আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ বিংশ সংখ্যা ● ১৬-৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ● ১-১৫ কার্তিক, ১৪৩২
প্রবন্ধ
শিশুরা যখন যুদ্ধের বাজি
গৌতম সরকার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রায় ২ লক্ষ পোলিশ শিশু এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের অসংখ্য শিশুকে অপহরণ করে নাৎসি জার্মানিতে পাঠানো হয়েছিল। নাৎসি জার্মানি, যেটি 'জার্মান রাইখ' বা পরবর্তীতে 'গ্রেটার জার্মান রাইখ' নামে পরিচিত, ১৯৩৩-৪৫ সময়কালে জার্মানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক রাজ্য ছিল। এইসময় অঞ্চলটিতে অ্যাডল্ফ হিটলার এবং তাঁর নাৎসি পার্টি 'সর্বগ্রাসী একনায়কতন্ত্র শাসন' চালু করেছিল। এইসব শিশুদের অপহরণের মূল কারণ ছিল তিনটি - এক, সস্তায় শ্রমিকের যোগান; দুই, ডাক্তারি গবেষণার জন্য গিনিপিগ সরবরাহ, আর তিন, জার্মানি নাগরিকত্ব গ্রহণে বাধ্যকরা। সম্প্রতি ঠিক এরকমই আরেকটি শিশু অপহরণের ঘটনা চর্চায় এসেছে সেটি হল রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণ। অনেকের মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় শিশু অপহরণের ঘটনা। নাৎসিদের হাতে পোলিশ শিশুদের জার্মানিকরণের সাথে এখনকার ইউক্রেনীয় শিশুদের রুশিফিকেশনের তুলনা টানা হচ্ছে।
শিশু অপহরণের পর্ব রাশিয়া ২০১৪ সাল থেকে শুরু করেছে, ২০২২ সালের পর সেটি ধারে ও ভারে বেড়েছে। হাজার হাজার ইউক্রেনীয় অধিবাসীদের জোরপূর্বক স্থানচ্যুত এবং নির্বাসিত করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় শিশু আছে। ইউক্রেনের সরকারি হিসেব জানাচ্ছে ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া ১৯,৫৪৬ জন ইউক্রেনীয় শিশুকে অপহরণ করে রাশিয়া অধিকৃত অঞ্চল এবং রাশিয়ার বিভিন্ন অংশে আটকে রেখেছে। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত মাত্র ১,৩৪৫ জন শিশু নিজ দেশে ফিরতে পেরেছে। ২ জুন দুই দেশের যুদ্ধবিরতির অসমাপ্ত আলোচনায় ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা রাশিয়ার প্রতিনিধিদের হাতে কয়েক হাজার শিশুর নামের তালিকা তুলে দেয় এবং অবিলম্বে সেইসব শিশুদের ইউক্রেনে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। তাঁদের মতে এই শিশু ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়েই রাশিয়াকে পরীক্ষা দিতে হবে যে তারা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সবসময় অপহরণের ঘটনাটি জোরপূর্বক ঘটেছে তা নয়, কখনও কখনও বাবা-মাকে ভুল বুঝিয়েও বহু শিশুকে রাশিয়া নিজেদের দেশে নিয়ে গিয়ে তুলেছে। গ্রীষ্মবকাশ ক্যাম্প, ওরিয়েন্টেশান প্রোগ্রাম বা রিক্রিয়েশন সেন্টারের নাম করে নিয়ে যাওয়া এইসব শিশুরা রাশিয়ায় পৌঁছে আর ফিরে আসেনি। দিশাহারা বাবা-মা নিজেদের সন্তানের খোঁজে সেই দেশে ছুটে যাচ্ছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। রাশিয়া বা রুশ অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে তাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় অযথা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করা হচ্ছে। তবু শত বাধাবিপত্তি পেরিয়ে কেউ কেউ সফল হচ্ছেন। এরকম এক সফলতার গল্প শোনা গেল 'দ্য গার্ডিয়ান'কে দেওয়া এক মায়ের সাক্ষাৎকারে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তের খেরসন শহরের বাসিন্দা নাতালিয়া তাঁর বন্ধুর পরামর্শে নিজের দুই ছেলেকে রাশিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী