আরেক রকম ● ত্রয়োদশ বর্ষ পঞ্চদশ সংখ্যা ● ১-১৫ আগস্ট, ২০২৫ ● ১৬-৩১ শ্রাবণ, ১৪৩২

প্রবন্ধ

ভারতে আয়ের বৈষম্য কমেছে?

গৌতম সরকার


কোনও দেশে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাম্য পরিলক্ষিত হয়, কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেই অসাম্য চরম রূপ ধারণ করে। আয়, ব্যয়, সম্পদ বণ্টন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিক পরিষেবা ইত্যাদি বিষয়গুলিতে যে অসাম্য লক্ষ্য করা যায় তা পরিমাপের জন্য একটি সূচক ব্যবহার করা হয়, আবিষ্কর্তা ইতালীয় পরিসংখ্যানবিদ কোরাদো জিনির নামানুসারে এর নামকরণ হয়েছে জিনি সূচক। এই সূচকের মান শূন্য থেকে একের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। অসাম্য যত বাড়তে থাকে ততই সূচকের মান শূন্য ছেড়ে একের দিকে ধাবিত হয়। প্রধানতম দুটি জিনি সূচক হল - আয় বৈষম্য সূচক এবং ব্যয় বৈষম্য সূচক। অর্থনীতিতে আয় বা উপার্জনের অসমতার সূচক সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ব্যক্তি বা পরিবারের আয়ের তথ্য ব্যবহার করে দেশের ধনী দরিদ্রের আয়ের ব্যবধান বোঝাতে এই সূচক ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে খরচ বা ব্যয়ের জিনি সূচক পরিবারের ব্যয় বা খরচের উপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়। ব্যয় বৈষম্য জিনি সূচকের মান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আয় বৈষম্য সূচকের তুলনায় কম হয়, কারণ একটি সমাজে আয়ের থেকে ব্যয় অনেক বেশি সমানভাবে বন্টিত হয়। কিছু কিছু গবেষক মনে করেন, ব্যয়ের জিনি সূচক জীবনযাত্রার মান এবং বৈষম্য বোঝাতে অনেক বেশি কার্যকর।

সম্প্রতি দুটি খবর বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। প্রথমটি হল, জাপানকে টপকে ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থব্যবস্থা; আর দ্বিতীয়টা, আয় বণ্টনের সমতার ভিত্তিতে ভারত এই মুহূর্তে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। দুটি তথ্যতেই গণ্ডগোল আছে, প্রথমটিতে হয়েছে ভাবের ঘরে চুরি আর দ্বিতীয়টার জন্য দায়ী সরকার ও প্রেসের তরফে ভুল ব্যাখ্যা।

কেন্দ্রীয় সরকার পোষিত 'নীতি আয়োগ' দাবি করেছে, মোট দেশজ উৎপাদনের নিরিখে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শেষ অনুমান অনুযায়ী ভারত জাপানকে স্বল্প ব্যবধানে (৫৮৬ মিলিয়ন ডলার বা ০.০১৪ শতাংশ) টপকে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থব্যবস্থার শিরোপা পেয়েছে। বিষয়টি শুনতে ভালো লাগলেও সরকারি তরফে খুব হিসেব করে এই 'চতুর্থ' সংখ্যাটি জনগণের মাথার মধ্যে গেঁথে দিয়ে একদিকে নিজেদের সাফল্যের মেকি প্রচার চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের জনগণের আর্থিক পরিস্থিতির আসল ছবিটি লুকিয়ে রাখতে চাইছে।

অর্থনীতি শাস্ত্রে জিডিপির হিসেব দিয়ে দেশের মোট উৎপাদনের একটা ছবি ফুটে উঠলেও মানুষের কল্যাণ বোঝাতে মাথাপিছু জিডিপিকে মাপকাঠি ধরা হয়। যদিও মাথাপিছু জিডিপিরও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, তবে এটি মোট জিডিপির তুলনায় অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পরিবেশন করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ভুললে চলবে না ২০২৫ সালে ভারতের জনসংখ্যা হবে ১.৪৬ বিলিয়ন, সেখানে জাপানের জনসংখ্যা মাত্র ০.১২৩ বিলিয়ন। সুতরাং পাটিগণিতের সহজ হিসেব বলছে, একজন জাপানীর গড় আয় একজন ভারতবাসীর আয়ের ১২ গুণ বেশি। এই ব্যবধান ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রকাশিত মাথাপিছু আয়ের সারণিতেও পরিলক্ষিত হবে, সেখানে ভারতের র‌্যাঙ্কিং ১৪০তম এবং জাপানের ৩৪তম।

