আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ ষোড়শ সংখ্যা ● ১৬-৩১ আগস্ট, ২০২৬ ● ১-১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩
প্রবন্ধ
আনস্পোর্টিং ফিফাঃ কেলেংকারির গ্লোবাল আখড়া
স্বপন ভট্টাচার্য
আমেরিকায় আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপের পর মাসখানেকও কাটে নি, কোথায় আলোচনা হবে মেসি, এমবাপেকে নিয়ে, স্পেন-আর্জেন্টিনা নিয়ে, ভার নিয়ে বা ভোজিনহা নিয়ে - তা নয় বিশ্বের ফুটবল জগত মথিত হচ্ছে কাপ নয়, কাপ উপচে পড়া কেলেংকারি নিয়ে। এর পেছনে মাথা যে সংস্থাটির অধিকর্তা গিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর একারই তা নয়, আরো বড়ো মাথা যাঁর রয়েছে এবং গোলমালের কেন্দ্রে তিনিই। সে মাথা যেখানে সেঁধিয়েছে, সেখানে অস্থিরতা, ভাঙচুর, বদমায়েশি এবং প্রফিটের নয়া নয়া সমীকরণ রচিত হয়েছে, ফিফা ব্যতিক্রম হবে কী করে!
বিশ্বকাপের আগে ইনফ্যান্তিনো যখন ট্রাম্পের জন্য 'ফিফা শান্তি পুরস্কার' নামের একটা নতুন অ্যাওয়ার্ডেরই প্রবর্তন ঘটালো নোবেল শান্তি পুরস্কার হাতছাড়া হবার বেদনা ঘোচাতে, তখনই বোঝা গিয়েছিল গোলমেলে কিছু একটা আছে ভেতরে ভেতরে। যে ট্রাম্প ফুটবল বলতে আমেরিকান ফুটবল ছাড়া কিছু বোঝেন বলে জানা ছিল না, তাঁর যে ফিফার ওপর শ্যেণচক্ষু পড়বেই এ অনুমান করা কঠিন নয়। বিশ্ব ক্রীড়া তো ছেড়েই দিন, রাজনৈতিকভাবেও এত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রসংঘ ব্যতিরেকে খুব কমই রয়েছে। FIFA (Fédération Internationale de Football Association) এখন বিশ্বের ২০০-র বেশি জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর্থিকভাবেও ফিফা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি। স্টক মার্কেটে উপস্থিতি নেই বলে ফিফার কোনও মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বা ভ্যালুয়েশন অন্তত অফিসিয়ালি হয় না, কিন্তু শুধু মিডিয়া রাইট থেকে এই ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার আয় হয়েছে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার। ফিফার ক্যাশ ও ইকুইটি মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণই হল প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার এবং এর মধ্যে ইকুইটি রিজার্ভ রয়েছে ২.৭০ বিলিয়ন ডলার। কত রেভেনিউ জেনারেট করে তারা? তাদেরই হিসেব বলছে ২০২৭ থেকে ৩০ সালের মধ্যে অন্তত ১৪ বিলিয়ন ডলার 'লাভ' থাকবে তাদের। সুতরাং, আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও লাভজনক সংস্থা ফিফার পুঁজির দিকে 'যথা ইচ্ছা তথা যা' মার্কা একটা নজর যে থাকবেই এটা অনুমান করা কঠিন ছিল না। সফলভাবে (সফল মানে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলাতে পেরেছেন, এই যা) বিশ্বকাপ সংঘটিত করার পরে পয়লা রাতে বেড়াল কাটার মত তৎপরতায় সেই উদ্যোগটিই নিয়েছিলেন সামনের এবং পেছনের মাথা, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে তা প্রভূত ঘেঁটে গিয়েছে বলে ইনফ্যান্তিনোর চেয়ার বাঁচানোই দায় এখন, আর প্রভুটি নাকি ফোনও ধরতে চাইছেন না তার, ভাজা মাছ তিনি চোখেই দেখেন নি। তবে ফিফা বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে আজ হঠাৎ করে নয়, বস্তুত বিতর্কের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি বেড়ে উঠেছে। ইনফ্যান্তিনো এপিসোডে ঢোকার আগে সেগুলো একবার দেখে নেওয়া মন্দ হবে না।
একটি স্বপ্নের জন্ম