শহর আনাপা'র এক শিশুশিবিরে পাঠানোর সম্মতি দেন। ২১ দিনের সেই শিবির শেষ হওয়ার পর নাতালিয়ার ছেলেদের কোনও খোঁজ পাননা। এরমধ্যে রাশিয়া খেরসন অধিকার করে নিলে ফ্রন্টলাইনের অন্যপারে বহু শিশুর সাথে নাতালিয়ার সন্তানেরাও আটকে পড়ে। এর পর বহু কাঠখড় পুড়িয়ে সেই ক্যাম্পের সাথে যোগাযোগ করতে পারলে তারা জানায়, নাতালিয়ার সশরীরী উপস্থিতি ছাড়া ছেলেদের ছাড়বেনা। তারপরই শুরু হয় এক মায়ের সন্তান উদ্ধারের একক যাত্রা। বহু জায়গায় ঠেকে, মাথার উপর যুদ্ধজাহাজ, মিসাইল, ক্ষেপণাস্ত্রর আক্রমণের ভয় জয় করে, সেনাদের ভ্রুকুটি এবং সীমাহীন অসহযোগিতা পেরিয়ে কৃষ্ণসাগরের উত্তর উপকূলে আনাপা শহরে পৌঁছান নাতালিয়া। অবশেষে ২০২৩-এর ফেব্রুয়ারি মাসে দুই ছেলেকে নিজের দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। তবে এ এক বিচ্ছিন্ন গল্প, হেরে যাওয়ার গল্প অনেক বেশি, তাই আজও প্রায় বিশ হাজার (বেসরকারি মতে ৩৫,০০০) শিশুকে রাশিয়ায় বিভিন্ন শহরে আটকে রাখা হয়েছে। এইসব শিশুরা ভীষণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে শৈশব নষ্ট করে রাশিয়া প্রশাসনের নির্দেশে এই সমস্ত শিশুদের সামরিক ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে যাতে বড় হয়ে তারা দক্ষ সৈনিক হয়ে নিজের দেশ ও নিজের জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। অন্যদের স্থান হয়েছে সরকারি ক্যাম্পে আর কিছু বাচ্চাকে রুশ পরিবারগুলো আইনমাফিক দত্তক নিয়ে নিয়েছে।
ইয়েল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক যারা এইসমস্ত অপহৃত বাচ্চাদের খুঁজে বের করতে সাহায্য করে, তাঁদের মতে এই পরিকল্পিত অপহরণ যুদ্ধাপরাধের সমতুল এবং মানবতার বিরুদ্ধে অমার্জনীয় অপরাধ। মস্কোর পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন ধরে একটা 'পরিকল্পিত প্রচারণা'র মাধ্যমে ইউক্রেন থেকে শিশুদের অপহরণের পর তাদের সমস্ত পরিচয় মুছে দেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে। তার জন্য বাচ্চাগুলোকে রুশ ভাষা শেখানো হচ্ছে, নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, এমনকি জন্ম শংসাপত্র পর্যন্ত বদলে দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপের 'অর্গানাইজেশন ফর সিকিওরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন'-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাশিয়ান সরকার দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত আইনের সংশোধন নিজেদের নাগরিকদের অনুকূলে এমনভাবে করেছে যাতে করে ভবিষ্যতে প্রকৃত বাবা-মা এইসব শিশুদের উপর আইনসম্মত কোনও দাবি করতে পারবেন না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'ইয়েল স্কুল অফ পাবলিক হেলথ'-এর হিউম্যানিটেরিয়ান রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষকরা জানাচ্ছেন, রাশিয়ার তরফে এইসব শিশুদের পুনর্শিক্ষা দেওয়ার মধ্যে নিয়ে সমস্ত রকমের ইউক্রেনীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরম্পরা সুচারুভাবে মুছে ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছে। এইসমস্ত হতভাগ্য শিশু তাদের দুর্লভ শৈশব হারিয়ে মিলিটারি শাসনে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে। মাতৃভাষায় কথা বললে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। জোর করে রাশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করা হচ্ছে, সেদেশের জাতীয় পতাকা আঁকতে হচ্ছে। অন্যথা হলেই কঠোর শাস্তি। বহু সংস্থা এই বাচ্চাদের উদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। ইউক্রেনীয় সরকার এই ব্যাপারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, 'চাইল্ড রাইটস প্রোটেকশন সেন্টার', 'ব্রিং কিডস ব্যাক ইউ.