আরেক রকম ● চতুর্দশ বর্ষ ষোড়শ সংখ্যা ● ১৬-৩১ আগস্ট, ২০২৬ ● ১-১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩
সম্পাদকীয়
দেশ নায়কের প্রতি এত দ্বেষ কেন?
তিনি অনন্ত 'মহারাজ'। রাজ্যসভার ওয়েবসাইট অনুসারে তাঁর প্রকৃত নাম নগেন্দ্র রায়। ১৯৫৮ সালের ১ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। বাড়ির ঠিকানা,- বরাগিলা প্যালেস, গ্রাম বরাগিলা, কোচবিহার (পশ্চিমবঙ্গ)। দুই পুত্র এবং এক কন্যার পিতা নগেন্দ্র রায় বঙ্গাইগাঁও রিফাইনারি ও পেট্রো কেমিক্যালস্ লিমিটেড থেকে ২০১৮-য় অবসর গ্রহণ করেন। এবং ২০২৩-এর আগস্ট মাসে তিনি বিজেপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সদস্য হন।
নিজের পরিবার সম্পর্কে অনন্ত 'মহারাজ' বলেন, "মহারাজ নরকের বংশধর আমরা। অসমের কামাখ্যা মন্দির আমাদের পূর্বপুরুষদের প্যালেস ছিল।" ১৯৯৪ সালে কোচবিহারের গোঁসাইবাড়ির প্রাসাদে অনন্ত 'মহারাজ'-এর 'রাজ্যাভিষেক' হয়।
এহেন অনন্ত 'মহারাজ'-এর একটি মন্তব্য নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। দেশনায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে দেশদ্রোহী বলে ঘোষণা করে স্বঘোষিত অনন্ত 'মহারাজ' দেশ জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দলের রাজ্য সভাপতিও প্রকারান্তরে নেতাজীর দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পর্কে কুকথা উচ্চারণ করেছেন। নেতাজীর দলীয় নেতাকর্মীদের গুন্ডা আখ্যা দিয়ে যা বার্তা দেওয়ার তা তিনি দিয়ে দিলেন। গেরুয়া শিবিরের আইটি সেল নেমে পড়ল নেতাজীকে নিয়ে কুমন্তব্য করতে, অশ্লীল পোস্টার বানাতে। কিছু বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতি নেতাজীর মূর্তিতে ডিম মারল, চড়-থাপ্পড় মারল। এরপর ব্যাটন হাতে নিলেন বিজেপির সাংসদ নগেন রায়। ইনি সেই লোক, যাঁকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নতুন করে 'মহারাজ' উপাধি দিয়ে নগেন রায়কে বানিয়েছেন কোচবিহারের 'রাজা অনন্ত মহারাজ'। গেরুয়া ঝুলিতে ভোট এল, তাদের সরকার হল। সেই নগেন রায় বা মোদির রাজা, নেতাজীকে ক্রিমিনাল, দেশদ্রোহী বললেন।
বিজেপির রকমারি অন্ধভক্তরা নেতাজী সংহারে সারা রাজ্য জুড়ে নেমে পড়ল। কলকাতার নিউ আলিপুরে নেতাজী মূর্তির হাত ভাঙা হল। রামপুরহাটে একটি রাস্তার নাম যা নেতাজীর নামে ছিল তার পরিবর্তন ঘটিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, যিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেননি তেমন একজনের নামে নামকরণ করা হল।
বাংলার মানুষের আবেগ নেতাজী। ঝড় উঠল বিজেপির এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে। দু:খে, ক্ষোভে, যন্ত্রণায় মানুষ সোশাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিলেন। ভীত সরকার ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে জানাল যে সরকার কড়া ব্যবস্থা নেবে নেতাজীকে অসম্মান করলে। স্তাবকেরা হই হই করে নেমে পড়লেন সরকার ও গেরুয়া শিবিরকে মহিমান্বিত করতে। কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে এর মধ্যে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই লোককে দেওয়া সম্মান ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে যারা নেতাজীকে অসম্মান করবে, তাদের বিরুদ্ধে। নগেন রায়কে 'বঙ্গবিভূষণ' দিয়েছেন আগের মুখ্যমন্ত্রী। আর মহারাজ করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। এই দুই খেতাব, উপাধির যে কোনো মূল্য নেই তা কি বাংলার মানুষ জানেন না! তাঁকে দলীয় শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। অথবা তাঁর সাংসদ পদ খারিজ করার জন্য কোনো প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে কি না শোনা যায়নি। অন্ধভক্ত কুল আছে, যাদের পেটে কতটুকু বিদ্যা আছে বলা না গেলেও নিশ্চিতরূপে বোঝা যায় যে তাদের কোনো মূল্যবোধ নেই, কোনো যুক্তিবোধ নেই; তারা শুধুমাত্র জয় শ্রী রাম ধ্বনি দিয়ে যা খুশি তাই খারাপ কাজ করতে অভ্যস্ত। এদের সাত খুন মাফ। ভগবানকে এভাবে যারা ব্যবহার করে তারা ধার্মিকও নয়, রাজনৈতিক কর্মীও নয়।
রাজ্যবাসী সমাজের সর্বস্তরে প্রতিবাদ মুখর হওয়ায় অনন্ত 'মহারাজ' ঢোঁক গেলার মতো করে কোনোরকমে ভুল স্বীকার করে জনরোষ থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন। প্রশ্ন হল এহেন অনন্ত 'মহারাজ'-কে নিয়ে বিজেপি এবং রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর এত মাতামাতি কেন?