ফিফার জন্ম ১৯০৪ সালের ২১ মে, প্যারিসে। সাতটি ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে FIFA প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য একেবারেই ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক, যেমন আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিন্ন নিয়ম প্রণয়ন করা, বিভিন্ন দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সহজতর করা, পেশাদারিত্বের স্বার্থে খেলোয়াড়দের নিবন্ধন ও ট্রান্সফারের নীতি নির্ধারণ করা এবং সর্বোপরি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলা। মূলত ইউরোপের দিকেই নজর ছিল তাঁদের। প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলি ছিল ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন এবং স্পেন। প্রথম সভাপতি ছিলেন ফরাসি ক্রীড়া সংগঠক রবার্ট গেরঁ (Robert Guérin)। গোড়ায় ইংল্যান্ড এই কনসর্টিয়ামে ঢুকতে চায়নি কারণ তারা খেলাটার জনক কিন্তু যথেষ্ট সম্মানের জায়গা তাদের জন্য সংস্থায় নেই এমন একটা ধারণা পোষণ করত তারা, যদিও পরে তারাও এর সদস্য হয়ে যায়। প্রথম যুগের ফিফা একটি অলাভজনক সংস্থা যার তেমন কোনও স্পন্সর নেই, বিশ্বকাপও শুরু হয় নি তখন ফলে সম্প্রচার স্বত্ত্বের কোনও প্রশ্ন ছিল না, আর্থিক লেনদেনের সুযোগ কম।
জুলে রিমে এবং বিশ্বকাপ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ফিফা প্রকৃত অর্থে একটি বিশ্বব্যাপী সংগঠনে পরিণত হয়। ১৯২১ সালে সভাপতি হন ফরাসি ক্রীড়া সংগঠক জুল রিমে (Jules Rimet)। ফিফা বিশ্বকাপের সূচনা হয় রিমের আমলে, বস্তুত তাঁর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব এটাই যে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে একটি চতুর্বার্ষিক প্রতিযোগিতায় সামিল করতে সক্ষম হন অলিম্পিকের ধাঁচে এবং অস্থির ইউরোপের তুলনায় অধিকতর নিরাপদ বিবেচনায় লাতিন আমেরিকায় তা আয়োজন করাটা ছিল তাঁর মাস্টারস্ট্রোক । ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বিশ্বকাপ। মাত্র ১৩টি দেশ অংশগ্রহণ করলেও এই প্রতিযোগিতা পরবর্তীকালে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত হয়। রিমের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্বচ্ছ। তাঁর দর্শন ছিল ফুটবল যুদ্ধ নয়; এটি নেশনগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার মাধ্যম। প্রথম কয়েক দশক ফিফা মূলত এই আদর্শেই পরিচালিত হয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ফিফা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে কোন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মত বিশ্বকাপেও তালা পড়ে এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে আয়োজিত বিশ্বকাপ এক নবজাগরণের সাক্ষী হয়ে থাকে। নবজাগরণ যে কারণে বলছি তা হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে থাকে এবং তারাও ফিফার মেম্বার হয়ে যায়। ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের বিধি আসার পরে ইউরোপের একচেটিয়া অধিকারে থাবা বসে। প্রতিটি নেশনের ভোটের গুরুত্ব সমান, সে ছোটই হোক বা বড়, প্রথম সারির ফুটবলিং নেশন হোক বা নীচের সারির, ভোট সবারই একটি করে। ফিফায় দুর্নীতির শুরুও কিন্তু এই গণতান্ত্রিকরণের ফল। ১৯৬০-এর দশকে ফিফার সদস্যসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকার নতুন দেশগুলি ভোটের ভারসাম্য পাল্টে দেয়। সভাপতি নির্বাচনে নতুন ধরনের রাজনৈতিক জোট ক্রমশ বড় ভূমিকা নিতে থাকে এবং ভোট কেনার জন্য দেদার ডলার খরচ হতে থাকে সোজা এবং বাঁকানো পথে। সোজা পথে নতুন দেশগুলোতে ফুটবল পরিকাঠামোয় অনুদান জুগিয়ে আর বাঁকা পথের রাস্তা শুরুই হয়েছে সুইস ব্যাঙ্ক থেকে। পরবর্তীকালে এই ভোট-রাজনীতিই ফিফার সবচেয়ে বিতর্কিত দিকগুলির একটি হয়ে ওঠে।
