আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ একবিংশ সংখ্যা ● ১-১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ● ১৬-৩০ কার্তিক, ১৪৩২
প্রবন্ধ
টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে 'উদ্ভাবনা'ই শেষ কথা
গৌতম সরকার
মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা ছিল এক অতি স্বাভাবিক ঘটনা। বছরের পর বছর উন্নয়ন একই জায়গায় থমকে থেকেছে। কখনও কখনও বৃদ্ধি ঘটলেও সেটা ছিল স্বল্পকালীন। তবে গত দুই শতকের অভিজ্ঞতা অন্য কথা বলে। প্রযুক্তির দুনিয়ার বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রবৃদ্ধির স্থবিরতাকে দূর করে বৃদ্ধিকে একটা স্থায়ী রূপ দিয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে একদিকে নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কৃত হয়ে মানুষকে সুস্থ ও সক্ষম জীবন উপহার দিয়েছে; অন্যদিকে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক অগ্রগতি উৎপাদন, বিপণন, প্রতিযোগিতা এবং জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। ধ্রুপদী অর্থনীতিবিদদের বিশ্বাস ছিল - পুঁজি ও শ্রম বাড়ালেই উৎপাদন বাড়বে এবং কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি আসবে। নোবেল পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ রবার্ট সোলো ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দেখিয়েছিলেন, শুধুমাত্র শ্রম কিংবা পুঁজির লগ্নি বাড়িয়ে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়, তার জন্য দরকার প্রযুক্তির নিরন্তর বিকাশ। অন্যদিকে ১৯৪২ সালে আরেক প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ জোসেফ শুমপিটার 'সৃজনশীল বিনাশ' শীর্ষক এক তত্ত্বে বলেছিলেন নতুনকে সুযোগ করে দিতে পুরোনোকে প্রতিযোগিতার মাঠ ছেড়ে চলে যেতে হয়, যেটি প্রকৃতপক্ষে সমাজের পক্ষে হিতকর হয়। এই দুই তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে কীভাবে বিশ্বজুড়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থায়ী হল এবং সৃজনশীল বিনাশ তত্ত্বের ব্যবহারিক প্রয়োগের গাণিতিক উপস্থাপনা ঘটিয়ে ২০২৫ সালে অর্থনীতি বিজ্ঞানে নোবেল জয় করলেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ডাচ, ইজরায়েলি ও আমেরিকান অর্থনীতিবিদ জোয়েল মোকির, কলেজ দ্য ফ্রান্সের ফিলিপ অ্যাঘিয়ন এবং ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার হাউইট।
কেন এই পুরস্কার
নোবেল কমিটি এই তিনজনকে পুরস্কার প্রদানের হেতু হিসাবে জানিয়েছে, জোয়েল মোকির তাঁর গবেষণার মধ্যে দিয়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে ফিলিপ অ্যাঘিয়ন ও হাউইট ১৯৯২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে 'সৃজনশীল ধ্বংস' ধারণাটির গাণিতিক উপস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধির মূল কারণগুলি ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থনীতি বিভাগের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জন হ্যাসলার জানিয়েছেন, তিন অর্থনীতিবিদদের সম্মিলিত কাজ প্রমাণ করে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কোনও স্বয়ংক্রিয় বিষয় নয়। টেকসই অর্থনীতির পূর্বশর্তগুলি পালন করার সঙ্গে সঙ্গে সৃজনশীল ধ্বংসের অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়াগুলো রক্ষা করতে হবে, অন্যথায় অর্থনীতি আবার স্থবিরতায় ফিরে যাবে। বিবৃতিতে হ্যসলার আরও জানিয়েছেন, নোবেলজয়ীরা আমাদের শিখিয়েছেন - অর্থনীতিতে সবসময় প্রবৃদ্ধি হবে এমন কোনো কথা নেই, বরং একসময় স্থবিরতাই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। এঁদের গবেষণা কীভাবে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা যায় সেই পথের সন্ধান দিয়েছে।
তিন অর্থনীতিবিদের কাজ
জোয়েল মোকির
জোয়েল মোকিরের সবচেয়ে বড় অবদান হল তিনি একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রগতির ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকাকে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। ইংল্যান্ড ও সুইডেনে চারশো বছরের অর্থনৈতিক ইতিহাস ব্যাখ্যা করে মোকির দেখিয়েছেন যে, উদ্ভাবনের যাবতীয় উপাদান উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এই দীর্ঘ সময়ে দুই দেশে মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদন বাড়েনি। তাঁর মতে একের পর এক উদ্ভাবন যদি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় চলতে থাকে তবেই টেকসই প্রবৃদ্ধি কোনও দেশের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠতে পারে, তবে তার জন্য দরকার জ্ঞান। এই জ্ঞানকে তিনি দুইভাগে ভাগ করেছেন - এক, ব্যবহারিক জ্ঞান অর্থাৎ 'কীভাবে' হচ্ছে; আর দুই, কারিগরি জ্ঞান, 'কেন' হচ্ছে। ঐতিহাসিক