জনসমক্ষে সাধারণত তিনি কম আসেন। বেশি কথা বলায় তাঁর আগ্রহ না থাকলেও তিনি সোজাসাপ্টা কথা বলেন। তাঁর মন্তব্যে কোনো ধোঁয়াশা নেই। নিজের দাবিতে তিনি অবিচল। কোচবিহার নামের পৃথক রাজ্য নিদেনপক্ষে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল স্থাপন তাঁর লক্ষ্য। এবং এই বিষয়ে তিনি স্থিরপ্রতিজ্ঞ। তিনি অনন্ত রায় ওরফে স্বঘোষিত অনন্ত 'মহারাজ'।
তবুও কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলগুলি তাঁর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের অমিত পরাক্রমশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুয়াহাটিতে রাত কাটিয়ে সকাল সকাল হেলিকপ্টার চড়ে বঙ্গাইগাঁও পৌঁছে গাড়িতে চড়ে চলে যান আসামের চিরাং জেলার প্রান্তিক গ্রাম সতিবরগাঁও। আলোচনা ও প্রাতঃরাশ সেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদায় নেওয়ার পর অনন্ত 'মহারাজ' কথা প্রসঙ্গে সেদিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে হঠাৎ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসূচি নির্ধারিত হয়নি। ২০২১-এর জানুয়ারিতে তিনি দিল্লি গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখনই উনি মহারাজের কিছু কিছু দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে নাকি সম্মতি দিয়েছিলেন। সেইদিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ চিরাং জেলার সতিবরগাঁও গ্রামে এসে বিস্তারিত কথা বলবেন। দিল্লিতে কথা হয়ে যাওয়ার পরেও শুধুমাত্র প্রাতঃরাশ সহযোগে মাত্র আধ ঘণ্টার আলোচনার জন্য এত পরিশ্রম? এত অর্থ ও সময় বিনিয়োগ?
রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীও পিছিয়ে নেই। অনন্ত 'মহারাজ' আয়োজিত চিলা রায়ের ৫১২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই মঞ্চ থেকেও আলাদা রাজ্যের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। রাজ্য সরকার আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেছিলেন অনন্ত 'মহারাজ' ও দার্জিলিং-এর বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃবৃন্দ। ভাইফোঁটাতেও 'মহারাজ'-এর জন্য উপহার পাঠিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। আবার পাল্টা অনন্ত 'মহারাজ' মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার পাঠিয়ে তাঁর বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কোচবিহার শহরের রাসমেলায় পুরসভার পক্ষ থেকেও অনন্ত 'মহারাজ'কে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়। এবং তিনি উপস্থিত ছিলেন।
রাসমেলার অনুষ্ঠানের দিনকয়েক আগে (৩ নভেম্বর, ২০২৩) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে গেছিলেন অনন্ত 'মহারাজ'। ততদিনে তিনি সাংসদ। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে অনন্ত বলেন, ''পৃথক রাজ্য হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।'' যদিও পৃথক রাজ্যের বিষয়ে কোনও মন্তব্যই করেননি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ''অনন্ত মহারাজের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। এই বৈঠক ছিল নেহাতই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ।'' বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গে রাজ্যের তৎকালীন শাসকদলের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
এই শতাব্দীর সূচনালগ্ন থেকেই কোচবিহার জেলাকে পশ্চিম বঙ্গের থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা রাজ্য গড়ে তোলার দাবি নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে 'গ্রেটার কোচবিহার পিপলস্ অ্যাসোসিয়েশন' (জিসিপিএ) বা চলতি কথায় গ্রেটার। সংগঠনের মূল দাবি, ১৯৪৯ সালে কোচবিহারের ভারতভুক্তির সময় যে চুক্তি হয়েছিল সেটা নাকি মানা হয়নি। ভারত সরকার কোচবিহারকে জেলা করে রেখেছে। কোচবিহারকে আলাদা রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবিতে তিনি অবিচল। শুধু কোচবিহার জেলা নয়, নরনারায়ণ রাজা থাকাকালীন রাজ্যের যে আয়তন ছিল, সেটাই ফেরাতে চায় জিসিপিএ। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের করতোয়া নদী থেকে আসামের বেশ কিছু অংশ নিয়ে গ্রেটার কোচবিহারের দাবিদার তারা। সবমিলিয়ে আসাম, বিহার এবং পশ্চিম বঙ্গের তো বটেই বাংলাদেশেরও দুটি জেলা নিয়ে তৈরির দাবি নিয়ে গ্রেটার যাত্রা শুরু করেছিল।
তারপর তোর্ষা-করতোয়া নদী দিয়ে গড়িয়ে গেছে অনেক জল।স্বঘোষিত 'মহারাজ' অনন্ত (নগেন্দ্র) রায় গ্রেটারের অন্যতম নেতা। অন্য শীর্ষ নেতা বংশীবদন বর্মণ তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজবংশী অকাডেমীর অধ্যক্ষ। আপাততঃ রাজনীতি থেকে অনেক দূরে তাঁর অবস্থান। 'মহারাজ' অনন্ত কিন্তু সক্রিয়।