এ. প্রোগ্রাম' ইত্যাদি। এই উদ্যোগগুলো গুটিকয় যে শিশুদের ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছে সেটা মোট অপহৃত শিশুদের তুলনায় খুবই নগণ্য। 'ব্রিং কিডস ব্যাক'-এর হিসাবে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১,৩৬৬টি শিশু ইউক্রেনে ফিরে আসতে বা পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ দলের মতে অপহৃত শিশুদের সংখ্যাটা মোটেই ১৯,৫৪৬ নয়, ২০২২ সাল থেকে অপহৃত হওয়া প্রায় ৩৫,০০০ শিশু রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আটকে আছে।
'ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও'র পক্ষে লেবানিজ-আমেরিকান জার্নালিস্ট লায়লা ফাদেল উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের সাথে কথা বলে তাদের বন্দী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন। সতেরো বছরের সেনিয়া কোল্ডিন জানিয়েছে, সেখানে তাদের জোর করে রাশিয়ান ভাষা শেখানো হচ্ছিল, মাতৃভাষায় কথা বললে শাস্তি দেওয়া হতো। তাঁকে এক রাশিয়ান পরিবারের সাথে রাখা হয়েছিল এবং স্থানীয় এক স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। যে পরিবারে সে ছিল, তারা তাকে সর্বদা বলত, ইউক্রেনের ধ্বংস অনিবার্য, আগামীদিনে ইউক্রেন বলে কোনও দেশই থাকবে না। সেখানে কেউ তার জন্য অপেক্ষা করবে না। তাই সেদেশের কথা ভুলে যাওয়াই ভালো। আঠারো বছরের রস্তিস্লাভ ল্যাভরভের অভিজ্ঞতাও আলাদা কিছু নয়। স্মৃতিচারণে লাভরভ বলেছে, যুদ্ধ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তার দিদিমার মৃত্যু হয়, এরপর তার মা'কে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার নামে রাশিয়ান মিলিটারিরা নিয়ে যায়, তারপর থেকে লাভরভ একা বাস করতে থাকে। পরে রাশিয়ান সৈন্যরা তাকেও ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় নিয়ে আসে। নিজের বন্দিদশার কথা বলতে গিয়ে লাভরভ জানিয়েছে প্রতিদিন সকালে তাকে রাশিয়ান জাতীয় সঙ্গীত শুনতে বাধ্য করা হত, রুশ ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষার প্রয়োগ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। তাকেও জোর করে রাশিয়ান স্কুলে ভর্তি করে, নিজের সংস্কৃতি ভুলে রাশিয়ান কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। রাশিয়ান জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকার করায় তাকে একটা ৬-বাই-৬ ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই দুই কিশোরকে 'সেভ ইউক্রেন' সংস্থা উদ্ধার করে নিজ দেশে ফিরে আসতে সাহায্য করে। ঘরে ফিরে কোল্ডিন তার ১২ বছরের ভাইকে পেয়ে খুব আনন্দিত, আর লাভরভ চায় তার মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসুক। এর সমাধান 'সেভ ইউক্রেন' কিভাবে করবে জানা নেই।