টেলিভিশন ও সম্প্রচারস্বত্ত্ব
১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকে টেলিভিশনের প্রভাব বাড়তে শুরু করে এবং ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। এই সময় থেকেই কর্পোরেট জগত সম্যক বুঝতে শুরু করে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি একটি বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় গ্লোবাল কমোডিটি - বৈশ্বিক পণ্য। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ ছিল সে নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক কারণ, বিশ্বকাপের রঙিন সম্প্রচার চালু হয় এবং দেখা যায় বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন টাইম জোনের বিপুল সংখ্যক দর্শককে একই সময়ে টেলিভিশনে বন্দী করে রাখার ক্ষেত্রে এই প্রতিযোগিতার সাফল্য প্রায় অতুলনীয় । ফলত, বাজারও বিপুল এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলি এর পর ফুটবলে বিনিয়োগ করতে শুরু করে। তখনও কিন্তু সম্প্রচারস্বত্ত্ব, স্পনসরশিপ, গ্লোবাল মার্কেটিং রাইটস ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশ্বায়ন যুগের মত বিশাল দৈত্যে পরিণত হয়নি।
জোয়াও হ্যাভালাঞ্জের জমানা
১৯৭৪ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন ব্রাজিলের জোয়াও হাভেলাঞ্জ। ফিফার পণ্যায়ণ এবং কর্পোরেটাইজেশন তাঁর আমলেই গতি পায়। ফিফায় মাল্টিন্যাশান্যালরা ঢুকে পড়ে পুরোদস্তুর, বিশ্বে বিনোদন ব্যবসায় সিনেমা পিছু হটতে থাকে এবং টেলিভিশন তার জায়গা নিতে শুরু করে, খেলা এবং খেলোয়াড় উভয়ের কাছেই মার্কেটিং কোম্পানির চাহিদা বাড়তে থাকে, বিপুল অর্থ এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে থাকে নিয়ামকদের হাতে এবং সব অর্থেই ফিফা একটি বাণিজ্যিক সংস্থায় পরিণত হয় এবং একই সঙ্গে এই তিনটি উপাদানই পরবর্তী চার দশকে ফিফাকে বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে।
ফিফা সভাপতি হিসাবে ১৯৭৪ সালে জোয়াও হ্যাভালাঞ্জের নির্বাচন ফিফায় একটি নির্ণায়ক মাইলফলক সন্দেহ নেই । তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি রাউস এবং এই নির্বাচনকে দেখা হল ইউরোপকেন্দ্রিক ফুটবল প্রশাসনের বিরুদ্ধে আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার উদীয়মান শক্তির রাজনৈতিক অভ্যুত্থান হিসাবে। হাভেলাঞ্জ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল - উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, নানা স্তরের ফিফা-স্বীকৃত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা, এশিয়া আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো এবং দেশে দেশে পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে অর্থ জোগানো। এই প্রতিশ্রুতিগুলি তাঁকে বিপুল সমর্থন এনে দেয়। হাভেলাঞ্জ দ্রুত বুঝতে পারেন যে যেহেতু ফিফার সংবিধানে প্রতিটি সদস্য দেশের ভোট সমগুরুত্বের সেহেতু তিনি ছোট নেশনগুলোর ওপর বড় ভরসার ভার চাপাতে পারেন ফিফারই অর্থ খরচ করে। জার্মানি, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার ভোট যেমন একটি, তেমনি কোনো ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের ভোটও একটি। ফলে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে অনুদান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, স্টেডিয়াম নির্মাণে সহায়তা এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমর্থনভিত্তি গড়ে তোলেন এবং তারাই হয়ে ওঠে তাঁর ভোটব্যাংক। হ্যাভালাঞ্জ আদিদাস ও কোকো কোলার মত কোম্পানিকে নিয়ে আসেন ফিফায়। এবং কেলেংকারির শুরু এখান থেকেই।
