,৭৬,২০,২৪৬ | ৩.৭৬ |
| কৃষিকাজ | ২৬ | ৮.৮৪ | ৫২,৮৯,৪৫৯ | ০.৫৩ |
| পেশা/সেবা | ৯৪ | ৩১.৯৭ | ১,৯৩,৭২,০৯৩ | ১.৯৪ |
| সমাজসেবা, রাজনীতি, অন্যান্য | ৩৮ | ১২.৯৩ | ৬৯,৮৪,৭৯৫ | ০.৭০ |
| সব প্রার্থী | ২৯৪ | ১০০ | ২,৪৯,৬৬,৯৩৩ | ২.৫০ |
উৎস: এডিআর-মাইনেতা হলফনামা। নেট সম্পদ = ঘোষিত সম্পদ − দায়। টীকা: নোয়াপাড়ার অর্জুন সিং-এর ২০২৬ হলফনামা আর্কাইভভুক্ত নয়; ২০২৪ লোকসভা হলফনামা ব্যবহার করা হয়েছে। শতাংশ দুই, দশমিকে রাখা হয়েছে (১৩৬/২৯৪ = ৪৬.২৬%)।
২৯৪ জনের মধ্যে ১৩৬ জন ব্যবসায়ী, ৪৬.২৬ শতাংশ। তাঁদের গড় সম্পদ ৩.৭৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি দক্ষ-পেশা/সেবায় ৯৪ জন (৩১.৯৭ শতাংশ), গড় ১.৯৪ কোটি। সমাজসেবা-রাজনীতি-অন্যান্যতে ৩৮ জন (১২.৯৩ শতাংশ), গড় ০.৭০ কোটি। চাষবাসে ২৬ জন (৮.৮৪ শতাংশ), গড় ০.৫৩ কোটি। সব প্রার্থীর গড় সম্পদ একসাথে দেখলে, ২.৫০ কোটি টাকা।
দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য্য (২০২৩) তৃণমূল পর্বকে, "ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজনীতি" নাম দেন: ব্র্যান্ড মমতার অধিকার স্থানীয় উদ্যোক্তারা, যেমন ঠিকাদার, নির্মাতারা ব্যবহার করেন; আনুগত্যের বিনিময়ে বৈধ-অবৈধ কাজের সুরক্ষা দিয়ে।
২০২৬-এর ইন্ডিয়া ফোরাম এর প্রবন্ধে তিনি সেই বিন্যাসকে "নন-কর্পোরেট ক্রোনিইজম" ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জুড়ে নিয়েছেন এবং নতুন সরকারের প্রকল্পকে বলেছেন "কমান্ড পলিটিক্স"।
দরকষাকষির বদলে নির্দেশ, দল ও আরএসএস-এর শৃঙ্খলা। প্রবন্ধটি এমএসএমই ও হকার অর্থনীতিতে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকিও লেখে। ঠিক এইখানে আমার প্রথম সন্দর্ভ, যে দল এখন সচিবালয়ে বিশ্বকর্মার অঞ্জলি আয়োজন করে, তার ২০২৬ প্রার্থী-সারিতে ব্যবসাই বৃহত্তম পুঁজি।
পুঁজির সঙ্গে ধর্ম গুণ করলে যে গুণফল পাওয়া যায়, হলফনামা সেটি দেয় না। হলফনামা দেয় অন্য হিসাব: দেবতা কর্মের, প্রার্থী ব্যবসার। অঞ্জলির মঞ্চ সেই ব্যবধান ঢাকে, যদি দর্শক কেবল ফুল দেখেন।
'এতে গন্ধপুষ্পে' এবং হীরকের মন্ত্রীগুলিঃ রাজ্য বিজেপির কায়িক শ্রমিকেরা অঞ্জলির মন্ত্রে ফুল ও গন্ধদ্রব্য থাকে। সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে মন্ত্রীমণ্ডলী প্রশস্তি গায়। আর হীরকরাজ লেখেন, শ্রমিকের, কৃষকের, শিক্ষকের মন্ত্র।