এবার আসা যাক, আয় বৈষম্যের হিসেবে। কীভাবে আমাদের দেশে এক ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর হাতে মোট আয় কেন্দ্রীভূত হয়ে উঠছে সেটি এই তথ্যে ফুটে ওঠে। জাপানে শীর্ষ আয়বিশিষ্ট ১ শতাংশ মানুষ জাতীয় আয়ের ৮.৪৪ শতাংশের দাবিদার, ভারতের ক্ষেত্রে সেই হিসাবটি হল ২২.৬ শতাংশ। অন্যদিকে জাপানের নিচের তলার ৫০ শতাংশ মানুষ যখন ২০ শতাংশ জাতীয় আয় ভোগ করে, ভারতের ক্ষেত্রে সেটা ১৫ শতাংশ। কাজের বাজারও জাপানে অনেক উন্নত। ভারতে কর্মক্ষেত্রে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার ৫৬ শতাংশ, জাপানে ৬৩ শতাংশেরও বেশি। জিএসটি রূপায়ণের পদ্ধতিগত ত্রুটি, জোরপূর্বক ডিজিটালীকরণ ইত্যাদি সংস্কারের চাপে কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী, মাইক্রো উদ্যোগগুলি সেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। উল্টে সরকার মূলধন-নির্ভর পরিকাঠামো প্রকল্পে বেশি বেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে বেকারত্বের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলছে। এছাড়া একই সাথে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নের খাতে বাৎসরিক বাজেটে বরাদ্দ কমছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার সবক্ষেত্রেই জাপান ভারতের চেয়ে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। লিঙ্গ বৈষম্য এবং শিক্ষিত বেকারের হিসেবেও ভারত জাপানকে অঙ্কের হিসেবে পিছনে ফেলে অনেক এগিয়ে। তাই শুধুমাত্র আইএমএফ-এর অনুমানভিত্তিক ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির ঢাক বাজালে তার থেকে ফাঁপা আওয়াজই বেরোবে। ভুললে চলবে না জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে যেমন কাজ করার জন্য দুটো অতিরিক্ত হাতের সৃষ্টি হয় তেমনি খাবার জন্য একটা মুখও তৈরি হয়। তাই মোট উৎপাদন বাড়লেই একটা দেশের সমৃদ্ধি ঘটে না, সেটা একটা বাচ্চাও বুঝতে শিখেছে।

এবার আসা যাক দ্বিতীয় দাবিতে-নীতি আয়োগের দাবি, আয়ের সমতার ভিত্তিতে ভারত নাকি বিশ্বে চতুর্থ। এটি সর্বৈবভাবে এক মিথ্যা দাবি। বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কারণ তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে ২১৬টি দেশের মধ্যে আয় বৈষম্যের নিরিখে ভারতের স্থান ছিল ১৭৬; অর্থাৎ ভারতের তুলনায় ১৭৫টি দেশের আয়ের বৈষম্য ছিল কম, মাত্র ৪০টি দেশ আয় বৈষম্যের নিরিখে ভারতের চেয়ে অসমান ছিল। এখন এই পাঁচ বছরের মধ্যে কোনও আলাদিনের দৈত্যের পক্ষেও এই বিস্তর ব্যবধান কমানো সম্ভব নয়, সেখানে নরেন্দ্র মোদি সরকার কী করে করলেন? তাহলে গণ্ডগোলটা কোথায়?