Adidas, হর্স্ট ডাসলার এবং প্রথম ফিফা কেলেংকারি
হাভেলাঞ্জ যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার বাইরে থাকা লোক ছিলেন হর্স্ট ডাসলার। একেবারে Adidas প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য ছিলেন এই হাসলার। ক্রীড়া বিপণনের নতুন নতুন ধারণাগুলো এঁর মস্তিষ্কপ্রসূত। বিশ্বকাপের সম্প্রচার অধিকার, স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন এবং মার্চেন্ডাইজিং - সবকিছুকে একটি ব্যবসায়িক কাঠামোর অধীনে আনার প্রবক্তা তিনিই। কিন্তু কে করবে এই কাজ? কেন মার্কেটিং এজেন্সি তো আছেই, না থাকলে বানিয়ে নেওয়া হবে - সোজা কথায় মার্কেটিং-এর কাজটিকে কোন ফ্রাঞ্চাইজির হাতে দিয়ে দেওয়ার নিদান তিনিই দেন প্রথম। অনেকে আধুনিক ক্রীড়া-বাণিজ্যের অন্যতম স্থপতি ঠাওরান হর্স্ট ডাসলারকে, কিন্তু শেষ কথা তা বলে না। ডাসলারের উদ্যোগে গড়ে ওঠে একটি বিপনন সংস্থা 'ইন্টারন্যাশান্যাল স্পোর্টস এন্ড লেইজার' (ISL) যারা নাকি ফিফার জন্য টেলিভিশন অধিকার বিক্রি করবে, স্পনসর সংগ্রহ করবে। বিশ্বকাপের মার্কেটিং রাইটস তাদের হাতে থাকবে ফিফার বকলমে। শুরুতে এর ফলে ফিফায় প্রচুর অর্থ আসতে থাকে। প্রতিটি ম্যাচের সম্প্রচার অধিকার, বিজ্ঞাপন বোর্ড, অফিসিয়াল স্পনসর, লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য - সবকিছু থেকেই আয় এবং অচিরেই ফিফা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়াসংস্থায় পরিণত হয়। এহেন ISL যা কামানোর কামিয়ে নিয়ে ২০০১ সালে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে হাত ধুয়ে ফেলে। পরবর্তী তদন্তে সুইস আদালতের নথিতে প্রকাশ পায় যে, বহু বছর ধরে ফিফার কিছু শীর্ষ কর্মকর্তাকে বিপণন চুক্তির বিনিময়ে তোলা দিয়ে গেছে তারা। যাঁদের ঘর অবধি এ টাকা পৌঁচেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে তাদের মধ্যে ছিলেন জোয়াও হাভেলাঞ্জ এবং তাঁর সাবেক জামাতা রিকার্ডো টেক্সেইরা । এঁরা দুজনেই ISL-এর কাছ থেকে কয়েক মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ নিয়েছিল রাইটসের বিনিময়ে। বহু নতুন রক্ত ফিফা-তে সঞ্চারিত করার পরেও হ্যাভালাঞ্জের এবং ফিফার, সংস্থা হিসাবে ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এসব কারণে, যদিও ততদিনে হ্যাভালাঞ্জ সভাপতির পদ থেকে টার্ম পুর্ণ করেছেন এবং তাঁরই পার্শ্বসঙ্গী সেপ ব্ল্যাটার সভাপতি হয়ে বসেছেন। হ্যাভালাঞ্জের আমলে এশিয়া আফ্রিকায় অবকাঠামোতে প্রচুর খরচ হয়েছে কিন্তু তার সত্যিই কতটা কাজে লেগেছে আর কতটা তৃতীয় বিশ্বের ফুটবল প্রশাসকরা পকেটে ভরেছেন সেটা বুঝতে খুব ফুটবল বিশেষজ্ঞ হবার দরকার হয় না। হাভেলাঞ্জের সময়ে সভাপতির ক্ষমতা সামঞ্জস্যহীনভাবে বৃদ্ধি পায়। গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ করেন, টেকনিক্যাল থেকে অডিটিং - সব কমিটিকে বকলমে নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি এবং সমস্ত বড় আর্থিক সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ তাঁরই ছিল, ফলে ফিফা-র অ্যাকাউন্টিবিলিটি বা জবাবদিহির জায়গাটাই নষ্ট হয়ে যায়। এই প্রবণতা সেপ ব্ল্যাটারের সময় আরও বাড়া বই কমার কোনও লক্ষণ দেখা যায় না।