দুই উপাদান এখানে রূপক কিন্তু বর্তমান: পুষ্পাঞ্জলি দৃশ্যমান ভক্তি; মন্ত্রীসভা দৃশ্যমান সমর্থন।
কায়িক শ্রমিক সেই দৃশ্যে আসেন কি? দেশের শ্রমিক সমীক্ষা, পিরিয়ডিক লেবার ফোরস সার্ভে থেকে রাজ্যের সাপ্তাহিক ভিত্তির শ্রমিকের (Current Weekly Status) বন্টনের দিকে তাকালে দেখি, রাজ্যের, শ্রমিকের একটি বড় অংশই স্ব-নিযুক্ত (৫৬ %) কিংবা দিন-মজুর (২২.৫%)।
সারণি ২। কর্মসংস্থানের বন্টন (%) এবং প্রতি আর্থিক ক্ষেত্রে শ্রমিকের শ্রমের ধরণ, ২০২৩-২৪। রাজ্যে।
| শিল্প | মোট কর্মসংস্থানে অংশ (CWS %) | স্বনিযুক্ত | বেতনভুক/নিয়মিত | দৈনিক মজুরি |
| কৃষি ও সংশ্লিষ্ট | ৩৬.১৮ | ৭২.৯৬ | ৩.৩২ | ২৩.৭১ |
| খনন | ০.২৬ | ৭২.৯৬ | ৩.৩২ | ৩৩.৪৭ |
| উৎপাদন | ১৬.৬৯ | ৬০.৬০ | ২৫.৮৪ | ১৩.৫৭ |
| উপযোগ (ইউটিলিটিজ) | ০.৪৫ | ৩৭.৪২ | ৫৫.৭৮ | ৬.৭৯ |
| নির্মাণ | ১১.৪৫ | ১০.৯১ | ২.৭১ | ৮৬.৩৮ |
| সেবা | ৩৪.৯৭ | ৫১.০৭ | ৪৪.১৮ | ৪.৭৫ |
| সব শিল্প | ১০০ | ৫৫.৮৩ | ২১.৬৬ | ২২.৫১ |
উৎস: পিএলএফএস। সারি প্রতি শিল্পের অভ্যন্তরীণ ভাগ; সব শিল্প মিলিয়ে স্বনিযুক্ত ৫৫.৮৩, বেতনভুক ২১.৬৬, দৈনিক মজুরি ২২.৫১।
কৃষি এখনও বৃহত্তম সংস্থানের সূত্রে (৩৬.১৮ শতাংশ) এবং তার ভিতরে স্বনিযুক্ত ৭২.৯৬ শতাংশ। সেবাক্ষেত্রে ৩৪.৯৭ শতাংশ। উৎপাদন ১৬.৬৯ শতাংশ, তার ভিতরে স্বনিযুক্ত ৬০.৬০। নির্মাণ ১১.৪৫ শতাংশ এবং তার ৮৬.৩৮ শতাংশ দৈনিক মজুরি।
যে দেবতা নির্মাণ ও কারখানার, সেই ক্ষেত্রগুলির শ্রমিক দৈনিক মজুরিতে কিংবা স্বনিযুক্তির ভিড়ে ঠাসা। বিধানসভা প্রার্থী-সারিতে সেই নির্মাণ-মজুরের স্থান নেই।
দুই সপ্তাহ আগে, Economic and Political Weekly এর পাতায় রাজ্যের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ভিত্তি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে। মৈত্রিশ ঘটক এবং তমোঘ্ন হালদার (ইপিডব্লিউ, ২০২৬) পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্থানের হার জাতীয় গড়ের বিপ্রতীপে পাঠ করতে গিয়ে দেখছেন, রাজ্যের বাজারমুখী বৃদ্ধি আসলেই অসংগঠিত শ্রমের খাতে; কিন্তু প্রকৃত আয়ে রাজ্য পিছিয়ে। ই-শ্রম নিবন্ধনে বাঙালি বহির্গামী শ্রমিক