সমস্যার শুরু হয়েছে ভুল বোঝাবুঝি থেকে। ভুল জেনেশুনে করা হয়েছে কিনা সেই বিতর্কে ঢোকা এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়। ভুলটি হল, বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে ভারতের 'ভোগ ভিত্তিক জিনি সূচক'-এর মান ২০১১-১২ সালে ছিল ২৮.৮ শতাংশ, সেই মান উন্নীত হয়ে ২০২২-২৩ সালে হয়েছে ২৫.৫ শতাংশ। অর্থাৎ ভোগের মাপকাঠিতে বৈষম্য কিছুটা হলেও কমেছে। ইতিমধ্যে 'প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো' ভারতের এই ভোগ ব্যয় ভিত্তিক সূচক অন্যান্য দেশের আয় সূচকের সঙ্গে একই সারণিতে রেখে তুলনামূলক আলোচনায় ভারতকে চতুর্থ সমান অর্থনীতি বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, আয় ও ভোগব্যয় বৈষম্য কখনোই তুলনীয় নয়, এ কতকটা আমের সাথে আমলকির তুলনার মতো। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশের তুলনায় ভারতে আয়ের বৈষম্য অনেক বেশি প্রকট। ‘ওয়ার্ল্ড ইনইকোয়ালিটি ডেটাবেস’-এর মতে, ২০০৪ সালে ভারতের আয় বা উপার্জন অসমতার জিনি সূচকের মান ছিল ৫২ শতাংশ, ২০২৩ সালে সেটি বেড়ে হয় ৬২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ উপার্জন সম্পন্ন ১০ শতাংশ মানুষের গড় আয় ছিল সর্বনিম্ন উপার্জন সম্পন্ন ১০ শতাংশ মানুষের গড় আয়ের ১৩ গুণ। বিশ্ব ব্যাংকের হিসেব বলছে, আয় বৈষম্যের নিরিখে ২০০৯ সালে ভারতের স্থান ছিল ১১৫তম, ২০১৯ সালে বেড়ে হয় ১৭৬তম। এমনকি সম্পদ বণ্টনের হিসেবও একইরকম অসাম্যের ইঙ্গিত দেয়। ২০১৯ সালে সম্পদ বণ্টন অসাম্যের জিনি সূচক ছিল ৭৪, যেটি বেড়ে ২০২৩ সালে হয়েছিল ৭৫। এই পরিপ্রেক্ষিতে আয়ের সমতার ভিত্তিতে ভারতের চতুর্থ স্থান অধিকারের খবরটি ক্রমশ হাস্যকর হয়ে উঠেছে।

শুধু তাই নয়, ভোগ ব্যয় জিনি সূচক নির্ধারণেও প্রচুর গলদ আছে। বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে, ভারতের ভোগ ব্যয় সংক্রান্ত সমীক্ষাগুলির মধ্যে কোনও সামঞ্জস্য নেই। একেকটি সমীক্ষায় একেক রকম মাপন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, স্যাম্পল নির্বাচনেও কোনও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি, ফলত একাধিক সীমাবদ্ধতায় আক্রান্ত ডেটা ব্যবহার করে যে জিনি সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে সেটিতে ভোগের বৈষম্য কতটা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে সেটি নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। এছাড়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব, ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির চিরন্তন সমস্যা। কারণ হিসেবে বলা যায়, এক, এই সমস্ত দেশের অনেক পরিষেবা আসে অসংগঠিত ক্ষেত্রে থেকে যেসব ক্ষেত্রের আয়-ব্যয়ের হিসাব সরকারি খাতায় থাকে না। দুই, বিভিন্ন শেয়ার ব্যবসা এবং অন্যান্য বিনিয়োগ ক্ষেত্র থেকে বিপুল পরিমাণ মুনাফা এক শ্রেণির পুঁজিবাদী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাচ্ছে যার কোনও সঠিক হিসেব নেই। ধনী দেশগুলিতে আয়ের বৈষম্য নির্ধারণ করতে আয় ভিত্তিক সমীক্ষা চালানো হয়, অন্যদিকে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য নিরূপণে প্রধানত ভোগ ব্যয় সমীক্ষা চালানো হয়। যেকোনও দেশের আয় বৈষম্যের তুলনায় ভোগ বৈষম্যের সূচক সবসময় কম হয়। এর প্রথম কারণ হল, ধনী লোকেরা সঞ্চয় বেশি করে, তাদের প্রান্তিক ভোগ প্রবণতা কম থাকার দরুন ভোগ বাবদ ব্যয় মোট আয়ের নিরিখে তুলনামূলক ভাবে কম হয়। এছাড়া ধনীরা দেশে ও বিদেশের ব্যাংকে সঞ্চয় করে, মূলধনী বাজারে বিনিয়োগ থেকে প্রচুর মুনাফা লাভ করে, এইসব অতিরিক্ত আয়ের কারণে আয় বৈষম্য অনেক বেশি হয়। ভোগ বৈষম্য কম হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হল, গরীব দেশগুলিতে বিনামূল্যে বা স্বল্প মূল্যে রেশন সরবরাহ, এছাড়া বিভিন্ন ধরণের আর্থিক সহায়তা, পেনশন, বেকারভাতা ইত্যাদি দেওয়ার কারণে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দরিদ্র মানুষদের ভোগ কমেনা। তাই যতই ভোগ বৈষম্য সূচকের মান কমুক, সেই তথ্যকে সামনে রেখে সরকার যদি নিজের পিঠ নিজে চাপড়ায়, সেটা মানুষের বিভ্রান্তি বাড়িয়ে তুলবে।

