আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ ষোড়শ সংখ্যা ● ১৬-৩১ আগস্ট, ২০২৬ ● ১-১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩
প্রবন্ধ
'যারা জীর্ণ জাতির বুকে জাগালো আশা'
অম্বিকেশ মহাপাত্র
আমার ভালো লাগেনি, তবুও মায়ের ইচ্ছেয় একদিন মায়ের নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের পথে পা বাড়িয়েছিলাম, তথাকথিত শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে। শিক্ষালাভের শেষে, শিক্ষক পেশায় তথাকথিত শিক্ষাদানে বরাবরই থেকে গেছি। বিজ্ঞানের একটি শাখা কেমিস্ট্র বা রসায়নের ক্লাসে ছাত্রদের মনযোগ আকৃষ্ট করার জন্য ছাত্রদের সমবয়েসি স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদদের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের কিছু কিছু ঘটনার কথা শোনাতাম। তারপর পাঠক্রম অনুযায়ী বিষয় পড়াবার চেষ্টা করতাম। আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের পাতা থেকে তেমন কিছু ঘটনা তুলে এনে এই নিবন্ধ লেখার প্রয়াস।
(১) ১১ই আগস্ট ১৯০৮, ভোর ৫টা নাগাদ, ১৮ বছর ৮ মাস ৮ দিন বয়েসি কিশোর ক্ষুদিরাম বসু মৃত্যুর জয়গান গাইতে গাইতে হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় কটক নিবাসী জানকীনাথ বসু এবং প্রভাবতী দেবীর ৮ পুত্র এবং ৬ কন্যা অর্থাৎ ১৪ সন্তানের ৯ম সন্তান এবং ৬ষ্ঠ পুত্র সুভাষচন্দ্র বসু স্কুলছাত্র; সুভাষচন্দ্রের বয়েস প্রায় ১১ বছর। দেশের স্বাধীনতার জন্য শহীদ ক্ষুদিরাম বসু এবং প্রফুল্ল চাকীর আত্মবলিদান (সঙ্গে লোকগীত; 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি, হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী') বালক সুভাষচন্দ্রকে স্বাধীনতালাভে অনুপ্রাণিত করেছিল। সুভাষচন্দ্রের আত্মজীবনীমূলক রচনায় প্রধানশিক্ষক বেণীবাধব দাসের নাম উল্লেখ রয়েছে। সুভাষচন্দ্র বসুর স্কুলের প্রধানশিক্ষক ছিলেন বেণীমাধব দাস। তিনি কটকের রাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলের প্রধানশিক্ষক ছিলেন এবং সুভাষচন্দ্র বসুর জীবনদর্শন ও দেশপ্রেম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
(২) কলকাতা নিবাসী যতীন্দ্রনাথ দাস ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট বিপ্লবী। কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজে কেমিস্ট্রি ছাত্রাবস্থায় তিনি অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তিনি বোমা বানানোর রসায়ন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি Hindustan Socialist Republican Association (HSRA)-এর সদস্য ছিলেন এবং 'লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা'য় গ্রেফতার হন। লাহোর জেলে রাজনৈতিক বন্দিদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে ৬৩ দিন অনশন করার পর, ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯, তাঁর মৃত্যু হয়। যতীন্দ্রনাথ দাস প্রায় ২৫ বছর বয়সে শহীদের মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ ট্রেনে করে কলকাতায় আনা হয়। সুভাষচন্দ্র বসু নিজে শেষযাত্রার ব্যবস্থা করেন এবং কলকাতায় তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কয়েক লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাঁর আত্মত্যাগ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। উল্লেখ্য, নিম্নলিখিত গজল থেকে বিপ্লবী যুবকরা দেশের স্বাধীনতার জন্য হাসিমুখে আত্মবলিদানের উদ্বুদ্ধ হতেন।
"सरफ़रोशी की तमन्ना अब हमारे दिल में है,
देखना है ज़ोर कितना बाज़ु-ए-क़ातिल में है।"
বাংলায় যার অর্থ:
'আত্মবলিদানের আকাঙ্ক্ষা আজ আমাদের হৃদয়ে;
দেখা যাক, ঘাতকের বাহুতে কত শক্তি আছে।'
(৩) ৩০ অক্টোবর ১৯২৮, লাহোরে লালা লাজপত রায় সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে কালো পতাকা প্রদর্শন ও 'Simon Go Back' স্লোগানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। তৎকালীন লাহোরের পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট জেমস এ. স্কট-এর নির্দেশে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তাতে লালা লাজপত রায় গুরুতর আহত হন। ১৭ নভেম্বর ১৯২৮, সেই আঘাতের পরিণতিতে ওনার মৃত্যু হয়। এই বিক্ষোভ প্রদর্শনে হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন (HSRA)-এর অংশ 'নওজোয়ান ভারত সভা'র ভগৎ সিং, শুকদেব, রাজগুরু, ... প্রমুখরা ছিলেন। লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে, ১৭ ডিসেম্বর ১৯২৮, বিপ্লবীরা লাহোরে ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা জেমস এ. স্কটকে হত্যা করতে গিয়ে ভুলবশত জে. পি. সন্ডার্স (J. P. Saunders)-কে হত্যা করেন। ভগৎ সিং, রাজগুরু ও সুখদেব সহ HSRA-এর একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে, ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়। যা বিখ্যাত 'লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে পরিচিত।
