আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ সপ্তদশ সংখ্যা ● ১-১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ● ১৬-৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩

প্রবন্ধ

আগ্রাসী পুরুষতান্ত্রিকতা সমানে চলেছে

প্রবীর মুখোপাধ্যায়


পুণে শহরে অনুষ্ঠিত ছাত্রীদের এক সভায় 'মনুস্মৃতি' বা 'মনুসংহিতা'র সরাসরি বিরোধিতা করে আগ্রাসী পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বান রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের অনুগামীরা তারস্বরে চিৎকার করতে শুরু করে দিয়েছে - "গেল! গেল! দেশের এতদিনের সামাজিক-ধর্মীয় রীতিনীতি সব রসাতলে গেল!"

এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে রাহুল গান্ধী মৌচাকে আবার একটা ঢিল ছুঁড়েছেন আর ঢিলটা সঠিক লক্ষ্যেই আঘাত করেছে। এই আঘাত করা আজকের প্রেক্ষিতে অবশ্যপ্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের ভারতে সমাজ 'পিছন দিকে এগিয়ে চলেছে'। আমাদের আজকের দিনের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক শাসকেরা যে আগ্রাসী পুরুষতান্ত্রিক পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে আমাদের ঠেলে নিয়ে চলার চেষ্টা চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে সচেতন সক্রিয় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা আজ প্রাথমিক কর্তব্য।

পেছনে দিকের এই 'অগ্রগতি' কিন্তু একদিনে ঘটেনি। সুপরিকল্পিতভাবে আস্তে আস্তে সমাজের মধ্যে কীভাবে এই পিছন ফেরার বীজ বপন করা হয়েছে তার একটি উদাহরণ সামনে আনার চেষ্টা করছি।

রেলস্টেশনের বইয়ের স্টলে গিয়ে কী কী বই পাওয়া যাচ্ছে দেখে আমরা মনোমতো বই পেলে কিনে ফেলি। সারা ভারতে বিভিন্ন রেলস্টেশনে রেল-অনুমোদিত বইয়ের মোট ১৬৫টি স্টলের মধ্যে শুধু 'গীতা প্রেস' নামে একটি সংগঠনের অধিকারে আছে ৪৫টি স্টল। দিল্লীর কাশ্মীরি গেট বাস টার্মিনাসে 'গীতা প্রেস'-এর স্টল আছে। 'গীতা প্রেস'-এর ভ্যান সুপ্রীম কোর্ট, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও অন্যান্য অফিসের আশেপাশে বই বিক্রি করে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের বইয়ের স্টলে 'গীতা প্রেস' প্রকাশিত সব বই পাওয়া যায়। এছাড়াও বহু শহরেই ছোট ছোট দোকানে, শুধু বইয়ের দোকান নয়, গৃহস্থালীর বিভিন্ন জিনিস বিক্রয় হয় যেখানে সেখানে, এমন কী ফেরিওয়ালাদের কাছেও এদের বই পাওয়া যায়। 'গীতা প্রেস' 'হিন্দু ধর্ম' সংক্রান্ত বইয়ের বৃহত্তম বিক্রেতা। এদের প্রকাশিত পুস্তকের মোট সংখ্যা ১,৮৫০, ছাপা হয় ৭০ কোটি কপি।

দৈনন্দিন জীবনে একজন ব্যক্তির আচরণ কী হওয়া উচিত সে প্রসঙ্গে 'মনুসংহিতা' বা 'মনুস্মৃতি'তে বা অন্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থে যা বলা হয়েছে সেগুলি সর্বসাধারণের কাছে সহজবোধ্য ভাবে প্রকাশ করে চলেছে গোরক্ষপুরের 'গীতা প্রেস' নামক এই সংস্থা। 'গীতা প্রেস' প্রকাশিত ছোট বইগুলির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, এগুলি খুব সহজবোধ্য হিন্দী ভাষায় লেখা আর এগুলির দামও অন্য বইয়ের তুলনায় কম। আর এইসব বইয়ের বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক ধর্মাচরণ আর জীবনযাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। স্বভাবতই নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে এগুলি সহজপ্রাপ্য আর গ্রহণযোগ্য।

এইসব বইতে কী লেখা থাকে তার কিছু নমুনা -
স্বামী রামসুখ দাস রচিত 'গৃহস্থ মেঁ কেঈসে রহে' পুস্তিকা থেকে:

প্রশ্ন - স্বামী যদি স্ত্রী-কে প্রহার করে বা কষ্ট দেয় তাহলে স্ত্রী-র কী করা উচিত?