কম-শিক্ষিত, নির্মাণ ও মূলধনী উৎপাদন বেশি যেসব রাজ্যে, দক্ষিণে কেরল ও কর্ণাটকে সেখানে পাড়ি দিচ্ছেন। নারী অভিবাসন গৃহকর্মে হরিয়ানা ও দিল্লিতে। রাজ্যের স্বল্প-শিক্ষিত অংশটি নির্মাণ-উৎপাদনে শ্রম পাঠায়, পরিবহন-সেবায় তুলনায় বেশি শিক্ষিত শ্রম নেয়। অভিবাসনের অন্য একটি সত্যি আসলেই নিম্ন আয়।
সারণি ৩। ক্ষেত্র এবং শ্রম চরিত্র অনুযায়ী গড় মাসিক আয়, রাজ্যে, ২০২৩-২৪ (টাকায়)
| খাত | স্বনিযুক্ত (টাকা/মাস) | বেতনভুক (টাকা/মাস) | দৈনিক মজুরি (টাকা/মাস) |
| কৃষি ও সংশ্লিষ্ট | ৫,৯৫৯ | প্রযোজ্য নয় | ৬,০৩৪ |
| খনন | ২০,৪৪১ | ৪৮,৮৫৭ | ৭,৯২৩ |
| উৎপাদনে | ৬,২৬৩ | ১৩,২৩১ | ৮,০৩৪ |
| উপযোগে | ৭,৮৮৭ | ১৬,৬১০ | ১২,০৪৬ |
| নির্মাণ | ১৭,৪১৭ | প্রযোজ্য নয় | ৭,৭৫৩ |
| সেবাক্ষেত্রে | ১১,৭৫৪ | ১৯,৫৬২ | ৮,৪০৯ |
| সামগ্রিক | ৮,১৪১ | ১৭,৮১০ | ৭,১৮১ |
উৎস: Earnings Average, PLFS। দৈনিক মজুরির সাপ্তাহিক আয়কে ২৬ দিন (একটি রবিবারের) এর ভিত্তিতে মাসিক আয়ে পরিবর্তন।
সব ক্ষেত্র মিলিয়ে স্বনিযুক্তের মাসিক আয় ৮,১৪১ টাকা, বেতনভুকের ১৭,৮১০ টাকা, দৈনিক মজুরির ৭,১৮১ টাকা। নির্মাণে দৈনিক মজুরি ৭,৭৫৩ টাকা; উৎপাদনে স্বনিযুক্ত ৬,২৬৩ টাকা। কৃষিতে স্বনিযুক্ত ৫,৯৫৯ টাকা। খনন-খাতের বেতনভুক আয় ৪৮,৮৫৭ টাকা - এই সারির উচ্চ প্রান্ত; সেই খাতের কর্মসংস্থান-অংশ মাত্র ০.২৬ শতাংশ। এই আয়ের উল্টোদিকে যদি আমরা আজকের বিজেপি প্রার্থীর গড় সম্পদে পৌছাতে চাই? সারণি ৪, এইখানে, 'সাধু সাবধান'।
মনে করি, অঞ্জলি দেওয়ার ঠিক পর থেকে রাজ্যে মুদ্রাস্ফিতী নেই, ঋণ নেই এবং সুদের হার নেই। আয়ের হ্রাস নেই। শ্রমিকেরা তাঁদের সম্পূর্ণ আয়-কে শুধুমাত্র যদি সঞ্চয় করেন, তাহলেও চিত্র বিপন্নতার।
সারণি ৪। গড় বিজেপি সম্পদে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় আয়-গুণক (শূন্য সঞ্চয়, শূন্য মুদ্রাস্ফীতি)
| দিগন্ত | মাসিক কিস্তি (টাকা) | স্বনিযুক্ত গুণক | বেতনভুক গুণক | দৈনিক মজুরি গুণক |
| ১০ বছর (১২০ মাস) | ২,০৮,০৫৮ | ২৫.৫৬ | ১১.৬৮ | ২৮.৯৭ |
| ২০ বছর (২৪০ মাস) | ১,০৪,০২৯ | ১২.৭৮ | ৫.৮৪ | ১৪.৪৯ |
| অমৃতকাল (২৫২ মাস) | ৯৯,০৭৫ | ১২.১৭ | ৫.৫৬ | ১৩.৮০ |
উৎস: গুণক = মাসিক কিস্তি ÷ সংশ্লিষ্ট মর্যাদার সব-খাত গড় আয়। কিস্তি: ২,৪৯,৬৬,৯৩৩ ÷ ১২০ / ২৪০ / ২৫২।