এই অপহরণ সমস্যা আজও জাজ্জ্বল্যমান। ২০১৪ সাল থেকে ক্রিমিয়া এবং ডনবাস-এ শিশু অপহরণের ঘটনা শুরু হলেও বিষয়টি স্বীকৃতি পেয়েছে ২০২২ সালের পর যখন বেআইনি অপহরণের সংখ্যাটি মাত্রাছাড়া হয়ে ওঠে। ২০২২ সালের ১ জুলাই 'গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন' ইউক্রেনীয় সরকারের পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক আন্তর্দেশীয় দত্তক গ্রহণ আইনের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। এই আইনের বলে প্রতিপালক রাশিয়ান বাবা-মা দত্তক নেওয়া বাচ্চাটির নাম, পদবী, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান সবকিছুই পরিবর্তন করতে পারবেন। ২০২৩ সালের মার্চের শুরুতে ৪৩টি এনজিও একটি আবেদনপত্রে দস্তখত করে এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট একটা রেজোলিউশন গ্রহণ করে যেখানে বলা হয় রাশিয়াকে অবিলম্বে ইউক্রেন থেকে শিশু অপহরণের অমানবিক প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। এছাড়া এই রেজোলিউশনে রাশিয়ান কোর্টের তরফে নেওয়া দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত সমস্ত নয়া আইন বাতিল করে সমস্ত শিশুদের বর্তমান অবস্থান অতি সত্ত্বর জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ১ জুন, আন্তর্জাতিক শিশু দিবসে, ২৩টি বিদেশী কূটনৈতিক মিশন ইউক্রেনের সাথে একযোগে এক যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়ার শিশুহরণের ঘটনাকে 'বেআইনি এবং বর্বরোচিত' বলে নিন্দা প্রস্তাব আনে।
এতৎসত্ত্বেও শিশু অপহরণের ঘটনা বন্ধ হয়নি এবং হাজার হাজার শিশু এখনও রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আটকে আছে। জোর করে নিয়ে যাওয়া শিশুদের ফিরিয়ে দিতে রাশিয়া অসম্মতি জানিয়েছে। চলতি বছর জুন মাসে তুরস্কের যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা এই শিশুদের প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে ওঠে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এক রুশ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইউক্রেন হারিয়ে যাওয়া শিশুদের নিয়ে নাটক করছে। ভুললে চলবে না, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং শিশু অধিকার কমিশনার মারিয়া লভোভা-কেলোভার বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় শিশুদের বেআইনি নির্বাসনের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গত মাসে ওয়াশিংটনে নরেন্দ্র মোদি ও ইউরোপের একাধিক নেতার বৈঠকে আগামীদিনে রাশিয়া, আমেরিকা, ইউক্রেনের এক ত্রিদেশীয় বৈঠকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই শান্তি আলোচনার প্রধান দাবি থাকবে আটকে থাকা শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলো ফিরিয়ে দিতে পুতিন কতটা সম্মত হবে সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন, তবে শিশু ও অন্যান্য যুদ্ধবন্দীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির শিশুদের ব্যাপারে তদন্ত করা দলের প্রধান নাথানিয়েল রেমন্ড আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এখন যুদ্ধবিরতির দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে এই শিশুদের ব্যবহার করা হতে পারে। তাঁর মতে, যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়া ভেবেছিল খুব সহজেই এবং দ্রুত জয় এসে যাবে, তখন তাঁদের পরিকল্পনায় এই অপহরণ শিশুদের ব্যবহার বা দখলে রাখার জন্যে ছিলনা, বরঞ্চ তারা যত বেশি সম্ভব ইউক্রেনবাসীকে রাশিয়ান নাগরিক বানিয়ে তুলতে চেয়েছিল। যুদ্ধের পরিস্থিতি পাল্টে যেতে রাশিয়া 'প্ল্যান এ' ছেড়ে 'প্ল্যান বি'তে চলে গেছে। তারা এখন শিশুদের জিম্মাদার করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সুবিধা আদায়ের সন্ধানে আছে। তাই ট্রাম্প যতই আশ্বাস দিক, যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কিন্তু 'অ্যাডভান্টেজ রাশিয়া'।
চিত্র: অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।