উত্তর - স্ত্রী-র মনে করা উচিত যে সে পূর্বজন্মের কোনও ঋণ শোধ করছে। আর এইভাবে তার [পূর্বজন্মকৃত] অপরাধ বিনষ্ট হয়ে সে ক্রমশ শুদ্ধ হয়ে উঠছে। তার পিতামাতা এই [প্রহার করা বা কষ্ট দেওয়ার] কথা জানতে পারলে তারা তাদের সন্তানকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে কারণ এই ধরণের খারাপ ব্যবহার সহ্য করার জন্য তারা তাদের কন্যার বিবাহ দেয়নি।

কিন্তু যদি তার পিতামাতা কন্যাকে নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে না নিয়ে যায় তাহলে?

স্বামীজির ধার্মিক উপদেশ:

"এই পরিস্থিতিতে ...নিজের [পূর্বজন্মের] কৃতকর্মের ফল তাকে সহ্য করতে হবে। ধৈর্যের সঙ্গে শান্তভাবে স্বামীর প্রহার মেনে নিতে হবে। আর এই ভাবে সহ্য করলে সে পাপমুক্ত হবে এবং হয়তো তার স্বামী তাকে ভালবাসতে শুরু করবে।"

আরেকটি উদাহরণ:

প্রশ্ন - বাড়িতে যেসব ইঁদুর, টিকটিকি, মশা আর ছারপোকা থাকে তাদের প্রতি কেমন ব্যবহার করা উচিত?

উত্তর - এদের পরিবারের সদস্য হিসাবে গণ্য করা উচিত কারণ এরা ঐ স্থানকে নিজেদের বাড়ি ভেবে সেখানে বাস করছে। সুতরাং তাদের এখানে বাস করার অধিকার আছে। অর্থাৎ এদের যথাসম্ভব লালন করা উচিত... লোকেরা এদের যেরকম ভাবে মেরে ফেলে সেটা একেবারেই উচিত নয়।

স্বামী বৌ পেটালে স্বামীজির কোন মতে সেটা স্বর্গীয় আদেশ; কিন্তু তিনি পোকামাকড়ের প্রতি দয়াশীল!

আরেকটি নমুনা:

ধর্ষিতা এক নারী আর তাঁর স্বামীর প্রতি স্বামীজির ধার্মিক উপদেশ:

"যত দূর সম্ভব মহিলার (ধর্ষণ-পীড়িতা) পক্ষে সবথেকে ভালো হবে চুপ করে থাকা। তাঁর স্বামীও যদি এই ঘটনার কথা জেনে ফেলেন তাহলে তাঁরও মৌন থাকাই উচিত। চুপচাপ থাকা দুজনের পক্ষেই লাভজনক হবে।"

অর্থাৎ, ধর্ষণের মত জঘন্য সামাজিক অপরাধ প্রকাশ করা ঠিক নয়, একে চেপে যাও - বলছেন এক স্বামীজি!

আবার শুনুন -
একজন মহিলা কি পুনর্বিবাহ করতে পারে?

স্বামীজির সরাসরি উত্তর:

"বিবাহের মাধ্যমে কন্যাদান করে পিতামাতা একবার তার কন্যাকে দিয়ে দিলে সে আর কুমারী থাকে না। তাহলে অন্য ব্যক্তিকে কী করে সেই কন্যাকে দান করা যেতে পারে? তাকে পুনর্বিবাহ দেওয়া পাশবিক কাজ।"

তাই না কী ? কিন্তু একজন পুরুষ কি পুনর্বিবাহ করতে পারে?

স্বামীজি বলছেন:

"প্রথম স্ত্রী কোনো সন্তান দিতে না পারলে শাস্ত্রের বিধান অনুসারে পূর্বপুরুষের কাছে তার যে পিতৃঋণ আছে সেই ঋণ শোধ করার জন্য একজন পুরুষ দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারে।"

কিন্তু পুরুষের পুনর্বিবাহ করার এটাই একমাত্র কারণ নয়।

স্বামীজির কথা অনুসারে:

এক ব্যক্তি, "যার আনন্দ উপভোগের সমাপ্তি হয়নি, সে পুনর্বিবাহ করতে পারে, কারণ সে পুনরায় বিবাহ না করলে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে, বেশ্যাবাড়ি যাবে আর নিজের ওপর কদর্য পাপের বোঝা চাপাবে। সুতরাং, সেই পাপ থেকে রক্ষা পেতে এবং শিষ্টতা বজায় রাখতে শাস্ত্র অনুসারে তার পুনর্বিবাহ করা বিধেয়।"