উপাদান ব্যবহার করে মোকির প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের আগে সমাজে ব্যবহারিক জ্ঞান যথেষ্ট ছিল, কিন্তু অভাব ছিল কারিগরি বা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের। ব্যবহারিক জ্ঞান প্রয়োগ করে তারা কোনও একটা পদ্ধতিকে সফলভাবে অনুসরণ বা অনুকরণ করতে পারত, কিন্তু সেই পদ্ধতি যদি বিগড়ে যেত বা আরও উন্নত করার প্রয়োজন হতো তাহলেই প্রমাদ ঘটত। এই কারণেই অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে শিল্পবিপ্লবের আগে হাজার হাজার বছর ধরে প্রবৃদ্ধি থমকে ছিল। মোকির তাঁর কাজের মধ্যে দেখিয়েছেন যখন দুই জ্ঞানের অন্বয় ঘটে তখনই অবিচলিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা পরিলক্ষিত হয়, শিল্পবিপ্লব তার বড় প্রমাণ।
জোয়েল মোকির প্রায় সাত দশক আগে প্রকাশিত রবার্ট সোলোর উন্নয়ন তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা সফলভাবে দূর করেছেন। নব্য ধ্রুপদী অর্থনীতিবিদ সোলো এক গাণিতিক মডেলের সাহায্যে দেখিয়েছিলেন, ধ্রুপদী অর্থনীতিবিদদের তত্ত্বমতো দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কেবলমাত্র শ্রম ও মূলধন বৃদ্ধি করে করা সম্ভব নয়, তার জন্য দরকার প্রযুক্তির উন্নয়ন। তবে তিনি প্রযুক্তিকে তাঁর মডেলে একটি বহিরাগত উপাদান হিসেবে দেখিয়েছিলেন অর্থাৎ সেই প্রযুক্তি কোথা থেকে আসছে বা আসবে তার কোনও সুলুকসন্ধান দিয়ে যাননি। এই বিষয়টি খোলসা হয়েছে মোকিরের গবেষণায়। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তি বাইরের জিনিস নয়, এটি অর্থনীতির ভেতরের প্রক্রিয়া থেকে জাত এবং এই প্রযুক্তি বা উদ্ভাবনা জ্ঞানের আকাঙ্ক্ষা, প্রতিযোগিতা ও জ্ঞানের বিনিময় থেকে জন্ম নেয়। তাঁর মতে সমাজে 'ইন্টেলেকচুয়াল এনলাইটেনমেন্ট'-এর খুব প্রয়োজন এবং তার জন্য বিজ্ঞানী ও কারিগরদের 'কীভাবে' জ্ঞানের পাশাপাশি 'কেন' জ্ঞানের উপর বেশি জোর দিতে হবে। মোকিরের ব্যাখ্যা, শুধু প্রযুক্তির উদ্ভাবন উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে পারেনা, সমাজকে জানতে হবে কীভাবে সেই উদ্ভাবনকে কাজে লাগানো যায় এবং একইসাথে সেই উদ্ভাবনের কর্মপদ্ধতি সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। এর জন্য দরকার প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা। বিজ্ঞানের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষকে নব নব আবিষ্কারের সাথে তাল মিলিয়ে বদলে যাওয়া প্রেক্ষিতের সাথে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা দেখাতে হবে।
ফিলিপ অ্যাঘিয়ন এবং পিটার হাউইট
জোয়েল মোকির দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত নিয়ে কাজ করেছেন, অন্যদিকে অ্যাঘিয়ন এবং হাউইট অর্থনীতির ভিতরের প্রক্রিয়াগুলো ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের উল্লেখযোগ্য কাজ হল জোসেফ শুমপিটারের ১৯৪২ সালের 'সৃজনশীল বিনাশ' তত্ত্বের ব্যবহারিক রূপদান। গাণিতিক মডেলের সাহায্যে তাঁরা দেখিয়েছেন, কোনও নতুন ও উন্নতমানের পণ্য বাজারে এলে পুরোনো মডেলের পণ্যবিক্রেতাদের অসম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এই উদ্ভাবনটি সৃজনশীল কারণ এখানে নতুনের আবাহন থাকে, অন্যদিকে ধ্বংসাত্মক, কারণ পুরোনোকে বিদায় নিতে হয়। টেলিভিশন, কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ডিজিট্যাল ব্যাংকিং, সাম্প্রতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি সবকিছুই অনিবার্যভাবে পুরোনো জিনিস, প্রযুক্তি ও মডেলকে বাজারছাড়া করেছে। তবে এই দুই অর্থনীতিবিদের মতে, এই ধ্বংস হল 'ব্লেসিং ইন ডিসগাইস'। তাঁরা একে অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, নতুন উদ্ভাবন উদ্ভাবকদের আরও উন্নত ও আকর্ষণীয় উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে। এই দুই অর্থনীতিবিদের মতে, সৃজনশীল ধ্বংস সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারি তরফে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা জরুরি। বড় বড় কোম্পানি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো যাতে একমালিকানার সুবিধা নিয়ে নিজেদের স্বার্থে উদ্ভাবনের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি না করতে পারে সেটা দেখা খুব জরুরি। অন্যদিকে, আধুনিক প্রযুক্তির নিত্য ব্যবহারে কর্মচ্যুত মানুষগুলোর নতুন স্কিল শেখার ব্যবস্থা করা যা তাদের পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেবে, নতুন কাজ না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক নিরাপত্তা ইত্যাদি ব্যবস্থাগুলির সুপ্রয়োগই পারবে পরিবর্তনের মধ্যে আর্থিক প্রগতির লভ্যাংশ সমাজের সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। তাঁদের মতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল মন্ত্র হল, এমন একটি নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে বড় কোম্পানীগুলো দায়িত্বশীল থাকবে ছোট উদ্ভাবকদের প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক উন্নতির অর্থ কেবল জাতীয় কিংবা মাথাপিছু উৎপাদনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি নয়, এই উন্নয়ন সমাজের সমস্ত শ্রেণির মানুষের জন্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং পুনর্দক্ষতা সুনিশ্চিত করবে।