সেপ ব্ল্যাটার ও মিশেল প্লাতিনি এপিসোড
সেপ ব্ল্যাটার ১৯৭৫ সাল থেকেই ফিফা-র প্রশাসনে ছিলেন। হাভেলাঞ্জের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন হিসেবে তিনি সংস্থার আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে আগাপাশতলা সবই জানতেন। হ্যাভালাঞ্জের পর ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে তিনি সুইডেনের লেনার্ট জোহানসন-কে পরাজিত করেন এবং বকলমে হ্যাভালাঞ্জের সময়কাল দীর্ঘায়ত করার দিকে মন দেন। নির্বাচনের পর থেকেই অভিযোগ ওঠে যে বিভিন্ন সদস্য সংস্থাকে উন্নয়ন তহবিল ও অন্যান্য সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্ল্যাটারের জন্য ভোট নিশ্চিত করা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি তবু ছোট ছোট ক্যারিবিয়ান দেশগুলো, বহু আফ্রিকান দেশ, এশিয়ান দেশ যাদের ভোটের গুরুত্ব ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-জার্মানির সমান, তাদের ফুটবল প্রশাসন জিনিসটাই স্বচ্ছ নয়, ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়, ফলে এ টাকা কোথায় যাবে বা যেতে পারে তার সম্যক ধারণা ব্ল্যাটারের ছিল। ভোট আসাটা তাই বিস্ময়ের ছিল না। ব্ল্যাটারের সময় ফিফার আয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। ব্ল্যাটারের GOAL প্রোগ্রাম, ফিনান্সিয়াল অ্যাসিস্টান্স প্রোগ্রাম (FAP) উন্নয়নশীল দেশগুলির কর্মকর্তাদের কাছে প্রচুর অর্থ পৌঁছে দিয়েছে যে অর্থের সঠিক ব্যবহারের গ্যারান্টি কেউ চায় নি, কেউ দেয়ও নি। আদতে এগুলো ভোট কেনার জন্য অনুদানে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশেষত ২০১০ এর দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০১৮ এর রাশিয়া এবং ২০২২ এর কাতার বিশ্বকাপের স্থান নির্বাচন নিয়ে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সব আদালতে প্রমাণ হয়নি ঠিকই কিন্তু বিপুল অর্থের যে হাতবদল হয়েছে তা অনুমান করতে কষ্ট হয় না। বিশেষত কাতারে শ্রমিকের নিরাপত্তা, মরুপ্রদেশের আবহাওয়া, সীমিত ফুটবল ঐতিহ্য এবং স্বল্পায়ত দেশ - এসব অভিযোগে সারা বিশ্ব যখন সরব তখন ভোটে তারা অন্য দাবিদারদের মেরে বেরিয়ে গেল কাতার, সৌজন্যে ব্ল্যাটার। কাতার সরকার কোনও বেআইনি কাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ঠিকই কিন্তু কেউই তা বিশ্বাস করে না। তবু ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্ড্রু জেনিংসের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পরবর্তীকালে কিছু অভিযোগের ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। এবং এরই ফলশ্রুতিতে ২০১৫ সালের ২৭ মে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে এক নাটকীয় ঘটনায় ফিফার সাত জন শীর্ষ কর্তাকে মার্কিন বিচার বিভাগের অনুরোধে সুইস পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল কয়েক দশক ধরে ফুটবল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কিছু কর্মকর্তা বিপণন ও সম্প্রচার অধিকার বণ্টনের বিনিময়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঘুষ নিয়ে গেছেন। এর বাইরে আরো সাত জন আমেরিকার কোর্টেই অপরাধ স্বীকার করেছিল। সেদিন ভোরে জুরিখের Baur au Lac হোটেল থেকে যে সাতজন গ্রেফতার হন তারা ছিলেন কোস্টা রিকা, আমেরিকা-মেহিকো, নিকারাগুয়া, ভেনেজুয়েলা, ক্যারাবিয়ান, লাতিন আমেরিকান ইত্যাদি অঞ্চলের শীর্ষকর্তা। এঁরা জমা হয়েছিলেন ওখানে কোন বেআইনি কাজে নয়, দু দিন পরেই ওই হোটেলে ছিল ফিফার সভাপতি নির্বাচন। মার্কিন শীর্ষ আদালত সেদিন সকালেই এই ১৪টি নাম প্রকাশ করে এবং প্রায় একই সঙ্গে একই হোটেলে তাঁদের ঘুম থেকে উঠিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়। ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানি ট্রেইল ধরা পড়ার পর এই অ্যাকশন ব্ল্যাটারকে বিপদে ফেললেও ফেলতে পারত। কিন্তু তিনি অতীব শক্তিশালী এক চক্রের মাথা বলেই এর পরেও নির্বাচিত হলেন ২৯ মে তারিখে এবং ২ জুন তারিখে পদ ছেড়ে নিজেকে ঘটনা পরম্পরা থেকে বিযুক্ত করে নিলেন। পরে ফিফার এথিকস কমিটি তাঁকে এবং মিশেল প্লাতিনিকে অন্য একটি বিতর্কিত আর্থিক লেনদেনের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফুটবল-সম্পর্কিত কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করে।
ইনফ্যান্তিনোর ফিফা দখল
ব্ল্যাটার যখন সরে যান তখন তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরী ছিলেন ফরাসী ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মিশেল প্লাতিনি। ১৯৯৮ থেকে প্লাতিনি ফিফার পরামর্শদাতা, ব্ল্যাটারের রাইট হ্যান্ড ম্যান। ইউরোপীয় জোন UEFA-র সভাপতি ছিলেন তিনি এবং ব্ল্যাটারের ছেড়ে যাওয়া পদে বৃত হবেন, শুধু নির্বাচনের অপেক্ষা। এই সময় সুইস আদালতে অভিযোগ আসে ২০১১ তে ফিফা প্লাতিনিকে একটা ২ মিলিয়ন ডলারের পেমেন্ট করেছে অ্যাডভাইসর হিসেবে ১৯৯৮ সালের জন্য, কোনও চুক্তিপত্র ছাড়াই। ব্ল্যাটার ও প্লাতিনি জানালেন টাকাটা ফিফা তখন দেয়নি, পরে দেবে এমন কথা ছিল। অভিযোগ - এটা আসলে ইউরোপের ভোট কেনার জন্য ঘুষ ছাড়া আর কিছু নয় কারণ এমন কোনও চুক্তি যে ছিল এমন কি মৌখিকও, তার কোনও প্রমাণ নেই। ফিফার এথিকস কমিটি দুজনকেই ব্যান করল আর ২০১৬-র ভোটে ইনফ্যান্তিনো ফিফার সভাপতি হয়ে বসলেন প্লাতিনির সম্ভাবনার ওপর জল ঢেলে। অতি সম্প্রতি ফ্রান্সের আদালতে ইনফ্যান্তিনোর বিরুদ্ধে এটা একটা বিশ্বাসভঙ্গতার অভিযোগ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
ইনফ্যান্তিনোকে নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কটা তৈরি হয়েছে তার বিশ্বকাপ বেচে দেবার বাসনা ব্যক্ত হবার পর, বেচা মানে এখানে কাপের সোনা বেচা নয়, ইভেন্টটা্র অংশীদারিত্ব স্টক মার্কেটে বেচার কথা বলছি। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভাবমূর্তি মেরামতির আয়োজন হিসেবে নিয়েছিলেন। ইনফান্তিনো একাধিকবার হোয়াইট হাউসে যান এবং বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ যেটা তা হল - ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বিশেষত শান্তি পুরস্কার প্রদান ফিফার নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তবে সবচেয়ে বড় কেলেংকারি যেটার রাস্তা তিনি পরিষ্কার করতে চাইছিলেন তা হল অংশীদারিত্ব বিক্রি। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি ইনফ্যান্তিনো একটি নতুন বাণিজ্যিক কাঠামো - 'ফিফা ফরওইয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' (FFE) গঠনের প্রস্তাব দেন। পরিকল্পনা ছিল পুরুষ ও মেয়েদের বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ ইত্যাদির কমার্শিয়াল রাইটস একটি পৃথক কোম্পানির অধীনে আনা হবে এবং সেই কোম্পানির একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। FIFA-এর বক্তব্য ছিল, এতে সংস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে অথচ নতুন মূলধন সংগ্রহ করে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করা যাবে।
বিতর্ক কেন?