(৪) কেন্দ্রীয় আইনসভায় ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্তের বোমা নিক্ষেপ - এক ঐতিহাসিক প্রতিবাদ। ৮ এপ্রিল ১৯২৯, দিল্লির কেন্দ্রীয় আইনসভায় বিপ্লবী ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত যে বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন, তা কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ছিল না; বরং ব্রিটিশ সরকারের দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল। সেসময় ব্রিটিশ সরকার Public Safety Bill এবং Trade Disputes Bill-এর মতো আইন পাশ করে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং শ্রমিক আন্দোলন দমন করতে চাইছিল। এই পরিস্থিতিতে ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত আইনসভার দর্শক গ্যালারি থেকে স্বল্পশক্তির বোমা নিক্ষেপ করেন। বোমা এমন জায়গায় ফেলা হয় যাতে প্রাণহানি না ঘটে। বিস্ফোরণের পর তাঁরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" এবং "সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক" স্লোগান দেন এবং প্রচারপত্র ছড়িয়ে দেন।
সেই প্রচারপত্রে একটি বিখ্যাত বাক্য ছিল - "বধিরকে শোনাতে হলে প্রবল আওয়াজের প্রয়োজন হয় (If the deaf are to hear, sound has to be very loud)।" এর মাধ্যমে তাঁরা বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, ব্রিটিশ সরকার যখন জনগণের ন্যায্য দাবি শুনতে অস্বীকার করছে, তখন একটি প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। গ্রেফতারের পর আদালতে ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত স্পষ্ট করে বলেন যে, তাঁদের লক্ষ্য মানুষ হত্যা নয়, বরং শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। এবং আদালতকে তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশের একটি মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেন। এই ঘটনার ফলে ভগৎ সিং সারা ভারতের যুবসমাজের কাছে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক প্রতীক হয়ে ওঠেন।
আজ, স্বাধীন ভারতের নাগরিক হিসেবে আমরা এই ঘটনাকে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে দেখি। আমরা উপলব্ধি করি যে স্বাধীনতার সংগ্রামে নানা মত, নানা পথ এবং নানা ধরনের আত্মত্যাগ ছিল। ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্তের এই পদক্ষেপ ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা আমাদের স্বাধীনতার মূল্য এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, প্রথমত কেন্দ্রীয় আইনসভা (Central Legislative Assembly) বোমা নিক্ষেপ মামলায় ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। এবং দ্বিতীয়ত লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় ভগৎ সিং, শিবরাম হরি রাজগুরু এবং সুখদেব থাপারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ২৩ মার্চ ১৯৩১, ভগৎ সিং, রাজগুরু ও সুখদেবকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে ফাঁসি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় ছিল ২৪ মার্চ ১৯৩১ সকালে। কিন্তু জনরোষ ও সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় ২৩ মার্চ সন্ধ্যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফাঁসির পর রাতের অন্ধকারে তাঁদের দেহ গোপনে জেল থেকে বের করে ফিরোজপুরের কাছে হুসাইনিওয়ালা এলাকায় নিয়ে গিয়ে দাহ করার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় মানুষ বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে পৌঁছে যান এবং তাঁরাই শহীদদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।
ভগৎ সিং, শিবরাম হরি রাজগুরু এবং সুখদেব থাপার কেবল ব্রিটিশ শাসনের অবসানই চাননি; তাঁরা এমন একটি স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়ও প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে ভগৎ সিং তাঁর লেখায় ও বক্তব্যে এই আদর্শ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন ভারতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল -
● মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠনের অধিকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক অধিকার
● রাষ্ট্র কোনো ধর্মের পক্ষ নেবে না; সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করবে। অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতা
● জাতপাত, অস্পৃশ্যতা ও জন্মগত বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। অর্থাৎ সামাজিক সমতা
● কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের পরিবর্তে যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানচেতনার বিকাশ ঘটবে। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক মনোভাব
● মানুষে মানুষে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমবে; শ্রমিক ও কৃষকের অধিকার নিশ্চিত হবে। অর্থাৎ শোষণমুক্ত সমাজ
● উৎপাদনের প্রধান উপকরণ জনস্বার্থে ব্যবহৃত হবে, যাতে অল্প কয়েকজনের হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত না হয়। অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
পাশাপাশি ভগৎ সিং তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ 'Why I Am an Atheist'-এ যুক্তিবাদী চিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আবার জেল থেকে লেখা চিঠি ও অন্যান্য রচনায় তিনি বলেন, শুধু ইংরেজ শাসকের পরিবর্তে ভারতীয় শাসক এলেই প্রকৃত স্বাধীনতা আসবেনা; যদি শোষণের কাঠামো একই থাকে, তবে সাধারণ মানুষের জীবনে প্রকৃত মুক্তি আসবে না। তাঁর বহুল উদ্ধৃত বক্তব্যের সারমর্ম হলো: বিপ্লবের অর্থ শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; এমন এক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষের ওপর মানুষের শোষণের অবসান ঘটবে। অতএব, ভগৎ সিংয়ের কাছে স্বাধীন ভারতের অর্থ ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতা + সামাজিক ন্যায় + অর্থনৈতিক সমতা + ধর্মনিরপেক্ষতা + বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিবাদী সমাজ। এই আদর্শই তাঁর বিপ্লবী চিন্তার মূল ভিত্তি ছিল।
স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের জন্য শহীদ-ই-আজম ভগৎ সিং সহ শুকদেব এবং রাজগুরু-র আত্মবলিদানের প্রায় ১৬ বছর পর দুর্ভাগ্যজনক হলেও দুই সাম্প্রদায়িক শক্তির 'হিন্দু-মুসলিম দ্বি-জাতি তত্ত্ব'-কে ভিত্তি করে ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গার পরিবেশে দেশভাগের মধ্যদিয়ে 'ভারতের স্বাধীনতালাভ'। সেই ভারতের সংবিধান রচনায় সকল পথ ও মতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ভাবনাকে মর্যাদা দিয়ে স্বাধীন ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের 'সংবিধান'। দেশ গড়ে তোলার মূলমন্ত্র- 'বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যস্থাপন'; সেই লক্ষ্যে 'Republic of India অর্থাৎ সাধারণতান্ত্রিক ভারত'-এর স্বপ্ন। এবং সেকারণেই সংবিধানের প্রস্তাবনায় রয়েছে; "We, THE PEOPLE OF INDIA, having solemnly resolved to constitute India into a SOVEREIGN SOCIALIST SECULAR DEMOCRATIC REPUBLIC and to secure to all its citizens: JUSTICE, Social, Economic and Political; LIBERTY of thought, expression, belief, faith and worship; EQUALITY of status ..." অর্থাৎ "আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র হিসেবে গঠন করতে এবং এর সকল নাগরিকের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, আস্থা ও উপাসনার স্বাধীনতা; মর্যাদার সমতা নিশ্চিত করতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হয়েছি...।"
আজ যখন সারাভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার, ন্যায়বিচার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য ... রাষ্ট্রের দ্বারা আক্রান্ত; উপাসনাস্থলে রাজনীতিকদের দাপাদাপি; তখন ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, যতীন্দ্রনাথ দাস, বটুকেশ্বর দত্ত, শুকদেব থাপার, শিবরাম হরি রাজগুরু, শহীদ-ই-আজম ভগৎ সিং ... প্রমুখ শহীদদের উত্তরসূরি এবং জন্মশতবর্ষে কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ, স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি'-দের দেশবাসীর জন্য প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। ঐতিহাসিক কারণে, ২০ জুলাই ২০২৬, সে দায়িত্ব পালনে শহীদ-ই-আজম ভগৎ সিং, সংবিধান প্রণেতা ড. ভীমরাও রামজী আম্বেদকর, ... প্রমুখদের ছবি নিয়ে হাজার হাজার যুবক-যুবতী যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন, 'সংসদ চলো' অভিযানের আহ্বানে। তাঁদের উপর নির্বিচারে লাঠি, পেরেক লাগানো লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, পেলেট গান, ... এমনকি একে 47 রাইফেল ব্যবহারে নির্মমতা এবং বর্বরতার নজির গড়েছে। তা সত্ত্বেও 'আঠারো' পিছু হটেনি। শহীদ ভগৎ সিং-দের স্বপ্নের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনে সামনে এগুতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।