দৈনিক মজুরকে দশ বছরে মাসে ২,০৮,০৫৮ টাকা আয় করতে হয়, যা বর্তমান গড় আয়ের ২৮.৯৭ গুণ। স্বনিযুক্তের গুণক ২৫.৫৬। বেতনভুকের ১১.৬৮।
বিশ বছরে সেই গুণক অর্ধেক।
অমৃতকালের ২৫২ মাসে দৈনিক মজুরির গুণক ১৩.৮০। হিসাবটি সুদ, মূল্যবৃদ্ধি, ভোগ ও কর বাদ দেয়। তাই এটি পূর্বাভাস নয়, কিন্তু এইখানে শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ।
কায়িক শ্রমিক রাজ্য বিজেপির প্রার্থী-সারিতে খুঁজলে (কৃষিকাজে) ২৬ জন পাওয়া যায়, গড় সম্পদ ৫৩ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। ব্যবসায় সম্পদ তার সাত গুণেরও বেশি।
হীরকের মন্ত্রী যদি প্রশস্তি গান, পুষ্পাঞ্জলি যদি গন্ধ ছড়ায়, সংখ্যা তবু এই ব্যবধান রাখে।
শেষ কথাঃ গা গরমের নয়, গাঁও গেরামের কথায় আসুন
গা গরম মঞ্চের ভাষা। গাঁও গেরামের কথা সারণির ভাষা। দুই ভাষা এক নয়।
নবান্নের অঞ্জলিতে কমিউনিস্ট নেতৃত্বকে ডাকা হয় "পরিবর্তনের স্বাদ" পাওয়ার জন্য। বহুযুগ আগে, এক কমিউনিস্ট তাঁর গানে লিখেছেন, "তুমি বিশ্বকর্মা, তুমি স্রষ্টা"। সেখানেও বিশ্বকর্মার দুইহাত, সে গাঁ-গেরাম থেকে আসা শ্রমিক, সে দিন মজুর। সে শিল্পীও। সে হাতুড়ি ও বাটালির।
বিশ্বকর্মা মিস্ত্রির দেবতা, ছোটলোকের ভাষ্যে, তাই বিশ্বকর্মা মাঈ কি জয়। ঠিক সেই কারণে গাঁও গেরামের কথায় ফিরে আসা মানে প্রতিদিনের বিশ্বকর্মাকে আবাহন। শ্রমের আবাহন এবং স্বীকৃতি।
শ্রমের অঞ্জলি মর্যাদায়, ফুলে নয়, পুঁজিতে ফুলে ঢোল হলে একদম নয়।
সূত্র:
1) Zaad Mahmood ও Soham Bhattacharya, "The Roots of a Populist Regime," Studies in Indian Politics, ২০২৫।
2) Maitreesh Ghatak ও Tamoghna Halder, "Labour Market Trends and Migration Patterns in West Bengal," EPW, ২৯ আগস্ট ২০২৬।
3) Dwaipayan Bhattacharyya, "Towards a Command Society in West Bengal," The India Forum, ১৪ আগস্ট ২০২৬; এবং "franchisee politics," EPW, ২০২৩।
4) ADR MYNETA: West Bengal Assembly Election.
5) PLFS: https://microdata.gov.in/NADA/index.php/catalog/PLFS
6) Viśvakarmā-pūjāpaddhatiḥ: Vishwakarma Pooja Paddhati Upayogi Books: Free Download, Borrow, and Streaming: Internet Archive.