প্রস্তাব ছিল ২০ থেকে ২১ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করে কয়েক বিলিয়ন ডলার তোলার। মুলত UEFA-র কাছ থেকে বাধাটা এল প্রথম। তাঁদের বক্তব্য ফুটবলের আত্মা বিক্রির জন্য নয়। বরং পণ্য হলেও তা একটা 'গ্লোবাল স্পোর্টিং পাবলিক গুড' যার মালিকানা সংস্থা বিশেষের হতেই পারে না। তা বিক্রি করা নীতিগতভাবে বিপজ্জনক। দ্বিতীয়ত, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় প্রায় ২০-২১% অংশীদারিত্বের বিনিময়ে কয়েক বিলিয়ন ডলার তোলার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় এই মূল্যায়নও খুব কম - তাঁদের মতে 'হাইলি আন্ডারভ্যালুড'। তৃতীয়ত, কোনও স্বাধীন ভ্যালুয়েশন হয়নি বা হলেও প্রকাশ করা হয়নি; কোনও দরপত্র আহ্বান করা হয়নি এবং সদস্য সংস্থা বা ফিফা কাউন্সিলকেও যথেষ্ট আগে জানানো হয়নি।
ট্রাম্প যোগ
সবচেয়ে বড় অভিযোগটা আসে থ্রাইভ ক্যাপিটাল (Thrive Capital)-কে নিয়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল এই থ্রাইভ ক্যাপিট্যাল, যে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন জোশুয়া কুশনার, জ্যারেড কুশনারের ভাই। জ্যারেড কুশনার, সবাই জানেন নিশ্চয়ই, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা। এই পারিবারিক সংযোগের কারণে বিনিয়োগ প্রস্তাবটাই একটা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পত্রপাঠ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ন্যাটো তথা ইউরোপিয়ান নেশনগুলির সঙ্গে ট্রাম্পের এখনকার মধুর সম্পর্কের নিরিখে তা খুব স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলেই বিবেচিত হওয়া উচিৎ। ইনফ্যান্তিনোর ফিফার সভাপতি হিসেবে মাইনে বছরে ৫ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। শোনা যাচ্ছে, থ্রাইভের সিইও হিসেবে বছরে ৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজও নাকি তিনি পাকা করে ফেলেছিলেন!
পরিস্থিতি এখন
পরিস্থিতি এখন রীতিমতো জটিল। সব অ্যাসোশিয়েশনকে অন্তত ২০ মিলিয়ন ডলারের একটা টোপ ইনফ্যান্তিনো আগেই ঝুলিয়ে রেখেছিলেন, ফলে ২০২৭ সালে আসন্ন ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আর একবার জেতার রাস্তাও এই প্রস্তাবের মধ্যে বিটুইন দ্য লাইনস ছিল। ইউয়েফা-র প্রমাদ গোনার আর একটা কারণ সেটাও। তাদের প্রত্যখ্যান তীব্র এবং প্রস্তাব নিয়ে এগোলে যে কোনও আন্তর্জাতিক ফিফা টুর্নামেন্ট তারা বয়কট করার হুমকি দিয়ে রেখেছে। দেখাদেখি লাতিন আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকার সংস্থাগুলিও প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় এবং তাদের তীব্র বিরোধিতা, UEFA-র আপত্তি, খেলোয়াড়দের সংগঠন ও বিভিন্ন ফুটবল মহলের চাপের মুখে ইনফান্তিনো শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন এবং স্বীকার করেন যে এটা ঘোর বিভাজন সৃষ্টি করেছে। ফিফা জানায় যে এই পরিকল্পনা নিয়ে আর এগোনো হবে না। আপাতত তাঁর লক্ষ্য চেয়ারটি বাঁচানো। ক্রীড়াবিশ্ব খুব আগ্রহ নিয়ে সেদিকেই তাকিয়ে আছে। তবে একটি মৌলিক প্রশ্ন তো জেগেই রইল - ফিফা কি সত্যিই একটি অলাভজনক বৈশ্বিক কমোডিটি হিসেবে তার অস্তিত্ব বজায় রাখবে আগামী দিনে, নাকি আজ অথবা কাল একটা কর্পোরেট হোল্ডিং মডেলের রূপ নেবে? এই প্রশ্নেই সম্ভবত আগামী দিনে ফিফা আলোড়িত হতে থাকবে এবং ইনফ্যান্তিনো চলে গেলেও অন্য ইনফ্যান্তিনোরা আসবে যারা - ট্রেন্ড যা বলছে - ছলে বলে কৌশলে পণ্যটি আবার বাজারে নিয়ে আসতে চেষ্টার ত্রুটি করবে না।
তথ্যঃ
1) Omertà: Sepp Blatter's FIFA Organised Crime Family Andrew, Kindle Transparency Books, ASIN B00JN73JDQ.
2) Foul! The Secret World of FIFA; Andrew Jennings; Harpersport, 2007.
3) Soccernomics; Simon Kuper and Stefan Szymanski. Hachette Books, 2026 World Cup edition.
4) FIFA Bulletin, July 18, 2026.
5) Uefa doubles down on World Cup boycott in effort to oust Gianni Infantino; Financial Times. August 2026.