মনে রাখতে হবে, তথ্য প্রযুক্তির এই দুনিয়ায় সব খবর খুব সহজেই সর্বস্তরের মানুষের হাতে চলে আসে। তাই ভাবের ঘরে চুরি ছেড়ে সরকারকে আসল সত্যের মুখোমুখি হতে হবে। টমাস পিকেটি, লুকাস চ্যান্সেল, আনমোল সোমাঞ্চি, নীতিন কুমারের 'ইনকাম অ্যান্ড ইনইকোয়ালিটি অফ ইন্ডিয়া, ১৯২২-২৩: দ্য রাইজ অফ বিলিয়নিয়ার রাজ', শীর্ষক গবেষণালব্ধ ফল জানাচ্ছে, স্বাধীনতা লাভের পর থেকে আটের দশকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত দেশে অসাম্যের মাত্রা কম ছিল, কিন্তু তারপর ক্রমশ বাড়তে থাকে। ২০১৫ সাল থেকে ভারতে হাতেগোনা যে কয়েকটি সংস্থার সম্পদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সেগুলি হল, আদানি, টাটা, আদিত্য বিড়লা, জিন্দাল, আম্বানি এবং ভারতী টেলিকম। ২০০০ সালে আদানি গোষ্ঠীর মাত্র ৫টি ব্যবসা ছিল, ২০২০ সালে বেড়ে হয়েছে ৩৮টি; একই সময়কালে টাটার ব্যবসা বৃদ্ধি পায় ৪৩ থেকে ৬৯টি ক্ষেত্রে, জিন্দালের বেড়েছে ৯টি থেকে ৩৭টি, আর বিড়লার ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৪টি থেকে ৬৫টি ক্ষেত্রে। এতে করে দেশজুড়ে একচেটিয়া কারবারের রমরমার সাথে সাথে দেশীয় সম্পত্তির কেন্দ্রীভবন ঘটে চলেছে। যে দেশের ১৪৫ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ২ কোটি মানুষ সরকারকে আয়কর দেয়, সেদেশে আয়ের বৈষম্যের বিষয়ে সংশয়ের কোনও অবকাশ থাকেনা।

পরিশেষে এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে, দেশে সার্বিকভাবে বৈষম্য বেড়ে চলেছে। সুতরাং ভোগব্যয়ের জিনি সূচকের কুমির ছানা দেখিয়ে আয়ের সমতার গল্প শুনিয়ে সরকার জনগণকে বেশিদিন বোকা বানিয়ে রাখতে পারবে না। এভাবে বিভ্রান্তি বাড়ালে আখেরে সরকার জনগণের বিশ্বাস হারাবে। এটা তারা যত তাড়াতাড়ি বুঝবে ততই মঙ্গল।