তাই বলে কোনো বিধবা মহিলাকে কিন্তু, এই স্বামীজির মতে, পুনর্বিবাহ করতে অনুমতি দেওয়া যায় না, যদিও তাঁকে অন্য পুরুষের রক্ষিতা হবার অধিকার দেওয়া যেতে পারে -

"এখানে সেখানে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে যদি সেই মহিলা নিজের চরিত্র বজায় রাখতে না পারেন, তাহলে সে এক পুরুষের প্রতি তার আকর্ষণ বজায় রেখে সেই পুরুষের তত্ত্বাবধানে বাস করতে পারবে।"

মহিলাদের পক্ষে পুরুষদের সম-অধিকার দাবি করা কি যুক্তিযুক্ত?

স্বামীজির স্পষ্ট জবাব -

"না, এটা আদৌ যুক্তিযুক্ত নয়। প্রকৃতপক্ষে একজন মহিলার পুরুষের মতো অধিকার নেই ...মহিলাদের মনে পুরুষের সঙ্গে সম-অধিকার লাভের আকাঙ্ক্ষার তাড়না আসে অজ্ঞানতা অথবা নির্বুদ্ধিতা থেকে। জ্ঞানবান সেই পুরুষ বা মহিলা স্বল্প অধিকার আর অধিকতর কর্তব্য নিয়ে যিনি তৃপ্ত থাকেন।"

ভেবে দেখুন কী ধরণের মানসিকতার প্রচার করা হচ্ছে।

এই একবিংশ শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ অতিবাহিত হয়ে গেছে - কিন্তু এখনও ভয়ংকর সতীদাহ প্রথার পক্ষে প্রকাশ্য প্রচার আর তাকে গৌরবান্বিত করার প্রচেষ্টা এই ধরণের পুস্তিকাতে করা হচ্ছে।

প্রশ্ন - "সতী প্রথা (অর্থাৎ স্বামীর মৃতদেহের সঙ্গে স্ত্রী-কে চিতায় জ্বালিয়ে দেওয়ার যে প্রথা) কী উচিত না অনুচিত?"

স্বামীজির উত্তর:

"স্বামীর মৃতদেহের সঙ্গে স্ত্রী-কে জ্বালিয়ে দেওয়াটা কোনো প্রথা নয়। যে-স্ত্রীর মনে সত্য ও উৎসাহ জাগরিত হয় তিনি আগুন না থাকলেও জ্বলতে থাকেন আর যখন পুড়তে থাকেন তখন তিনি কোনো যন্ত্রণা অনুভব করেন না। তাঁকে যে এমনটা করতে হবে এরকম কোনো প্রথা নেই, কিন্তু শাস্ত্রীয় ঔচিত্য অনুসারে এমনটাই তাঁর জন্য সত্য, ন্যায়নিষ্ঠা এবং বিশ্বাস... এর অর্থ, এটা কোনো প্রথা নয়। এটা তাঁর একান্ত নিজস্ব ধর্মীয় উৎসাহের প্রকাশ।"

যেসব রচনায় সতীদাহ প্রথা পুনরায় শুরু করার কথা বলা হয়েছে সে প্রসঙ্গে স্বামীজি বলছেন:

"এতে কোনো সন্দেহের অবকাশমাত্র নেই যে যে-স্ত্রী আনন্দিত চিত্তে মৃত স্বামীকে শ্মশানে অনুসরণ করেন তিনি তাঁর প্রতি পদক্ষেপে অশ্বমেধ যজ্ঞ করার সুফল লাভ করেন... একজন সতী মহিলা তাঁর স্বামীকে যমদূতের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে স্বর্গলোকে নিয়ে যান। এই পতিব্রতা রমণীকে দেখে যমদূতেরা নিজে থেকেই পালিয়ে যায়।"

এই বিষয়ে প্রভুদত্ত ব্রহ্মচারীজি একটি বই লিখেছেন যার নাম 'Cremation of a Wife with her Husband's Dead Body is the Backbone of Hindu Religion' - এই বইটিও এদের স্টলে পাওয়া যায়।

ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে পরেই দেশে প্রথম টেররিস্ট আক্রমণ ঘটে ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি। মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। 'গীতা প্রেস'-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হনুমান প্রসাদ পোদ্দার মহাত্মা গান্ধী হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্রে যুক্ত এই অভিযোগে বেশ কিছুদিন জেলবন্দী ছিলেন। সেই হনুমান প্রসাদজির নিজের লেখা পুস্তক 'নারী শিক্ষা' শুরু হচ্ছে 'সতী মাহাত্ম্য' অধ্যায় দিয়ে। 'গীতা প্রেস'-এর মুখপত্র 'কল্যাণ' পত্রিকায় সতী প্রথাকে মহিমান্বিত করে এক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। মহিলারা স্বাধীন সত্তা উপভোগ করার অধিকারী নন এটা প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন 'হিন্দু' ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি সংগ্রহ করে 'নারী ধর্ম' নামে পুস্তিকা রচনা করেন 'গীতা প্রেস'-এর অপর প্রতিষ্ঠাতা জয়দয়াল গোয়ান্দকা। এই ব্যক্তিও গান্ধী হত্যাকান্ড ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে জেলবন্দী ছিলেন। এই পুস্তিকার প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম 'স্বতন্ত্রতা কে লিয়ে স্ত্রীয়োঁ কী অযোগ্যতা'।

'শিব পুরাণ', 'মনুস্মৃতি', এই সব থেকে অনেক উদ্ধৃতি সংকলিত করেও বহু পুস্তক-পুস্তিকা 'গীতা প্রেস' থেকে প্রকাশিত হয়েছে। 'বুদ্ধিদীপ্ত, প্রতিভাবান, সাহসী ও ধার্মিক' সন্তান লাভ করার জন্য গর্ভবতী মহিলাদের কী কী রীতিনীতি পালন করা উচিত তার দীর্ঘ তালিকা এইসব রচনাবলীতে পাওয়া যায়।

এই প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে এই 'গীতা প্রেস'-কে ২০২১ সালে গান্ধী শান্তি পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করেছে মোদী সরকার। ২০২২ সালের ৪ জুন তারিখে 'গীতা প্রেস'-এর গোরক্ষপুরের প্রধান কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত হয়ে এদের শতবার্ষিকী উৎসবের সূচনা করেন। 'প্রকাশনার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার জন্য' ও বিশ্বে 'হিন্দু' ধর্মীয় গ্রন্থের বৃহত্তম প্রকাশক হওয়ার জন্য' রাষ্ট্রপতি 'গীতা প্রেস'-এর অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন।'

ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রধান নাগরিক এমন এক সংস্থাকে মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত করছেন যারা নারী-বিদ্বেষী, অবৈজ্ঞানিক, কট্টর হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক পত্রপত্রিকা ও পুস্তিকা শুধু অবাধে প্রকাশ, প্রচার ও বিতরণ করে চলেছে! ধর্মীয় সাহিত্যের খোলস পরে অমানবিক প্রচার যারা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সম্বন্ধে বিচারব্যবস্থাও নীরব। একটি সংস্থা কীভাবে সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আগ্রাসী পুরুষ-কেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তার অল্প কিছু নিদর্শন এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

হিন্দুত্বের ধ্বজা তুলে 'যুদ্ধোন্মাদনাযুক্ত পৌরুষবলে বলীয়ান জাতীয়তাবাদ' প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশ আর সমাজকে অন্ধকারের পথে ফিরিয়ে নিতে চাইছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ আরএসএস আর তার রাজনৈতিক-প্রশাসনিক হাতিয়ার বিজেপি সরকার। এই সত্য আজ স্বয়ং প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিশেষ করে দেশের যুবসম্প্রদায়ের কাছে। পুণের সভায় সেই যুদ্ধোন্মাদনাযুক্ত পুরুষতান্ত্রিকতার বিরোধিতার কথাই জোর গলায় বলেছেন রাহুল গান্ধী।

______________________________
'গীতা প্রেস' আর এর কাজকর্ম প্রসঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন Akshaya Mukul, 'Gita Press and the Making of Hindu India', 2017 বইটিতে।

'গীতা প্রেস'-এর 'গান্ধী শান্তি পুরস্কার' লাভ প্রসঙ্গে এই লেখকেরই একটি প্রবন্ধ 'আরেক রকম'-এর একাদশ বর্ষ ত্রয়োদশ সংখ্যা, (১-১৫ জুলাই ২০২৩, ১৬-৩১ আষাঢ় ১৪৩০)-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

এই লেখকের অপর একটি প্রবন্ধ 'সামাজিক আন্দোলনে গীতা প্রেসের ভূমিকা' 4numberplatform.com ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০ আগস্ট, ২০২৩ সংখ্যায় প্রকাশিত।