অ্যাঘিয়ন ও হাউইট 'সৃজনশীল বিনাশ' প্রক্রিয়াটিকে একটি তাত্ত্বিক রূপ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের গবেষণা দেখিয়েছে, মাথাপিছু উৎপাদনের নিরবিচ্ছিন্ন বৃদ্ধি একমাত্র নতুন নতুন প্রযুক্তির বিকাশের মধ্যে দিয়েই সম্ভব। কোন অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা দুর হয়ে আর্থিক বৃদ্ধি স্থায়ী হবে, কীভাবে সমাজে পরস্পরবিরোধী স্বার্থের সংঘাতকে জয় করা যাবে এবং কেন উদ্ভাবন 'বৃদ্ধি প্রক্রিয়া'কে টেকসই করে তুলবে, সবকিছুর ব্যাখ্যা এই অর্থনীতিবিদের গবেষণায় ধরা পড়েছে। সৃজনশীল বিনাশ তত্ত্বের নয়া বিশ্লেষণ জানাচ্ছে, আর্থিক নীতিপ্রণেতাদের অনেক বেশি সংবেদনশীল হতে হবে, একদিকে উদ্ভাবনে বিনিয়োগের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ দিতে হবে, অন্যদিকে যারা প্রতিযোগিতার সাথে মেলাতে পারছে না তাদের জন্য আবশ্যিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এঁদের তত্ত্বে দেখানো হয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে এবং কখন বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কোথায় ভর্তুকি দিতে হবে, কাজ হারানো মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নীতি এবং সাথে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের মূল চাবিকাঠিটি কোথায়।
ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশে এই গবেষণার প্রভাব
নোবেল পুরস্কারবিজয়ী তিন অর্থনীতিবিদের গবেষণার মূল বক্তব্য হল, অর্থনীতির আসল শক্তি হল প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়ন, যেটা মানুষের মেধা এবং উদ্ভাবন ক্ষমতার যৌথ প্রয়োগে ঘটে থাকে। আর উদ্ভাবনের মূল কথা হল ঝুঁকি। সব উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা হয়তো সাফল্য আনতে পারবে না, কিন্তু থেমে গেলে চলবে না। জগৎ যে গতিতে এগোচ্ছে তার সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞান ও গবেষণা, উৎপাদন কৌশল এবং জীবনযাত্রার মানে বদল আনতে না পারলে মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। তাই যে দেশ বা সমাজ ঝুঁকি নিতে ভয় পায়না, ভুল করতে ভয় পায়না, ভুল থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে দৃপ্ত পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে, মানুষ অনেক বেশি বহির্মুখী হয়, পরিবর্তনকে সাদরে গ্রহণ করে, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগে কার্পণ্য করেনা, সেই সমাজেই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে 'নলেজ ডাজ নট গ্রো ইন ফিয়ার', অর্থাৎ উন্নয়নের মূল কথা হল প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, ভুল করার স্বাধীনতা আর অবশ্যই জ্ঞান ও সৃজনশীল উন্নয়নের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য।
ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে এই গবেষণা যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই তিন অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় নিরন্তর প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নে ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের (স্টার্ট আপ) ভূমিকার গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। বলাই বাহুল্য, এইসব ছোট উদ্যোক্তাদের বাজারে টিকে থাকতে বহু বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। একদিকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অসম প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে সরকারি আইনের মারপ্যাঁচ তাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের মতো দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন জরুরি, 'থিওরি-বেসড' সিলেবাস থেকে বেরিয়ে 'স্কিল-বেসড' পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন খুব দরকার। শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সংযোগ সেতু শক্তপোক্ত করতে হবে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, পরিশেষে জ্ঞানের নিরন্তর বিকাশের মধ্যে দিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনার উন্মেষ ঘটাতে হবে। এই সবকিছু একযোগে ঘটলে তবেই আগামীদিনে ভারতের অর্থনৈতিক নবজাগরণ বাস্তবায়িত হতে পারবে।