গ্রেটারের নেতা অনন্ত রায় স্বঘোষিত 'মহারাজ' কোচবিহার শহরের কাছেই চকচকা গ্রামে একটি রাজবাড়িও বানিয়েছিলেন। তাঁর আয়ের উৎস অজ্ঞাত। একটা সময় পর্যন্ত রাজকীয় জীবনযাত্রায় তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। অনন্তের অধীনে 'নারায়ণী সেনা' নামে পৃথক বাহিনী রয়েছে বলে খবর পায় পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন। সেই বাহিনী ২০১৬ সালের ২৮ অগস্ট (কোচবিহারের ভারতভুক্তি হওয়ার তারিখ) অনন্তকে 'গার্ড অব অনার' দেওয়ার পরিকল্পনা করলে তাতে বাধা দেয় রাজ্য সরকার। 'নারায়ণী সেনা'কে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) প্রশিক্ষণ দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়। যদিও সে অভিযোগ বরাবরই নাকচ করেছে বিএসএফ। অনন্ত রায়ের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। ফলে ২০২০-র অগস্ট মাসের পর থেকে অনন্ত 'মহারাজ' আর সেখানে থাকতে পারেন না। নানা অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য সেই সময় পুলিশ রাজবাড়িতে হানা দিলে তিনি সপরিবারে পালিয়ে যান। তারপর থেকে আসামের চিরাং জেলার সতিবরগাঁও গ্রামে তাঁর বসবাস। তখন থেকেই সাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ। অর্থাৎ আইনের ভাষায় অনন্ত 'মহারাজ' একজন ফেরারি ব্যক্তি।
কেন্দ্র ও রাজ্যের তৎকালীন শাসকদল তাঁকে এত প্রশ্রয় দেওয়ার কারণ স্বচ্ছ নয়। একজন ফেরারি ব্যক্তিকে রীতিমতো তোয়াজ করার বিষয়ে দুই পক্ষের প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা চলছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিলেও জনৈক বিচ্ছিন্নতাবাদীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। এমন আচরণ রহস্যজনক।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অনন্ত 'মহারাজে'র দাবিদাওয়া নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। কেন্দ্রের শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের একাংশ পশ্চিমবঙ্গের বিভাজনের বিষয়ে মুখর। আবার তাদের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের নেতৃত্ব নীরব। অনন্ত 'মহারাজ' মাঝেমধ্যেই দাবি করেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিলিগুড়ি হয়ে সুকনা গিয়ে যখন সরকারি সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন তখন অনন্ত 'মহারাজ' তাঁর সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছিলেন বলে সংবাদ প্রচারিত হয়। কাজেই কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসকদলের আচরণও সন্দেহজনক।
দৈনন্দিন জীবনের হাজারো একটা সমস্যায় জর্জরিত রাজ্যবাসী হয়তো এই ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে নজর দেওয়ার অবকাশ পাচ্ছে না। আর যাঁরা বিষয়টি নিয়ে অবহিত তাঁদের অনেকে মনে করছেন রাজ্য সরকারের অনুমোদন ব্যতিরেকে রাজ্য ভাগের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে একতরফাভাবে নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁরা বোধ হয় ভুলে গেছেন ২০১৯-এ সংসদে সংখ্যাধিক্যের সুবাদে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভেঙে তিনটে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছিল। তেমন কিছু ঘটে গেলে তখন হয়তো সেইসব প্রাজ্ঞ মানুষেরা নির্লিপ্ত হয়ে মন্তব্য করবেন কোচবিহার নামের একটি নতুন রাজ্য (বা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল) তৈরি হয়েছে। টাকার দাম কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে যেমন দেশের অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন,- ডলারের দাম বেড়েছে, টাকার দাম কমেনি,- ঠিক তেমনই আর কী!
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সম্পর্কে কুমন্তব্য এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম নৈর্ব্যক্তিক আচরণ লক্ষণীয়। এই পরিসরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সাবেক শাসকদল আরও বেশি করে বিচ্ছিন্নতাবাদের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এখনই এই বিপজ্জনক প্রবণতার বিরুদ্ধে সমস্ত গণতান্ত্রিক মানুষের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন। আর সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই। নেতাজীকে দিয়ে শুরু। বাস্তবে এখন দুয়ারে রাজ্য ভাগের আশঙ্কা। বিচ্ছিন্নতাবাদকে অবিলম্বে বিনাশ করার প্রত্যয় নিয়ে দেশ এবং রাজ্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করলেই দেশ নায়কের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।